Friday, July 1, 2022
Home Blog

‘কথায় কথায় দৌড়ে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না’|

‘কথায় কথায় দৌড়ে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না’June 30th, 3:53amJune 30th, 3:53amfacethepeopleজাতীয়প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রত্যেককে তার নিজ নিজ জায়গায় থেকে যতটুকু সম্ভব কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে। নিজস্ব সঞ্চয় বাড়াতে হবে। মিতব্যয়ী হতে হবে।’বুধবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।সবাইকে ৩টি বিষয়ের ওপর গুরত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত পর্যায়ে সঞ্চয় বাড়ানোর মাধ্যমে জাতীয় সঞ্চয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, তথা অপচয় কমাতে হবে। বিলাস দ্রব্য পরিহার করে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনায় মনোযোগ দিতে হবে।’দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে দেশি পণ্য ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে। কথায় কথায় দৌড়ে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না। দেশে ভালো চিকিৎসা হবে। শত বাধা ও চাপের মুখে পড়লেও আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। অনেক প্রতিকূল অবস্থায় আমাদের এগুতে হচ্ছে। যেখানে উন্নত দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে আমরা আমাদের অর্থনীতির উন্নয়ন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করি।’তিনি আরও বলেন, ‘দেশে-বিদেশে বাইরে সব জায়গায় তো বাধা পেতে হয়। এত বাধা অতিক্রম করেও আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। এর কারণ আমাদের দেশের মানুষের আলাদা একটি শক্তি আছে। সেটা যদি তারা বুঝতে পারে। অনুধাবন করতে পারে, তখন শক্তিটা বোঝা যায়। পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে যেটা প্রযোজ্য হয়েছে।’আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির চাপ জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার ও বিদ্যুত খাতে সরকারের যে ঘাটতি হবে তা আমরা মূল্য বাড়িয়ে ভোক্তা পর্যায়ে শতভাগ চাপিয়ে দেব না। ফলে আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি ব্যয় বাড়বে। সে কারণে কার্যকর ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তুকি ব্যয় সহনশীল মাত্রায় রাখা এবং আমদানির ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব।’‘কোভিড-১৯-এর আরেকটি ঢেউ এসেছে। চতুর্থ ঢেউ। করোনাভাইরাস আমরা সাহসের সাথে মোকাবিলা করেছি। পাওয়ার যোগ্য সবাইকে টিকা দিয়েছি। জীবন-জীবিকার সুরক্ষায় যতটুকু দেওয়ার, তার সবটুকুই আমরা দিতে সক্ষম হয়েছি। করোনা নতুনভাবে আবার দেখা দিয়েছে। সবাইকে বলবো স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে। করোনা মোকাবিলায় আমরা যে সাফল্য এনেছি সেটা ধরে রাখতে হবে।’করোনাটা যখন কমে গেছে আমাদের আমদানি বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই আমদানি নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। আমরা বেশিরভাগই ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি করেছি। এগুলো স্থাপন ও চালু হলে দেশ লাভবান হবে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এটা করতে গিয়ে হয়তো আমাদের ডলারে কিছুটা টান পড়েছে কিন্তু সেটা এখনো আশঙ্কাজনক কোনো বিষয় নয়। মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার জন্য আমরা সব পদক্ষেপ নিয়েছি।’প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে তার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য টাকার মূল্যমান পুনঃনির্ধারণ করা হচ্ছে। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

হেলিকপ্টারে পদ্মা সেতু দর্শন

হেলিকপ্টারে পদ্মা সেতু দর্শন

শিশুতোষ সিনেমায় মিথিলা

সম্প্রতি বড় বর্দায় অভিষেক ঘটেছে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার। গত ১৭ই জুন প্রথমবারের মতো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় তার সিনেমা। এদিন বিরল এক রেকর্ডও গড়েন এই অভিনেত্রী। বড় পর্দায় অভিষেকের দিনেই দুই বাংলায় আলাদা দু’টি সিনেমা মুক্তি পায় তার। বাংলাদেশে ‘অমানুষ’, আর কলকাতায় ‘আয় খুকু আয়’। দু’টি সিনেমার জন্য দর্শকের কাছ থেকে প্রশংসা আর ভালোবাসাও পাচ্ছেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন সিনেমার খবর দিলেন মিথিলা। প্রথমবারের মতো একটি শিশুতোষ সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। শাহরিয়ার কবিরের লেখা ‘নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে এটি। ২০২০-২১ অর্থবছরে অনুদান পাওয়া সিনেমাটি পরিচালনা করছেন লুবনা শারমিন।

এতে আরও অভিনয় করছেন স্বপ্নিল, হিয়া, রাহিন, ইশরাত প্রমুখ। আগামী ২০শে জুলাই থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সিনেমাটির শুটিং শুরু হচ্ছে । যদিও এ সময় শুটিংয়ে অংশ নিতে পারছেন না মিথিলা। কারণ এই সময়টায় অফিসের কাজে তাঞ্জানিয়া, উগান্ডা আর সিয়েরা লিওনেও থাকতে হবে তাকে।  ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের হেড অব আরলি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামার হিসেবে এসব দেশের শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে কাজ করবেন তিনি। ফলে দেশে ফিরে অক্টোবরে সিনেমাটির শুটিং করবেন। এ প্রসঙ্গে মিথিলা বলেন, সিনেমাটির জন্য সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। তবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাকে উগান্ডা, তাঞ্জানিয়া আর সিয়েরালিওনে থাকতে হবে। যার কারণে এই সময় সিনেমাটির শুটিং করতে পারবো না। আমার অংশের কাজ হবে অক্টোবরের পরে। আমার সঙ্গে সেভাবেই তাদের কথা হয়েছে। সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর ভাষ্য, আমার জীবনের প্রায় পুরোটাই কাটছে বাচ্চাদের সঙ্গে। প্রায় একবছর ধরে লুবনা আপার সঙ্গে কথা বলছি সিনেমাটি নিয়ে। এরমধ্যেই অনুদানও পেলো। সবমিলিয়ে এটা আমার জন্য অনেক ভালোলাগার একটা প্রজেক্ট হতে চলেছে।

প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দিয়েছে ইউনূস সেন্টার

(২ ঘন্টা আগে) ২৯ জুন ২০২২, বুধবার, ৯:১৩ অপরাহ্ন

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিয়েছে ইউনূস সেন্টার। বুধবার সেন্টারের প্রশাসন প্রধান মো. জহীর উদ্দিনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (জুন ২০২২) নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কিছু গুরুতর  অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

এই অভিযোগগুলির অনেকগুলিই কয়েক বছর আগেও  করা হয়েছিল এবং আমরা তখন এগুলির জবাবও দিয়েছিলাম। যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একই অভিযোগ আবারও করছেন এবং এর সঙ্গে নতুন আরো অভিযোগ  যুক্ত করেছেন, সাংবাদিকবৃন্দ এবং অন্যরাও এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য জানতে চাচ্ছেন, তাই এগুলির জবাবও আবার দেয়ার প্রয়োজন হয়েছে  বলে আমাদের নিকট মনে হচ্ছে যাতে এর মাধ্যমে জনগণ প্রকৃত তথ্য জানতে পারেন। আমরা আমাদের বক্তব্য নীচে তুলে ধরলাম। 

 

অভিযোগ: গ্রামীণ ব্যাংক একটা ব্যাংক, তার যিনি এমডি তিনি হচ্ছেন ডক্টর ইউনূস। আইনমত তার ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এমডি থাকা যায়। বেআইনিভাবে সে ৭০ থেকে ৭১ বছর বয়স পর্যন্ত তার যখন বয়স তখন সে এমডি ছিল। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে নোটিশ দেয়। কিন্তু তাকে কোন অপমান করা হয়নি। আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব এবং উপদেষ্টা গওহর রিজভী সাহেব তাকে প্রস্তাব দেয় যে, আপনি গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা হয়ে যান। উপদেষ্টা ইমিরেটাস হিসেবে আপনাকে আমরা মর্যাদা দিব।

