উবার, পাঠাও বন্ধের দাবি সিএনজি চালকদের

6

ধর্মঘটের ঘোষণাঢাকা জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আজ রোববার বেশ কিছু শ্রমিক তাঁদের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজধানীর বিআরটিএ ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। ছবি : মোহাম্মদ ইব্রাহিম
অ্যাপনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থায় যাত্রীদের সেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান উবার ও পাঠাও বন্ধের দাবি জানিয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের একটি সংগঠন। দাবি মানা না হলে ধর্মঘটের হুমকিও দেওয়া হয়।

ঢাকা জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আজ রোববার বেশ কিছু শ্রমিক তাঁদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন।

সংগঠনের সদস্য সচিব সাখাওয়াত হোসেন দুলাল নিজেদের দাবি উত্থাপন করে বলেন, ‘দাবি মানা না হলে আগামী  ২৭-২৮ ডিসেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে ধর্মঘট পালন করা হবে। এরপরও দাবি মানা না হলে ১৫ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যাবেন শ্রমিকরা।’

বিআরটিএর অনুমোদনহীন উবার, পাঠাওসহ অন্যান্য অ্যাপনির্ভর যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অটোরিকশা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকনেতা দুলাল।

এর আগেও গত মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। যদিও তাতে কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি এবং অন্যান্য সংগঠনের অটোরিকশার চালকরাও তাতে খুব একটা সাড়া দেয়নি।

অ্যাপনির্ভর যোগাযোগমাধ্যম উবার বন্ধের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে পরে এনটিভি অনলাইনকে সাখাওয়াত হোসেন দুলাল বলেন, ‘উবার ও পাঠাওয়ের কারণে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের উপার্জন কমে গেছে।’

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে চালকদের জন্য পাঁচ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর চট্টগ্রামের জন্য চার হাজার অটোরিকশার দাবিও জানানো হয়েছে।  পাশাপাশি ২০১৭ সালের পরিবহন আইন থেকে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ধারা বাতিলের দাবিও জানানো হয় আজকের বিক্ষোভ থেকে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকরা মিরপুরের ডেন্টাল কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বিআরটিএ বরাবর কোনো স্মারকলিপি দেওয়া হয়নি।  

অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সার্ভিস ‘উবার’ ও ‘পাঠাও’-এর মতো পরিবহন সেবা জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করায় ‘ট্রিপ’ কমে গেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিএনজিচালকরা। তাঁদের ভাষ্য, উবার-পাঠাও কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করছে, যার ফলে সিএনজির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও ট্রিপ পাচ্ছেন না সিএনজিচালকরা। এ কারণে দিন শেষে তাঁদের জমার টাকা পর্যন্ত তোলা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, সিএনজিচালকরা প্রায় জিম্মি করেই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকেন। তবে বর্তমানে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সার্ভিস ‘উবার’ ও ‘পাঠাও’ জনপ্রিয় হতে শুরু করায় সিএনজির চালকদের সেই সুযোগ এখন অনেকটাই কমে গেছে।