ডেসটিনির তদবিরকারীকে বের করে দিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি

6

ডেসটিনি গ্রুপের এমডি ও ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যানের জামিনের শর্ত সংশোধন চেয়ে করা আবেদনের শুনানির বিষয়ে কথা বলতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তাঁর চেম্বারে দেখা করতে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। আর এই ঘটনায় ভীষণ বিব্রত হয়েছেন বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। পরে ওই ব্যক্তিকে নিজের চেম্বার থেকে বের করে দেন তিনি। সেইসঙ্গে এই মামলার শুনানিতে অংশ নিতেও অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের জামিনের শর্ত সংশোধন চেয়ে করা আবেদনের শুনানির একপর্যায়ে এসব কথা জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। তবে শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অপর সদস্যরা হলেন- মো. ঈমান আলী, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও মির্জা হোসাইন হায়দার।

এতে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ডেসটিনির দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জামিন নিতে পারবেন মর্মে আদালতের আদেশ বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। 

শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা বলেন, ‘ডেসটিনির পক্ষে এক ব্যক্তি আমার নিজস্ব চেম্বারে এসে দেখা করে ডেসটিনির বিষয়ে কথা বলতে চায়। এতে বিব্রত হয়ে তাকে বের করে দিয়েছি। তাই এ মামলা শুনানিতে ও বিব্রতবোধ করছি।’

এই কথা বলে মামলার শুনানি করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। ফলে পরে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ শুনানি করেন।   

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগ অর্থ পরিশোধের শর্তে তাঁদের জামিন দিয়েছিলেন। সেই শর্ত সংশোধন চেয়ে তাঁরা আবেদন করেছিলেন। তা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

গত বছরের ২০ জুলাই অর্থ পরিশোধের শর্তে রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসাইনকে জামিন দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। আপিল বিভাগ ওই দুজনের জামিন স্থগিত করে দেন। এ আবেদনের শুনানির একপর্যায়ে আত্মসাৎ করা টাকা জমা দেওয়ার কথা বলেন সর্বোচ্চ আদালত। সে অনুসারে গত বছরের ১৩ নভেম্বর ডেসনিটির পক্ষ থেকে গাছ বিক্রি করে টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।

ওই দিন হলফনামা দিয়ে আদালতকে জানানো হয় যে, তাঁদের কাছে ৩৫ লাখ গাছ আছে। প্রতিটি গাছ আট হাজার টাকায় বিক্রি করে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা দিতে পারবেন তাঁরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামিনের শর্ত পূরণে আপিল বিভাগ দুই আসামি যে কারাগারে আছেন, সেখানে তাঁদের সঙ্গে গাছ বিক্রির সব কাগজপত্রে স্বাক্ষর ও আলোচনার সুযোগ দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। ডেসটিনি ট্রি-প্ল্যান্টেশনের সিইও ড. শামসুল হক ভূঁইয়া এমপির তত্ত্বাবধানে সব কাজ সম্পন্ন হবে। যদি গাছ বিক্রি করে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা দিতে না পারেন, তাহলে নগদ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেবেন তাঁরা। এর অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকে পাঠাতে হবে। এরপর যারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, যাচাই করে তাঁদের কাছে টাকা হস্তান্তরের পর জামিনে মুক্তি পাবেন দুই কর্মকর্তা।কিন্তু কয়েক মাস পরে তাঁরা এ আদেশের সংশোধন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে কারাগারে থাকায় এ শর্ত পূরণ সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তাঁরা। এ আবেদনেরই শুনানিতেই আদালত ডেসটিনির জব্দকৃত অর্থের পরিমাণ তলব করেন।

গত ৩০ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে ডেসটিনির জব্দকৃত স্থাবর-অস্থাবর ৭৮৬ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৪৮৭ দশমিক ৯৩ টাকা সম্পত্তির হিসাব আদালতে দাখিল করা হয়। যার মধ্যে নগদ অর্থ হচ্ছে ১৫৩ কোটি ৮৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫৯২ দশমিক ৯৩ টাকা। এ ছাড়া রয়েছে ১১২টি গাড়ি ।

তিন হাজার ২৮৫ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান ডেসটিনি গ্রুপের সভাপতি লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশিদ ও ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ প্রতিষ্ঠানটির ২২ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় পৃথক দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সালের ৪ মে এ দুই মামলায় অভিযোপত্র দেয় দুদক।

দুই মামলার মধ্যে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লিমিটেডের মামলার অভিযোগপত্রে এক হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

অপর মামলাটি হয় ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন নিয়ে। এই মামলার অভিযোগপত্রে ২১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় ৪৬ জনকে। ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন মামলার আসামি ১৯ জন। দুই মামলার অভিন্ন আসামি ১৪ জন। দুই মামলারই প্রধান আসামি রফিকুল আমিন। দুই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১৫০ জনকে।