কিন্তু উনি ওই এমডিই উনাকে থাকতে হবে। এখন একজন এমডি ব্যাংকের, তারতো বাইরে গেলে জিও নিতে হয়, সে তো জিও নেয়নি কোনদিন। বরং আমরাও তাকে অনেক বেশী সুযোগ দিয়েছি ।
আমাদের জবাব: শুরুতেই পরিস্কার করা প্রয়োজন যে, গ্রামীণ ব্যাংক এমন একটি ব্যাংক যার ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এর ঋণগ্রহীতারা। একটি আলাদা আইনের মাধ্যমে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য সন্নিবেশ করে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো, ফলে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এর সাথে এর পার্থক্য আছে।
গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয় এর পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে একটি চুক্তির অধীনে। এই নিয়োগের জন্য কোনো বয়সসীমা আইনে বা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে উল্লেখ ছিলো না।
প্রফেসর ইউনূস ৬০ বছর বয়সে পদার্পণ করলে তিনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পরিচালনা পরিষদকে জানান যে, যেহেতু তাঁর বয়স ৬০ বছর হয়েছে তাঁরা একজন নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। পরিচালনা পরিষদ অন্য কোনোরূপ সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকেই দায়িত্ব পালন করে যেতে বলেন। পরিচালনা পরিষদ তাঁর বর্তমান নিয়োগের মেয়াদ শেষ হবার পর তাঁকেই ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পুনঃনিয়োগ প্রদান করেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ৬১ বছর ৬ মাস। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিয়মিত পরিদর্শন প্রতিবেদনগুলির একটিতে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিলে গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়টি ব্যাখ্যা করে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তি প্রতিবেদনে এ বিষয়ে আর কোন পর্যবেক্ষণ করা হয়নি।  
জিও বিষয়ে বলতে হয়, বিদেশ ভ্রমণের জন্য তাঁকে কখনো জিও নিতে হয়নি কারণ তিনি সরকারী কর্মচারী ছিলেন না। এব্যাপারে সরকার কোনো সময় আপত্তি তোলেনি।
যখন ২০১১ সালে এ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলো এবং প্রফেসর ইউনূসকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হলো তখন ব্যাংকটির মৌলিক আইনি মর্যাদা হুমকির মুখে পড়ে গেল যা প্রফেসর ইউনূস ক্রমাগতভাবে সকল সরকারের সমর্থন নিয়েই গড়ে তুলেছিলেন। এখন অপসারণের নির্দেশের কারণে সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো।
তিনি চেয়েছিলেন মহামান্য হাইকোর্ট ব্যাংকটির আইনি মর্যাদা সমুন্নত রাখুন। বিষয়টির আইনগত দিকগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। প্রফেসর ইউনূস তাঁর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চাকরি রক্ষার জন্য মরিয়া হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শত্রুভাবাপন্ন আচরণ করেছেন, যেমনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বার বার অভিযোগ করছেন – বিষয়টি মোটেই তা নয়। প্রফেসর ইউনূস যা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তা ছিল ব্যাংকটির আইনি মর্যাদা রক্ষা। কেননা তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন যে, যে আইনি কাঠামোয় তিনি বিগত সকল সরকারের সহায়তায় গ্রামীণ ব্যাংক গড়ে তুলেছিলেন তা দারিদ্র নিরসনে একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যাংকটিকে সফল করে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তাঁর চাকরি বিষয়ে বলতে হয়, প্রফেসর ইউনূস ৬০ বছর বয়সে পদার্পণের পর তিনি কয়েকবারই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিচালনা পরিষদ প্রতিবারই তাঁকে দায়িত্ব পালন করে যেতে বলেছিলেন।
২০১০ সালে প্রফেসর ইউনূস তাঁর একজন উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করতে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জনাব এ এম এ মুহিত সাহেবকে অনুরোধ করেছিলেন। যেহেতু তিনি নিজেই একজন যোগ্য উত্তরসূরির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ ছেড়ে দিতে চাইছিলেন।

অর্থমন্ত্রী জনাব মুহিতকে লেখা প্রফেসর ইউনূসের এই চিঠি সে সময়ে দেশের সকল সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল, যেহেতু  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ আঁকড়ে রাখার জন্য প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, প্রফেসর ইউনূসের বয়স ৬০ বছর অতিক্রম করে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০০১ সালে। কিন্তু সে সময়ে সরকার কখনোই তাঁর বয়স নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করেনি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকও এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করেনি।
প্রফেসর ইউনূস ব্যাংকের আইনি মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হাইকোর্টে যান। তিনি মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তাঁর চাকরি ধরে রাখার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

মহামান্য হাইকোর্ট এই কারণ দেখিয়ে প্রফেসর ইউনূসের পিটিশন শুনানির জন্য গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান যে, এ বিষয়ে তাঁর কোনো  ‘ Locus Standi ’ নেই অর্থাৎ এ বিষয়ে পিটিশন দাখিল করার কোনো এখতিয়ার তাঁর নেই। এরপর তিনি আপীল বিভাগে যান এবং আপীল বিভাগও একই যুক্তিতে তাঁর আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
এরপর প্রফেসর ইউনূস মে ১২, ২০১১ তারিখে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।

অভিযোগ: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ যখন আসলো, ইউনূস তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে এবং আমাদের সরকারের বিরদ্ধে মামলা করলো। কিন্তু প্রত্যেকটা মামলাই সে হেরে গেল কারণ আইন তো তাকে কভার দিতে পারে,  আইন তো তার বয়স কমাতে পারে না। কোর্ট তো আর তার বয়স কমাতে পারে না। হেরে যেয়ে আরও ক্ষেপে গেল। হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে আমাকে ফোন করিয়েছে, টনি  ব্লেয়ারের স্ত্রী  শেরি ব্লেয়ার, তাকে দিয়ে ফোন করিয়েছে, তারপরে একজন  ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি আসছে … সবাই কি … ইউনূসকে  ব্যাংকের এমডি রাখতে হবে।
মাননীয় স্পীকার, আমি জাতির কাছেই প্রশ্ন করি, ব্যাংকের এমডিতে কি এত মধু ছিল যে ওইটুকু উনার না হলে চলত না? সে তো নোবেল প্রাইজ পেয়েছে। তো আমি জিজ্ঞেস করলাম নোবেল প্রাইজ যে পায় সে তো এমডি পদের জন্য এত লালায়িত কেন? সেটা আমার মনে হয় সকলের একটু চিন্তা করে দেখা উচিৎ।
এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যাতে টাকাটা বন্ধ করে, তার জন্য বারবার ইমেইল পাঠানো,  হিলারীর সঙ্গে দেখা করা, এর ফাঁকে দিয়ে ইমেইল পাঠানো এবং তার সাথে আমাদের একজন সম্পাদকও খুব ভালভাবে জড়িত ছিল। কাজেই একটা কথা হচ্ছে যে এদের মধ্যে কি কোন দেশপ্রেম আছে?

আমাদের জবাব
গ্রামীণ ব্যাংক থেকে প্রফেসর ইউনূসের অপসারণের সংবাদটি বিশ্বব্যাপী সংবাদে পরিণত হয়েছিল। তবে তা এ কারণে নয় যে তিনি এ পদে থাকতে চেয়েছিলেন। বরং এ কারণে যে বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ দর্শন ও এর কর্মপদ্ধতির অনুরাগী ও অনুসরণকারীদের বিশাল কমিউনিটির কাছে এটি ছিল অত্যন্ত অবিশ্বাস্য ও হতবুদ্ধিকর একটি ঘটনা। তাঁরা বিভিন্নভাবে তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। তাঁরা প্রফেসর ইউনূসকে তাঁর পদে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না, তাঁরা এটা দেখতে চাইছিলেন যে, গ্রামীণ কর্মসূচিগুলির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। দরিদ্রদের আশার স্থল হিসেবে বিশ্বজুড়ে গ্রামীণকে কী দৃষ্টিতে দেখা হয় এটি ছিল তারই একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
প্রফেসর ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তা একটি  সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র  কাহিনী।  দূর্নীতির কারণে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধে বিশ্ব ব্যাংকের সতর্কসংকেতের ঘটনা একই সময়ে ঘটেছিল।
একই সময়ে চলমান দুটি আলোচনার বিষয়কে মিশিয়ে ফেলে একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কাহিনী সৃষ্টি করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  বলছেন যে, প্রফেসর ইউনূস হিলারী ক্লিনটনের সাথে চক্রান্ত করে বিশ্ব ব্যাংকের উপর চাপ সৃষ্টি করায় পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে প্রফেসর ইউনূস চাপ প্রয়োগ করেছেন এ বিষয়টি প্রথমবার যখন উল্লেখ করা হয় তখনই প্রফেসর ইউনূস এ বিষয়ে একটি সুষ্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সকল মানুষের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন- এবং তিনিও এস্বপ্নে বিশ্বাসী। । এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রফেসর ইউনূস বলেন ‘আজ পদ্মা সেতুর নির্মাণ সমাপ্ত হওয়ায়  দেশের মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত । দেশের সকল মানুষের সঙ্গে আমিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি।

