ওসি প্রদীপের হাতে হাতকড়া ছবি ভাইরাল

543

রিমান্ডে যাওয়া টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার ১২ দিন পর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হ’ত্যা মা’মলার অন্যতম আসামী টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, আইসি লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিমান্ডে নেয় র‌্যাব। ওইদিন র‌্যাব সদস্যরা কক্সবাজার কারাগার থেকে ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৩ পুলিশকে নিয়ে যায়। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় ওসি প্রদীপ কুমার দাশের হাতে হাতকড়া পরা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

ছবিতে দেখা যায়, প্রদীপের দু’হাতে হাতকড়া পরিয়ে কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে কক্সবাজার কারাগার থেকে তাকে নিয়ে যাচ্ছে র‌্যাব। মূহুর্তের মধ্যে এই ছবিটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করে নানান মন্তব্য করেন। একজন লিখেছেন, এমন একটি ছবি দেখতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। আরেকজন লিখেছেন, লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। জসিম আজাদ নামের একজন ছবিটি পোস্ট করে লিখেছেন, ক্ষমতার সেকাল, একাল। এমডি তারেক রহমান নামের একজন লিখেছেন, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। মহসিন কাজী লিখেছেন, খু’ন আর নির্যাত’নে যে দু’টি হাত দক্ষ, আজ সেই হাতেই হাতকড়া। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান লিখেছেন, শকুনের বাচ্চা তোর ফাঁসি চাই, তোর রক্ষা নেই। ওমর ফারুক চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, যে প্রদীপ ২০৪ জন মানুষকে এভাবে হাতকড়া পরিয়ে ক্রসফায়ার দিয়েছেন, আজকে তার নিজের হাতেই হাতকড়া!

ক্ষমতার দাপট চিরস্থায়ী নয়। আমি, তার ক্রসফায়ার চাই না, তবে তার সর্Ÿোচ্চ শাস্তি চাই। হাবিবুর রহমান লিখেছেন, বর্তমান সময়ের খলনায়ক, ওসি প্রদীপ। আমিন উদ্দিন চৌধুরী আমিন লিখেছেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কথাটি অনেকবারই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু কেউই শিক্ষা গ্রহণ করে নাই।গত ৩১শে জুলাই রাতে, কক্সবাজার- টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শ্যামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নি’হত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি তদন্ত শুরুর পরপরই কক্সবাজারে যান পুলিশের আইজিপি ও সেনাপ্রধান। ৫ই আগস্ট টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার, বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকতসহ ৯ জনকে আসা’মি করে হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করেন নি’হত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন প্রদীপসহ ৭ আসা’মি। ওইদিনই দু’দফার শুনানি শেষে তিন কর্মকর্তার ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এর কয়েকদিন পর বাকি চার পুলিশ সদস্যকে রিমান্ডে দেন আদালত। গত ১৪ই আগস্ট এএসআই লিটনসহ চার পুলিশ সদস্যকে কারাগার থেকে হেফাজতে নেয় র‌্যাব।

তবে বারবার পেছাতে থাকে সাবেক ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দদুলালকে রিমান্ডে নেয়ার প্রক্রিয়া। অবশেষে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার ১২ দিন পর টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, আইসি লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিমান্ডে নেয় র‌্যাব।