Breaking News
Home / বিচিত্র / কলেজ না ডিঙানো আখতার এখন প্রতিভাবান ইঞ্জিনিয়ার!

কলেজ না ডিঙানো আখতার এখন প্রতিভাবান ইঞ্জিনিয়ার!

যশোরের এনায়েত ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী আখতার হোসেন উচ্চমাধ্যমিকে অকৃতকার্য হলেও এখন গাড়ি ও কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরির অন্যতম কারিগর। প্রাতিষ্ঠানিক কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়াই তৈরি করা শিখেছেন বাস-ট্রাকের নানারকম যন্ত্রাংশসহ ৩৫ ধরনের কৃষি ও মোটরপার্টস। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কঠিন শ্রম ও মেধা কাজে লাগিয়ে তিনি এখন তিনটি লেদ কারখানার মালিক।আখতার হোসেন এসব যন্ত্রাংশ বানিয়েই দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাই প্রতিভাবান এই উদ্যোক্তাকে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘বনিক বার্তা-বিআইডিএস প্রতিভাবান উদ্যোক্তা সম্মাননা-২০১৬’ দেওয়া হয়েছে।

এসময় এনায়েত ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ ও ফাউন্ড্রির স্বত্বাধিকারী আখতার হোসেন বলেন, ‘আমি লেখাপড়ায় মনযোগী ছিলাম না। উচ্চ মাধ্যমিকে পাশ করতে পারিনি। পরে বাবার লেদ কারখানায় বসে কাজ শেখা শুরু করি। একপর্যায়ে ধ্যান-জ্ঞান দিয়ে পার্টস বানানো শিখি ও পার্টস বানাতে শুরু করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন পার্টস বানানো শুরু করি তখন যশোরের একটি পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটে গিয়েছিলাম একটি যন্ত্র কিভাবে ব্যবহার করে তা জানতে। কিন্তু সেখানে যন্ত্র ব্যবহার করতে পারে এমন কোনও শিক্ষক ছিলনা। তখন আমি খুবই হতাশ হয়েছিলাম। তাই আমি মনে করি, আমি যদি লেখাপড়াটা করতে পারতাম, তাহলে আরও ভালো কিছু করতে পারতাম। তাই লেখাপড়া শেষ করে এই পেশায় তার আসা উচিৎ।’

আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘আমি জানি না আমি এত বড় মাপের উদ্যোক্তা হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছি। আজ আমাকে সম্মাননা জানানোর পরেই বুঝতে পারলাম।’

তিনি জানান, ১৯৮৬ সালে উচ্চমাধ্যমিকে অকৃতকার্য হওয়ার পর যশোরের আরএন রোডে বাবার গড়া এনায়েত ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপে যাতায়াত শুরু করেন। এসময় গাড়ি ও কৃষির যেসব পার্টস বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো সেগুলোই তিনি নিজে তৈরি করা শেখেন। ২০১০ সালের দিকে স্থানীয়ভাবে বড় গাড়ির পার্টস তৈরি করা শুরু করেন। এরপর আখতার হোসেনকে আর পেছেন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার কারখানায় ১৫টি লেদ মেশিন রয়েছে। যশোর বিসিকে ২৪ কাঠা জমির ওপর রয়েছে একটি কারখানা। এছাড়া যশোর শহরের ক্লোড স্টোর মোড় ও বকচরে আরও দুটি কারখানা রয়েছে।

এসব কারখানায় আখতার হোসেন উৎপাদন করেন গাড়ির ড্রাম, হপর্স, পেসারপ্লেট, ফ্লাইহুইল, গিয়ারবক্স ও মেকানিক্যাল জেকসহ ৩৫ ধরনের কৃষি ও মোটরপার্টস। যেগুলো ১০ বছর আগেও আমদানি হতো ভারত ও পাকিস্তান থেকে। এখন ঈগল পরিবহন, হানিফ পরিবহন, একে ট্রাভেলস ও শ্যামলিসহ বিভিন্ন গাড়ির মালিকরা এনায়েত ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ থেকে নিচ্ছেন। এছাড়া সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে তার উৎপাদিত পার্টস।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত ড. আলী কাজী তৌফিক প্রমুখ।

Facebook Comments
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.