এই কাহিনীতে  বলা হয়েছে যে  প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে প্রফেসর ইউনূস পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধে তাঁর ‘বিশাল প্রভাব’ কাজে লাগিয়েছেন। প্রফেসর ইউনূস বিশ্ব ব্যাংকের উপর সরাসরি চাপ প্রয়োগ না করলেও তিনি তাঁর বন্ধু হিলারী ক্লিনটনের মাধ্যমে তা করিয়েছেন। অন্য কথায়, বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক চুক্তি বাতিলের ঘটনায় তাঁর কোনো না কোনো সংযোগ নিশ্চয়ই আছে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন যে, একটি নামকরা সংবাদপত্রের এক সম্পাদক অর্থায়ন বন্ধে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে প্ররোচিত করতে বিশ্ব ব্যাংক কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতও করেছেন। আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত-গ্রহণের কঠিন জগৎ দুই বন্ধুর খেয়াল-খুশী বা একজন পত্রিকা সম্পাদকের সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার উপর নির্ভর করে না। প্রফেসর ইউনূস যত “গুরুত্বপূর্ণ” ব্যক্তিই হোন না কেন, তাঁর যত “প্রভাবশালী বন্ধুই” থাকুক না কেন, একটি ৩০০ কোটি ডলারের প্রকল্প শুধু এ-কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে না যে, তিনি চাইছিলেন এটা বাতিল হয়ে যাক। অভিযোগের জবাবে আবারো বলতে হচ্ছে যে, প্রফেসর ইউনূস পদ্মা সেতু বিষয়ে বিশ্বব্যাংক বা অন্য কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির কাছে কখনও কোনো অভিযোগ বা অনুযোগ জানাননি। সুতরাং বিষয়টি নিতান্তই কল্পনা প্রসূত। 

অভিযোগ:
কিন্তু গরিবের কাছ থেকে প্রায় ৪৭ ভাগ সে ইন্টারেস্ট নিত । এটি হচ্ছে সব থেকে দুর্ভাগ্যের বিষয় । 
আমাদের জবাব
এ বক্তব্য  মোটেই সঠিক নয়। ব্যবসা ঋণের উপর গ্রামীণ ব্যাংকের  সুদ বরাবরই ২০% যা একটি ক্রমহ্রাসমান সরল সুদ। এটা কখনো কোন উপলক্ষ্যে বাড়ানো হয়নি। বলা বাহুল্য মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি মাইক্রোক্রেডিটের সর্বোচ্চ সুদের অনুমতি দিয়েছে ২৭%। গ্রামীণ ব্যাংক বরাবরই সরকার নির্ধারিত সুদের হার থেকে অনেক কম সুদে ঋণ দিয়ে গেছে। এছাড়া অন্যান্য সুদের হার আরো অনেক কম।
গৃহঋণের উপর ৮%, সদস্যদের ছেলে মেয়ের শিক্ষা ঋণের উপর শিক্ষাকালে ০% এবং শিক্ষা সমাপান্তে ৫%, হত- দরিদ্রের জন্য ০%। গ্রামীণ ব্যাংকে ৪৭% সুদ কখনো ছিল না এখনো নেই।
তাছাড়া যেকোন ব্যাংকের সুদ আয়ের উপর যে লাভ হয় তার ভাগীদার হন মালিকগণ। গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক ২৫% সরকার আর ৭৫% গরীব সদস্যগণ। তাই সরকার ও সদস্যরা নিয়মিত লাভ পেয়ে আসছেন। প্রফেসর ইউনূসের এতে একটা শেয়ারও নেই। তাই ৪৭% সুদ নিয়ে কাউকে ঠকানোর কোন সুযোগই তার নেই!
প্রফেসর ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অপসারণের পরও এই ঋণ-নীতির কোন পরিবর্তন হয়নি।
অভিযোগ
বরং গ্রামীণ ব্যাংকের যত টাকা, সব কিন্তু সে নিজে খেয়ে গেছে। নইলে একজন ব্যাংকের এমডি এত টাকার মালিক হয় কিভাবে? দেশে-বিদেশে এত বিনিয়োগ করে কিভাবে?
আমাদের জবাব:
প্রফেসর ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো টাকা “খেয়ে” ফেলেননি। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তাঁর কর্মকালীন সময়ে তাঁর বেতনের বাইরে তিনি আর কোনো অর্থ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করেননি। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্যও কোন সময়  তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো টাকা খরচ করেননি। দেশে ও দেশের বাইরে বিনিয়োগ করতে তিনি ব্যাংকের টাকা নিয়েছেন বলে যে দাবী করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অসত্য।
বর্তমান সরকার দেশের সমস্ত ব্যাংকের সকল শাখা থেকে তাঁর ব্যাংক হিসাবগুলি তদন্ত করে দেখতে আদেশ দিয়েছিল। মিডিয়াতে এই আদেশ ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। তাঁর ট্যাক্স রিটার্ণসমূহ বহুবার পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে এবং এই সংবাদও দেশব্যাপী প্রচার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এসব তদন্তে কোনরূপ অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে এরকম কোনো সংবাদ আমরা কখনো পাইনি। গ্রামীণ ব্যাংকের অনিয়ম খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে সরকার গঠিত একটি রিভিউ কমিটি ও একটি কমিশন বহু চেষ্টা করেও এধরণের অর্থ অপসারণের কোনো তথ্য বের করতে পারেনি। 
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের সকল হিসাব ও আর্থিক বিষয়াদি নিরীক্ষা করে দেখে। এর কোনো রিপোর্টে প্রফেসর ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক থেকে কোনো টাকা সরিয়েছেন এমন কোনো কথা বলা হয়নি। মিডিয়াতেও এ ধরনের কোনো রিপোর্ট কখনো আসেনি। প্রফেসর ইউনূস নিয়মিতভাবে তাঁর কর পরিশোধ করেন এবং ট্যাক্স রিটার্ণ জমা দেন।
তাঁর আয়ের উৎস:
প্রফেসর ইউনূসের আয়ের উৎস তিনটি: ১. বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সম্মেলনে বক্তা হিসেবে প্রদত্ত ভাষণের জন্য লেকচার ফি। তিনি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী ফি প্রাপ্ত বক্তাদের অন্যতম। তাঁর আয়ের প্রধান উৎস এটি। ২. পৃথিবীর ২৫টি ভাষায় প্রকাশিত তাঁর বইগুলির রয়্যালটি। তাঁর বইগুলির মধ্যে কোন কোনটি নিউইয়র্ক টাইমস-এর বেষ্ট সেলার তালিকাভূক্ত। ৩. প্রথম ও দ্বিতীয় উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্থায়ী আমানত হিসেবে রেখে তা থেকে আয়।
প্রথম ও দ্বিতীয় উৎস থেকে প্রতিটি প্রাপ্তির তথ্য কর কর্তৃপক্ষের নিকট নিয়মিত জমা দেয়া হয়। সুতরাং তাঁর আয়ের উৎস সম্বন্ধে কিছু না জানার কোনো প্রশ্নই উঠতে পারেনা।
তাঁর লেকচার ও বই থেকে প্রাপ্ত সমস্ত আয় তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে গ্রহণ করেন। ব্যাংকগুলি থেকে পাওয়া এ সংক্রান্ত ডকুমেন্ট কর কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেয়া হয়। ফলে তাঁর আয়ের উৎস সরকারের অজানা একথা একেবারেই সত্য নয়। প্রফেসর ইউনূস তাঁর টাকা ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসাবে রাখেন। তিনি কখনোই স্টক বা শেয়ারে কোনো রকম বিনিয়োগ করেন না। পৃথিবীর কোথাও কোনো কোম্পানীতে তাঁর কোনো শেয়ার নেই।
পৃথিবীর অনেক দেশের সরকার, কর্পোরেশন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সমাজসেবী সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ প্রফেসর ইউনূসের দর্শন ও প্রায়োগিক কর্মসূচিতে অনুপ্রাণিত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সামাজিক ব্যবসা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছেন। এঁদের অনেকে প্রফেসর ইউনূসের দর্শন ও ব্যবসায়িক কাঠামোর প্রতি তাঁদের সার্বিক ঐকমত্য প্রকাশ করতে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে “ইউনূস” বা “গ্রামীণ” নাম যোগ করে পরিচিতি দেন। তাঁদের ব্যবসায়ে এই নামগুলির ব্যবহার শুধু ইউনূসের দর্শনের প্রতি উদ্যোক্তাদের একনিষ্ঠতার   বহিঃপ্রকাশমাত্র। এগুলি কোনোভাবেই এই ব্যবসাগুলিতে ইউনূস বা গ্রামীণের মালিকানার পরিচয় বহন করে না। তাঁদের ব্যবসাগুলি তাঁদের স্ব-স্ব দেশের আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত। এদের অর্থায়নও হয় উদ্যোক্তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী। এসব ব্যবসার কোনোটিতেই প্রফেসর ইউনূসের কোনো বিনিয়োগ নেই। এই ব্যবসাগুলির কোনো কোনোটি পরবর্তীতে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। তারা তাদের সফলতার কথা গর্বের সাথে বিশ্ববাসীর কাছে যখন তুলে ধরে তখন তাদের সামাজিক সমস্যাগুলি সমাধানের পথ বের করার উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে পাওয়া তাত্তিক কাঠামো এবং অভিজ্ঞতার জন্য সব সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
প্রফেসর ইউনূস বিশ্বব্যাপী তাঁর দর্শন ছড়িয়ে দেন, টাকা নয়। তিনি অনেকবার বলেছেন যে, পৃথিবীর কোথাও কোনো কোম্পানীতে তাঁর কোনো শেয়ার নেই, পৃথিবীর কোথাও কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তিনি কোনো বিনিয়োগ করেননি।
অভিযোগ:
এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে তিন লক্ষ ডলার সে কিভাবে অনুদান দেয়? কার টাকা দিল? কিভাবে দিল? সেটা তো কেউ খোঁজ করল না!
আমাদের জবাব:
প্রফেসর ইউনূস কখনোই ক্লিনটন ফাউন্ডেশনকে কোনো অংকের কোনো অনুদান দেননি। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ:
এবং গ্রামীণফোন যখন নেন তখন বলেছিল যে গ্রামীণফোন থেকে যে লভ্যাংশ সেটা গ্রামীণ ব্যাংকে যাবে এবং ওইটা দিয়ে ব্যাংক চলবে। খোঁজ নিয়ে দেখবেন আজ পর্যন্ত কোনদিন গ্রামীণফোনের একটি  টাকাও সে গ্রামীণ ব্যাংকে দেয় নাই।
আমাদের জবাব:
গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে গ্রামীণ ব্যাংককে লভ্যাংশ প্রদান করার এ ধরনের কোনো কথা ছিলনা। গ্রামীণ ব্যাংক এই জয়েন্ট ভেঞ্চারের কোন পক্ষ ছিলনা।
এই জয়েন্ট ভেঞ্চার গ্রামীণফোনের প্রধান অংশীদার নরওয়ের কোম্পানী টেলিনর, যা নরওয়ে সরকারের মালিকানাধীন। গ্রামীণফোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার গ্রামীণ টেলিকম যা কোম্পানী আইনের ২৮ ধারায় নিবন্ধনকৃত একটি অলাভজনক কোম্পানী যার কোনো ব্যক্তি মালিক নেই। গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ টেলিকম দুইটি পৃথক আইনগত সত্তা। গ্রামীণফোন একটি পাবলিকলি লিস্টেড (publicly listed) কোম্পানী।

