‘ডিবির এএসআইয়ের’ নেতৃত্বে স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধ’র্ষণ

167

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এক এএসআইয়ের নেতৃত্বে নগরীতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধ’র্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত ডিবির এএসআই কিনা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
রবিবার সকালে নগরীর হারাগাছ থানার ক্যাদারের পুল এলাকায় একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আটক করা হয়েছে ভাড়াটিয়া আলেয়া নামের এক নারীকে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্র জানায়, ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলাম। পরিচয়ের সময় রায়হান তার ডাকনাম রাজু বলে জানায় ওই ছাত্রীকে।

সম্পর্কের সূত্র ধরে রবিবার সকালে ওই ছাত্রীকে রায়হান ডেকে নেয় ক্যাদারের পুল এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার ভাড়াটিয়া আলেয়া বেগমের বাড়িতে। সেখানে রায়হান ওই ছাত্রীকে ধ’র্ষণের পর তার আরও কয়েকজন পরিচিত যুবককে দিয়ে ওই ছাত্রীকে ধ’র্ষণ করায়।
এ ঘটনায় ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পুলিশকে বিষয়টি জানালে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তাকে ওই বাড়ি থেকে ভাড়াটিয়া আলেয়া বেগমসহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে এএসআই রায়হানসহ (রাজু) দুজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয়রা জানায়, ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওই বাড়িতে বিভিন্ন সময়ে মেয়ে নিয়ে গিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ আছে।
ছাত্রীর মা বলেন, ‘ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানের সঙ্গে আমার মেয়ে কথা বলতো এবং মাঝেমধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ করতো।’
মা’মলার এক সাক্ষী বলেন, ‘আসামি ধরতে গিয়ে আমার ভাতিজির সঙ্গে পরিচয় এএসআই রায়হানুলের। তারপর থেকেই তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। আমার ভাতিজি তার সঙ্গে কথাবার্তা বলতো।’

এ বিষয়ে রাতে হারাগাছ থানায় মেট্রোপলিটন পুলিশের ‍অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অ’পরাধ) আবু মারুফ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্রীকে দুজন ধ’র্ষণ করেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রাজু নামের একজন পুলিশ সদস্যের কথা জানিয়েছেন সে।’

তিনি বলেন, ‘ওই রাজু ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল কিনা তা নিশ্চিত হতে রায়হানুলকেও পুলিশের জিম্মায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মা’মলার তদন্ত কার্যক্রম এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’