গ্রামীণ টেলিকম সরোস ফাউন্ডেশনের নিকট থেকে ধারকৃত টাকায় গ্রামীণফোনে বিনিয়োগ করেছিল।
প্রফেসর ইউনূস কোনোকালেই গ্রামীণফোনের কোনো শেয়ারের মালিক ছিলেন না, এখনো তাঁর কোনো শেয়ার নেই। শেয়ার কেনার কোনো ইচ্ছাও তাঁর কখনো ছিলনা।
গ্রামীণ টেলিকম দরিদ্র নারী উদ্যোক্তাদের কাছে গ্রামাঞ্চলে ফোন সার্ভিস বিক্রি করতে “পল্লী ফোন কর্মসূচি” চালু করেছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে গ্রামীণ টেলিকমই প্রথম কোম্পানী যা দরিদ্র মানুষের কাছে, বিশেষ করে দরিদ্র মহিলাদের কাছে এবং গ্রামাঞ্চলে টেলিফোন সেবা পৌঁছে দিয়েছে। “পল্লী ফোন কর্মসূচি” থেকে লক্ষ লক্ষ মহিলা উল্লেখযোগ্য আয় করতে পেরেছেন। কর্মসূচিটির তাৎপর্যের কারণে এটি প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গ্রামীণ টেলিকমের “পল্লী ফোন কর্মসূচি” গ্লাসগো  প্রযুক্তি জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে।  এই প্রযুক্তি জাদুঘরে স্থান পাওয়াটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। গ্রামীণফোনের যুগান্তকারী কাজের ফলস্বরূপ দেশের সর্বত্র এমনটি দরিদ্রতম মানুষটির কাছেও টেলিফোন সেবা পৌঁছে গেছে। 
অভিযোগ:
যখন আমরা ডিজিটাল সিস্টেম নিয়ে এলাম। টেলিকমিউনিকেশন, আগে সব এনালগ ছিল এবং মোবাইল ফোনের ব্যবসা দিয়ে দিলাম প্রাইভেট সেক্টরে, তাকেও একটা মোবাইল ফোনের ব্যবসা দেওয়া হলো। আরও যে দুটো আমরা দিয়েছিলাম তাদের আমরা বেশি সুযোগ দেইনি কিন্তু গ্রামীণ ফোনের জন্য রেলওয়ে অপটিক ফাইবার ক্যাবল ব্যবহার করার সুযোগ আমরা দিয়েছিলাম।
আমাদের জবাব
রেলওয়েকে তৎকালীণ সময়ে ফাইবার অপটিকস নরওয়ে অনুদান হিসেবে দিয়েছিল। রেলওয়ে তার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার করতে পারছিল না। অথচ জনবল ও ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিনিয়ত বিপুল খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছিলো। রেলওয়ে খরচ সাশ্রয়ের জন্য তখন গ্রামীণফোনের সাথে একটা লিজ চুক্তি করে। এটা একটা বাণিজ্যিক চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে রেলওয়ের একাজে নিয়োজিত সকল লোকবলের দায়িত্ব গ্রামীণফোনের নিকট ন্যস্ত করে দেয়া হয়।
গ্রামীণফোন দেশের সবচেয়ে বৃহৎ মোবাইল  ফোন কোম্পানি। ২৫ বছর পরে সব দেখে এখন সবাই বলবে  গ্রামীণ ফোনকে লাইসেন্স দিয়ে সরকার সঠিক কাজ করেছে। লাইসেন্স ন্যায্যত তাদেরই  প্রাপ্য ছিল।
অভিযোগ:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোনো একটি ফাউন্ডেশনে ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ দিয়েছিলেন- এক আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য সম্প্রতি এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত হবে কি না- এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা সাংবাদিক। আপনারাও তো তদন্ত করতে পারেন, কিন্তু করেন না। আপনারা তদন্ত করুন। একজন ব্যাংকের এমডি হয়ে কোনো ফাউন্ডেশনে এত অর্থ কীভাবে দেন? আপনারা অনুসন্ধান করুন। আমি (তদন্ত) করতে গেলে তো আবার বলবেন প্রতিহিংসাপরায়ণ। তাই আপনারা খুঁজে বের করলেই ভালো হয়। ড. ইউনূসের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে আরও অভিযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোন ব্যাংকে কত টাকা আছে, কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা সরিয়ে নিয়েছেন, সেগুলো খুঁজে বের করুন। কোনো ফাউন্ডেশন বা ট্রাস্ট করে তার টাকা কীভাবে ব্যক্তিগত হিসাবে চলে যায়? এক চেকে ৬ কোটি টাকা তুলে নিয়ে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা করে, সেই টাকা উধাও (ভ্যানিশ) করে দেওয়া হলো! এসব বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বেশিদিন আগের কথা তো নয়। ২০২০ সালের কথা। অ্যাকাউন্ট নম্বর তো আছেই। আপনারা অনুসন্ধান করুন, তথ্য বের করুন। তারপর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে আমরা নেব।
আমাদের জবাব:
কোনো ট্রাস্ট থেকে ৬ কোটি টাকা বা অন্য কোনো অংকের টাকা ২০২০ সালে বা অন্য কোনো সময়  প্রফেসর ইউনূসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়নি। তিনি কোন ফাউন্ডেশনে ৬ মিলিয়ন ডলার অনুদানও দেননি। এটা সম্পূর্ণ একটা কল্পনাপ্রসূত এবং মানহানিকর অভিযোগ।

আগেই বলা হয়েছে, সরকার ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলো থেকে প্রফেসর ইউনূসের ব্যাংকিং বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করেছে তাই সকল তথ্যই সরকারের কাছে আছে।

চ্যালেঞ্জের গল্প শোনালেন বডিবিল্ডার মাকসুদা মৌ

বাংলাদেশের মেয়েরা বডিবিল্ডিং করছে-এটা অনেকেই ঠিক মেনে নিতে পারেন না। এসব নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণাও হয় প্রচুর। মাকসুদা মৌ ঠিক এই ব্যাপারটিরই শেষ দেখতে চান। তিনি স্বপ্ন দেখেন, অন্য আর সবকিছুর মতো পুরুষের পাশাপাশি বডিবিল্ডিংয়ের সব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে এদেশের মেয়েরা। এরইমধ্যে মৌ তার স্বপ্নের পথে হাঁটা শুরু করেছেন। দেশের প্রথম নারী বডিবিল্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জিতেছেন পদক। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনেও বিশ্বের বুকে ওড়াতে চান নারী বডিবিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের পতাকা। সেই সাফল্যের গল্প আর আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে মানবজমিনের স্পোর্টস রিপোর্টার সামন হোসেনের সঙ্গে কথা বলেছেন মাকসুদা মৌ। নিম্নে তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো..  কীভাবে বডিবিল্ডিংয়ের মতো খেলাতে এলেন? আমি পতেঙ্গা নৌবাহিনী স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর টেক্সটাইল ডিজাইনের ওপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করতে ২০১৭ সালে ভারতের পাঞ্জাবে যাই। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে ফিট রাখার জন্য নিয়মিত জিম করতাম।

শরীরচর্চা করতে জিমে গিয়ে তা রীতিমতো নেশায় পরিণত হয়। এরপর শরীরচর্চা নিয়ে পড়াশোনা করতে কানাডায় যাই।  সেখানে বডি বিল্ডিংকে স্বপ্ন বানিয়ে দেশে চলে আাসি। বাইরের দেশগুলোতে বডিবিল্ডিং খুব জনপ্রিয় খেলা। আমি ভাবলাম দেশে বডিবিল্ডিং শুরু করি তাহলে অনেককিছু করা সম্ভব। শুরুতে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন? আসলে আমার শুরুটা হয়েছে দেশের বাইরে। আমি ইন্ডিয়া ও কানাডাতে পড়াশোনা করেছি। এখানেই আমার বডিবিল্ডিয়ের হাতে খড়ি। যে কারণে শুরুতে আমি খুব একটা বাধার সম্মুখিন হইনি। তবে দেশে অনেকের কটুকথা আমাকে শুনতে হয়েছে। কারণ, আমরা এমন একটা দেশ বা সমাজে থাকি, যেখানে মেয়েরা সাধারণ খেলাধুলা কিংবা শরীরচর্চার সুযোগও পায় না। আমাদের দেশে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনাকে যত গুরুত্ব দেয় শরীরচর্চাকে দেয় না। সামাজিক সচেতনতা বেশি নেই। আমার কাছে অনেক ডাক্তার ওয়ার্ক আউট করে। শারীরিকভাবে তারা খুব আনফিট। আসলে আপনি যে পেশাতেই থাকুন না কেন আপনাকে যে ফিট থাকতে হবে, শরীরচর্চা করতে হবে- এই কালচারটাই আমাদের নেই। তাই শুরুর দিকে এক্সারসাইজ করা এবং স্ট্রেন্থ বিল্ডিং করা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। পেশাদার খাতায় নাম লেখালেন কবে? ২০১৯ সালে আমি বডিবিল্ডিং শুরু করি এবং একটা টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হই। ওটা আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল। তখন ভেবেছিলাম যদি আরও একটু ভালো কন্ডিশনিং নিয়ে আসি তাহলে আরও ভালো করতে পারবো। দেশের বাইরে বড় কোনো টুর্নামেন্টে নেমে প্রথমবারই পদক পাবেন বলে আশা করেছিলেন? না। সত্যিকার অর্থে ২০২০ সালে যখন বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায় নামি, তখনই বলেছি পরের বছরে আমি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা করবো। আমার লক্ষ্য ছিল এখানে আসার। পুরো বছর প্রস্তুতি নিয়েছি। চোটের পর বিশ্রামেও ছিলাম অনেক দিন। ফিজিও নিয়ে ঠিক হয়েছি। বাংলাদেশে আপনি জানেন যে, আমরা নারীরা হাফ স্লিভ বা প্যান্ট পরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। আর আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে বিকিনি পরে স্টেজে উঠতে হয়। আমাকে বিকিনি পরে পারফর্ম করতে হয়েছে। বিষয়টা চ্যালেঞ্জিং ছিল। ওখানে ছোট ছোট ভুলগুলো অনেক বড় করে দেখা হয়। এসব প্রতিকুলতা পার করে আমি সেখানে পদক জিতেছি। মুম্বইয়ে অলিম্পিয়া অ্যামেচার বডিবিল্ডিংয়ে অংশ নিয়ে পদক জেতার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? প্রথম প্রতিযোগিতার মাত্র দুই মাস আগে আমি দেশে এসেছিলাম। নিজেকে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারিনি। তাই মুম্বাইয়ে অংশ নেওয়ার জন্য অনেক খাটতে হয়েছিল। এক-দেড় ঘণ্টা করে ওয়ার্কআউট করা। সঙ্গে ডায়েট। অন্যদের বোঝানো যাবে না এটা কত পরিশ্রমের কাজ। আসলে আমাদের দেশে ওভাবে কোনো বডিবিল্ডিং বা এক্সপো প্রতিযোগিতা হয় না। বুঝিয়ে বলার জন্য বলছি, এটা আসলে একটা হেলথ ও ফিটনেস এক্সপো। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিযোগী আসেন। মুম্বাইয়ে অনেক ধরনের ব্র্যান্ড ছিল যা আমাদের দেশে ছিল না।  ভবিষ্যতে দেশের নারীদের নিয়ে আলাদা কোনো উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা আছে? চিন্তা আছে। আমি যখন চট্টগ্রামে শুরু করি আমি অনেক নারীকে নিয়ে কাজ করতাম। কাপ্তাই থেকে শুরু করে অনেক ছোট ছোট জিমে গিয়েছি। ওখানে নারীরা আসতেন। বোরকা পরেও অনেকে আসতেন। তাদের সম্ভাবনা থাকলেও কেউ মানসিকভাবে শক্ত ছিল না। বাসায় কী বলবে, সমাজ কী বলবে এসব চিন্তা করে অনেকে আসে না। এখানে কাজ করতে হবে। এখন অনেকেই কাজ করছে। অন্যদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কোথায়? আপনি দেখবেন ফিটনেস আর ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি আলাদা। আমাদের দেশে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি আছে কিন্তু ফিটনেস ইন্ডাস্ট্রি নাই। কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী আছে যাদের সিক্স প্যাক আছে? আরিফিন শুভ আসে আমাদের জিমে। এছাড়া আসলে কেউই আসে না। আমি বলবো না এটা ওদের দোষ। মূলত ওভাবে গাইডলাইনটা পায় না। এখানেই অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বড় পার্থক্য। পরবর্তী লক্ষ্য কি? সামনে যুক্তরাষ্ট্রে একটা প্রতিযোগিতা আছে। সেটার জন্য বিদেশি ট্রেনারের কাছে অনলাইনে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বডিবিল্ডিংয়ে অনেক খরচ। বিদেশি ট্রেনারকে তিন হাজার ডলার দিতে হচ্ছে। এছাড়া নিজেকে তৈরি রাখতেও ব্যয় প্রচুর। তারপরেও চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার। কিন্তু জানিনা কতোদিন একক প্রচেষ্টায় চালিয়ে যেতে পারবো।  ফেডারেশনকে কি পাশে পাচ্ছেন না? আমাদের ছোট্ট ফেডারেশন। তাদের পক্ষে ওইভাবে আমাকে লুক আফটার করা সম্ভব নয়। তারপরেও যতটুকু পারছে নজরুল স্যার সব সময় আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নানা সীমাবদ্ধতার পরেও ফেডারেশন সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করে।

তাসকিনকে গতি ও আগ্রাসন ধরে রাখতে বলেন ডোনাল্ড

সামপ্রতিক ক্রিকেটে পেসারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদের উন্নতিটা চোখে পড়েছে সবার। কাঁধের চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টেস্ট সিরিজে তাসকিন আহমেদকে পায়নি বাংলাদেশ দল। চোট কাটিয়ে উইন্ডিজের বিপক্ষে সাদা বলের দুই সিরিজেই মাঠে থাকবেন তাসকিন। যে কারণে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে তাসকিনের কাছে প্রত্যাশাও বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণে কোন পথে হাঁটতে হবে, তাসকিনকে সেটিও জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। প্রায় তিন মাস পর মঙ্গলবার দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন করেছেন তাসকিন। পেস বোলিং কোচ ডোনাল্ডের সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটে তার। গুরুর সঙ্গে কী কথা হলো তাসকিনের? উত্তর জানা গেছে তাসকিনের মুখ থেকেই। এক ভিডিও বার্তায় তাসকিন জানান, গতি ও আগ্রাসন ধরে রাখতে বলেছেন ডোনাল্ড। কখনও কখনও সাফল্য না এলেও তাসকিনের গতি-আগ্রাসন থেকে সরে যাওয়া ঠিক হবে বলে মনে করেন এ দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি।

 তাসকিন বলেন, ‘আমি ওর সঙ্গে কথা বলছিলাম যে আমি ইনজুরি থেকে এসেছি এখন আমার দায়িত্বটা কী হবে? ও আমাকে এটাই বুঝাতে চাচ্ছিল যে, তুমি যে টাইপের বোলার, তোমার দায়িত্ব হচ্ছে গতি ও আগ্রাসন। ও আমাকে বলছিল, কিছু সময় তুমি অনেক রান দেবে, কিছু সময় তুমি একাই উইকেট নিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে দেবে- কিন্তু তোমার দায়িত্ব থেকে তুমি নিজেকে সরাবে না। তোমার যেটা রোল, সেটাতেই তুমি ফোকাস থাকো। দিন যত যাবে, রিদম আরও বেটার হবে। আমরা আরও কাজ করবো সামনে।’ দীর্ঘদিন পর দলের সঙ্গে অনুশীলনের অনুভূতি জানিয়ে তাসকিন বলেন, ‘খুবই ভালো লাগলো প্রায় তিন মাস পর দলের সঙ্গে পুরোপুরি অনুশীলন করলাম। ফিন্ডিং, বোলিং ব্যাটিং- সবকিছুই করলাম। শুরুতে একটু জড়তা ছিল। পরে যখন শুরু করলাম সব কিছুই স্বাভাবিকভাবে গেছে। শেষ করার পর খুবই ভালো লাগছে।’ এদিকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের পেসারদের জন্য রোল মডেল তাসকিন আহমেদ। যিনি গত কয়েক বছরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের বোলিংয়ে যোগ করেছেন ভিন্ন মাত্রা। সাকিবের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি তাসকিন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি এবং আমার অনেক ভালো লেগেছিল সাকিব ভাইয়ের ওই কথাগুলো শুনে। এটা আমাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে যে সামনে আমাকে আরও ভালো করতে হবে।’ তাসকিনের আশা, টেস্ট সিরিজের ব্যর্থতা ঝেরে মুছে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াবে টাইগাররা। আর সামনে যেহেতু এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে তাই উইন্ডিজ থেকেই শুরু হচ্ছে প্রস্তুতি । তাসকিন বলেন, ‘প্রত্যেকটি ম্যাচ বা সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ, সামনে এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে। যেহেতু বড় ইভেন্টের খেলা আছে সেহেতু প্রত্যেকটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই জয়ের জন্য খেলবো। আমরা যেনো দীর্ঘমেয়াদী সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারি, নিজেদের উন্নতি করতে পারি, আত্মবিশ্বাসগুলো বেশি করে নিতে পারি। এটাই লক্ষ্য থাকবে যে, এখানে খেলে আমরা সামনে নিজেদেরকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারি বিশ্বকাপের জন্য।’ টেস্টের ব্যর্থতা একপাশে রেখে কুড়ি ওভারের দিকে মনোযোগ দেওয়ার বার্তা তাসকিনের। তিনি বলেন, ‘শেষ সিরিজটা ভালো যায়নি। এখন সামনে একটা টি-টোয়েন্টি সিরিজ আছে, এরপরই ওয়ানডে সিরিজ। যে ভুলগুলো হয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।’

ত্রাণযোদ্ধাদের টুপিখোলা স্যালুট এবং কিছু কথা…

ব্যারিস্টার সুমন, গায়ক তাসরিফ এবং আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মতো আরও অনেকে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। মাদারীপুর থেকে খাদ্যভর্তি ট্রাক নিয়ে বন্যাকবলিত হবিগঞ্জে ছুটে এসেছিলেন একদল তরুণ। চট্টগ্রাম থেকে ত্রাণের ট্রাক এসেছে সিলেটে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ান। মহা দুর্যোগের সময়ে নানা শ্রেণি-পেশার এই ত্রাণযোদ্ধাদের প্রতি টুপি খোলা স্যালুট। যারা দুঃসময়ে অসহায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি সিলেট-সুনামগঞ্জ তথা বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে

ভয়াবহ বন্যায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চার জেলা ডুবে আছে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি। আকস্মিক বানের পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ জনপদ। বন্যায় অনেকে ঘরবাড়ি এবং সহায়-সম্পদ হারিয়েছেন। বন্যার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ নিজেদের সম্পদ রক্ষায় নজর পর্যন্ত দিতে পারেননি।

এক কাপড়ে কোনোমতে জীবন বাঁচিয়েছেন অনেকে। তারপরও অর্ধশত মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে এই বন্যা। তাদের কেউ পানিতে ডুবে, কেউ বজ্রপাতে বা সাপের দংশনে মারা গেছেন। শুরুর ভয়াবহ ধাক্কাটা ছিল সিলেট এবং সুনামগঞ্জে। পরে তা বিস্তৃত হয় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে। একই সময়ে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জেও বন্যায় বিপর্যস্ত হয় লাখ লাখ মানুষ। জুনের মধ্যভাগ থেকে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে যে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয় এর জেরেই সিলেট অঞ্চলে অস্বাভাবিক এই বন্যা। বলা হচ্ছে স্মরণকালের ভয়াবহতম এই বন্যার ধরন আগের কোনো বন্যার সঙ্গেই মিলছে না। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মানুষের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ায় এক অসহায় অবস্থা তৈরি হয়েছিল। কেউ কারো খবর নেয়ার সময় ছিল না। কে কোথায় আছেন- জানার সুযোগ ছিল না। এমন কি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। ভেঙে পড়েছিল পুরো যোগাযোগ নেটওয়ার্ক।

 টেলিফোন মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বন্যার ভয়াবহতম সময়ে সিলেট-সুনামগঞ্জের দুর্গত এলাকার মানুষের কোনো খবরই পাওয়া যাচ্ছিল না। দেশে-বিদেশে থাকা স্বজনরা উদ্বেগ নিয়ে বিনিদ্র সময় কাটিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত মানুষকে উদ্ধারে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত ছিল সময় উপযোগী। সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বিরামহীন তৎপরতায় অনেক মানুষকে যথাসময়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। খাদ্য ও পানীয় জলের সংকটে থাকা অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন তারা। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পাশে দাঁড়ানোয় আশা আর ভরসা পেয়েছিলেন বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষজন।  একই সময়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা ছিল আশা জাগানিয়া। অনেকটা শূন্য হাতেই এসব সংগঠন ও ব্যক্তি সিলেটে ছুটে গিয়েছিলেন অসহায় মানুষকে উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে নিতে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ করে পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরার পাশাপাশি আকুতি জানিয়েছিলেন সহায়তা পাঠানোর। এসব মানুষের আহ্বানে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। 

দেশ-বিদেশ থেকে অজস্র মানুষ বন্যাদুর্র্গতদের সহায়তা দিয়ে ত্রাণযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ান। এদের কল্যাণে সিলেট এবং সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষেরা আশার আলো দেখতে পান। সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যখন ত্রাণ সংকট তখন অনেকটা ত্রাতা হয়ে সামনে দাঁড়ান ত্রাণযোদ্ধারা। বন্যার খারাপ সময়টাতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন একটি হট লাইন চালু করেছিল বন্যাদুর্গতদের সহায়তার জন্য। দেয়া হয়েছিল টেলিফোন ও মোবাইল নম্বর। কিন্তু বন্যার কারণে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সেই হটলাইনে ও যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। মোবাইল ফোনে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান তখন মানবজমিনকে জানিয়েছেন, চেষ্টা করেও তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। দু’জন ইউএনও তাকে যে খবর দিয়েছেন তা ভয়াবহ। পানিতে ভাসছে পুরো জনপদ। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় নিজের এলাকায় যেতে পারেননি মন্ত্রী। এলাকায় যে কয়জন সংসদ সদস্য অবস্থান করছিলেন তারাও বের হতে পারেননি বন্যার ভয়াবহতার কারণে।  

ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে বানভাসি মানুষের জন্য শ্রষ্টার আশীর্বাদ হয়ে আসা ত্রাণযোদ্ধাদের কেউ কেউ ছিলেন চেনা মুখ। অনেকেই একেবারেই অপরিচিত মুখ। দেশের নানা প্রান্ত থেকে তারা ছুটে এসে পাশে দাঁড়ান সিলেট সুনামগঞ্জের বন্যাদুর্গত মানুষের।  সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন নেট দুনিয়ায় পরিচিত মুখ। সমাজে বিদ্যমান নানা অসঙ্গতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরে তিনি খ্যাতি কুড়িয়েছেন। লন্ডনে ব্যারিস্টারি পাঠ চুকিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন মানুষের কল্যাণের ব্রত নিয়ে। সিলেটে দ্বিতীয় দফা বন্যা শুরুর পরই তিনি ছুটে যান সেখানে। নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তুলে ধরেন বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ান দেশে-বিদেশে থাকা অনেক মানুষ। অপ্রত্যাশিত সাড়া পান তরুণ এই আইনজীবী। শুরুর কয়েক দিনেই দুই কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করেন। বিভিন্ন ত্রাণ টিম গঠন করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি নিজেও রাতদিন অবস্থান করেন এসব এলাকায়। ব্যারিস্টার সুমন এখনো ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমেও অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। 

 বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বড় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সামাজিক সংগঠন আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। শায়খ আহমাদুল্লাহ’র নেতৃত্বে একদল তরুণ আলেমদের এই উদ্যোগে শরিক হয়েছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ পর্যন্ত এই সংগঠনের পক্ষ থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকার বেশি মূল্যের ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে বন্যাদুর্গত মানুষদের কাছে। তাদের ত্রাণ কার্যক্রম এখনো চলছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামনে জোরালোভাবে পুনর্বাসন কার্যক্রমে তারা অংশ নেবে। আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনও বন্যাদুর্গতদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে। সংগ্রহ অর্থের হিসাবের সঙ্গে অর্থ ব্যয়ের হিসাবও নিয়মিত প্রকাশ করে আসছে সংগঠনটি।  তরুণ গায়ক তাসরিফ খান। প্রথম দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সহায়তা দিতে সিলেটে অবস্থান করছিলেন তিনি। এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফা বন্যার হানান। দুর্বিষহ এক পরিস্থিতি চারপাশে। এমন অবস্থায় মাথা বেঁধে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে নেমে পড়েন তিনি ও তার টিমের সদস্যরা। তাসরিফের ফেসবুক লাইভে সাড়া দেন অসংখ্য মানুষ। 

আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান। একদিনে ১৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করে তাসরিফ অনেকটা অবাকই হয়েছিলেন। জানা ছিল না পরে আরও বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছে তার ত্রাণ টিমের জন্য। পরের কয়েকদিনে দুই কোটি টাকার বিশাল তহবিল গড়ে ওঠে মানুষের পাঠানো অর্থে। সেই সহায়তা বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন তাসরিফ ও তার টিমের সদস্যরা। ইতিমধ্যে ৫ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন তারা। আরও ১০ হাজার পরিবারকে সহায়তার প্রস্তুতি চলছে। যদিও ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে গিয়ে বিরূপ পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হয়েছে এই ত্রাণযোদ্ধাকে। একজন পুলিশ সদস্যের খারাপ আচরণে কষ্ট পাওয়ার অনুভূতি ফেসবুকে শেয়ারও করেছিলেন তিনি। তবে ত্রাণ কার্যক্রম থেকে এক মুহূর্তের জন্য সরে দাঁড়াননি। ব্যারিস্টার সুমন, গায়ক তাসরিফ এবং আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মতো আরও অনেকে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। মাদারীপুর থেকে খাদ্যভর্তি ট্রাক নিয়ে বন্যাকবলিত হবিগঞ্জে ছুটে এসেছিলেন একদল তরুণ। 

চট্টগ্রাম থেকে ত্রাণের ট্রাক এসেছে সিলেটে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ান। মহা দুর্যোগের সময়ে নানা শ্রেণি-পেশার এই ত্রাণযোদ্ধাদের প্রতি টুপি খোলা স্যালুট। যারা দুঃসময়ে অসহায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি সিলেট-সুনামগঞ্জ তথা বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।  এই ত্রাণযোদ্ধাদের অকুতোভয় উদ্যোগ যেমন আমাদের চোখে আশার ঝিলিক দেখিয়েছে তেমনি সরকারি ত্রাণের দৈন্য ও প্রশাসনের উঠপাখি নীতি হতাশ করেছে অনেককে। এখন অনেক এলাকায় ত্রাণের জন্য হাহাকার। বানের পানিতে যাদের ঘর ভেসে গেছে তারা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। নানা রোগ দিয়েছে দুর্গত এলাকায়। ২৭শে জুন দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সরকারি ত্রাণ সংকটের বিষয়টি অনেকটা আন্দাজ করা যায়।

  ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১শে জুন দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ত্রাণের আশায় কয়েকশ’ মানুষ কার্যালয়ের সামনের ফটকে ভিড় জমিয়েছেন। অনেকে ত্রাণ না পেয়ে ফিরে গেছেন। চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মনাফ প্রথম আলোকে বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া ত্রাণের পরিমাণ খুবই কম। কাকে রেখে কাকে দেবেন সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি হিসাবে, সিলেট জেলায় বন্যায় ৪ লাখ ১৬ হাজার ৮৫১টি পরিবারের ২১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫১ জন প্লাবিত হয়েছেন। এর বিপরীতে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ১ হাজার ৪১২ টন চাল, ১৩ হাজার ২১৮ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ বানভাসিরা মাথাপিছু ৬৪৫ গ্রাম চাল বরাদ্দ পেয়েছেন। অন্যদিকে একেকজন বানভাসির বিপরীতে প্রায় ১০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এমন পরিসংখ্যানের পর আর বলার অপেক্ষা রাখে না, সিলেটে ত্রাণ অপ্রতুল কিনা। এটা রীতিমতো উপহাস। সরকারি হিসাবে, সিলেট জেলায় বন্যায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৯৫৪টি। 

সর্বশেষ রোববার দুপুর পর্যন্ত সিটি করপোরেশন ও জেলার ১৩টি উপজেলার ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৯ হাজার ৭৭২ জন মানুষ অবস্থান করছিলেন। এসব মানুষদের অনেকের ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বন্যায়। তাদের বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও তারা ফিরতে পারছেন না আশ্রয় না থাকার কারণে। সরকারি ত্রাণের এই দৈন্যতা নিয়ে ক্ষুব্ধ হতাশ স্থানীয়রা। ক্ষুব্ধ সিলেটের প্রবাসীরাও। তারা বলছেন, হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি মজবুত রাখতে সিলেটের প্রবাসীরা ভূমিকা রাখলেও সরকারি ত্রাণের দৈন্যতা তাদের হতাশ করেছে।  বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা। এ জেলার সব ক’টি উপজেলা বন্যাপ্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি। সড়ক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিও হয়েছে এই জেলায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে মঙ্গলবার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বন্যায় মোট ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জেই মারা গেছেন ২৬ জন। বেসরকারি হিসেবে এ জেলায় প্রাণহানি আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।  যদিও জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন গত ২১শে জুন সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, সুনামগঞ্জের বন্যায় হত্যা মামলার এক ফেরারি আসামি ছাড়া কোনো মৃত্যুর সংবাদ তিনি পাননি। 

যদিও তার সংবাদ সম্মেলনের আগে-পরে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এ জেলায় বন্যার কারণে প্রাণহানির সংবাদ প্রকাশ করা হয় নিয়মিত। জেলা প্রশাসকের ওই বক্তব্যে অনেকটা স্পষ্ট তারা ভয়াবহ ওই পরিস্থিতি লুকানোর চেষ্টা করছিলেন না হয় পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারছিলেন না। এখন বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভোগ এবং সংকট নতুন মাত্রা পাচ্ছে। সবচেয়ে বড় সংকট বন্যায় ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়া মানুষদের। তারা আশ্রয়কেন্দ্রেও থাকতে পারবেন না। আবার নিজের ঘরেও উঠতে পারবেন না। এসব পরিবারে হয়তো ছোট শিশু আছে। স্কুলপড়ুয়া আছে। বয়স্ক বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ আছে। এই সব মানুষের পুনর্বাসন উদ্ধার এবং ত্রাণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এ কাজে সরকারকেই মূল ভূমিকায় থাকতে হবে। 

বেসরকারি উদ্যোগ হতে পারে সহায়ক। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের আগে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্রটি সরকারকে জানাতে হবে। এই কাজটি স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের করতে হবে দ্রুততার সঙ্গে। এখানে উটপাখি নীতি কারোই কাম্য নয়। আমরা আশা করবো পুনর্বাসন কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি দেখাবে না প্রশাসন।  বন্যাকবলিত মানুষদের পুনর্বাসনের সঙ্গে কৃষি ও অবকাঠামোগত পুনর্বাসন দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বন্যায় কৃষি ও কৃষিপণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। কৃষক ও কৃষির পুনর্বাসন এবং অবকাঠামো সংস্কারের কাজটিও করতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর পরিদপ্তরকে আগাম প্রস্তুতিও পরিকল্পনা নিতে হবে এখনই। পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং বরাদ্দপ্রাপ্তি নিশ্চিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও সক্ষমতা প্রমাণের চ্যলেঞ্জ গ্রহণ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। 

লেখক: নগর সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদক দৈনিক মানবজমিন।

‘নয় সেকেন্ডে যে কাজ করা যায়, আমলারা তা ৯০ দিন লাগান’|

‘নয় সেকেন্ডে যে কাজ করা যায়, আমলারা তা ৯০ দিন লাগান’June 29th, 2:08pmJune 29th, 2:08pmmasud mdজাতীয়আমলাতন্ত্রের জটিলতা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফের বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, কিছু কিছু বিধি বা আমলান্ত্রিকতা অন্যায় এবং অমানবিক। যে কাজ নয় সেকেন্ডে করা যায়, সে কাজে আমলারা ৯০ দিন লাগান।কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯০ দিনের তিনগুণ সময়ও লাগান। আমলাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আইনকানুন পরিবর্তন করা যাচ্ছে না ‘দুষ্টু আমলাদের চাতুরির’ কারণে।বুধবার(২৯ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আয়োজিত ‘সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।সাবেক এ আমলা বলেন, দুষ্টু আমলাদের ধরা যায় না। তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে যে নিয়মকানুনগুলো আছে- তা কঠোর নয়। এখন সময় এসেছে আইনকানুনের সংস্কারের। তবে সেগুলো পারা যাচ্ছে না।প্রশাসনের অনেক বিধি অপ্রয়োজনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রিটিশরা করে গেছে, যা এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।এগুলোর এখন কোনো বাস্তবতা নেই। কিন্তু অনেক ‘দুষ্টু আমলারা’ এসব বিধান চাতুরির সঙ্গে কাজে লাগাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে এসব বদলানোর, তা সত্ত্বেও এসব পরিবর্তন করা যাচ্ছে না। আইনকে আইন দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য জনগণকে তুষ্ট রাখা হলেও অনেক সময় আমলাতান্ত্রিক আইনের ধারার কারণে সম্ভব হচ্ছে না।এ সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, সংসদ সদস্য এনামুল হক। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রিজওয়ান রহমান, পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ প্যানেল আলোচক হিসেবে অনুষ্ঠানে ছিলেন।

কলম্বিয়ার কারাগারে দাঙ্গায় ৫১ জন নিহত, ২৪ জন আহত

(২ মিনিট আগে) ২৯ জুন ২০২২, বুধবার, ৭:৩৭ অপরাহ্ন

বন্দিদের মধ্যে দাঙ্গা এবং তার জেরে অগ্নিকাণ্ডের ফলে পশ্চিম কলম্বিয়ার শহর টোলুয়ার একটি কারাগারে অন্তত ৫১ জন বন্দি নিহত এবং জেলের রক্ষীসহ ২৪ জন আহত হয়েছেন। সিএনএন জানিয়েছে,  ভোররাতে হঠাৎ দেখা যায় কলম্বিয়ার কারাগারের ভিতরে আগুন লেগেছে।কলম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী উইলসন রুইজ জানিয়েছেন, রাত ২ টোর দিকে  বন্দিদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এক বন্দি ঝগড়ার সময় একটি গদিতে আগুন ধরিয়ে দেয় , এরপরই সেই আগুন জেলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ভুল বুঝতে পেরে বন্দিরা  নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আগুনের শিখা খুব শক্তিশালী ছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের আগমনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এই কারাগারে কম অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা ছোটখাটো সাজা ভোগ করে থাকে। রুইজ জানান ,কলম্বিয়ার কারাগারগুলোয় প্রয়োজনের তুলনায় বন্দিদের ভিড় বেশি । এক একটি কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি বন্দিকে রাখা হয় ।টোলুয়ায় যে কারাগারটিতে আগুন লেগেছিল, সেটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে  ১৭ শতাংশ বেশি বন্দিকে রাখা হয়েছিল। সিএনএন জানিয়েছে এই ঘটনাটি দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে তার সবচেয়ে মারাত্মক ঘটনাগুলির একটি  ।কলম্বিয়া এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলিতে জেলের ভেতর মারামারি এবং দাঙ্গা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ২০২০ সালের মার্চ মাসে, বোগোটার পিকোটা পেনটেনশিয়ারিতে দাঙ্গায় ২৪  জন বন্দি মারা গিয়েছিল কারণ তারা কারাগারের মধ্যে করোনভাইরাস প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে  প্রতিবাদ করেছিল।আগের বছর, ব্রাজিলের একটি কারাগারে ৫০  জনেরও বেশি নিহত হয়েছিল – যার মধ্যে ১৬ জনকে শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল।

২০১৮ সালে ভেনেজুয়েলার একটি কারাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বহু মানুষ নিহত হয়েছিল।

সূত্র : দ্য  প্রিন্ট