বিনাশুল্কে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে ভারতের তেল পরিবহন শুরু

5

বিনাশুল্কে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে ভারতের তেল পরিবহন শুরু   ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সড়ক পথে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বিনাশুল্কে ভোজ্য তেল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে পরিবহন ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার ভোরে ২৫টন তেল নিয়ে ২টি ট্রাক আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে থেকে ত্রিপুরার আগরতলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।   ১৯৭২ সালের নৌ প্রটোকল চুক্তির ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় শুল্কে ছাড়া এই ভোজ্য তেল নিচ্ছে ভারত।

এই চুক্তির আওতায় এর আগে মানবিক কারণ দেখিয়ে প্রথমে পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রাংশ ও পরে কয়েক দফায় ফ্লায়েস, রড, স্টিল শিট, চাল পরিবহনের পর এবার ভোজ্য তেল নিচ্ছে ভারত।   নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ নভেম্বর দুপুরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দর থেকে ইমামী এগ্রোটেক লিমিটেড এর প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ২২০ টন ভোজ্য তেল নিয়ে ছেড়ে আসে ভারতীয় জাহাজ এমভি শান্তিপুর। গত ২৬ নভেম্বর বিকালে এমভি শান্তিপুর নামে ভারতীয় জাহাজটি আশুগঞ্জ নৌবন্দরের আন্তর্জাতিক জেটিতে নোঙর করে। জেলা কাস্টমস কর্মকর্তা ও নৌবন্দর কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে বুধবার বিকেলে জাহাজটির সিলগালা খোলা হয় এবং ভোজ্য তেল জাহাজ থেকে খালাস করে ট্রাকে উঠানো হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে ২৫টন তেল নিয়ে দুটি ট্রাক কড়া কাস্টমস নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আশুগঞ্জ নৌবন্দর ছেড়ে যায় এবং বিকেলে আখাউড়া স্থলবন্দরে নিয়ে ত্রিপুরায় নিয়ে যাওয়া হয়।    

ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোহাম কমার্শিয়াল এই তেলের এই ভোজ্য তেল পরিবহন করছে। ভারতের কলকাতা থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে তেল পরিবহনে বাংলাদেশের ৪শ’ কিলোমিটার নৌপথ ও ৫০ কিলোমিটার সড়কপথ এবং আশুগঞ্জ নৌবন্দর ও আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবহার করছে ভারত। তবে এসব পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশ ভয়েজ পারমিশন ফি, পাইলট অবস্থান ফি, ল্যান্ডিং ফি, চ্যানেল চার্জ, নিরাপত্তা ফি বাবদ প্রতিটনে ১৯২টাকা পেলেও কোন প্রকার শুল্ক দিচ্ছে না ভারত।   এ ব্যাপারে জেলা রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সহিদ জানান- ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির আওতায় এসব ভোজ্য তেল আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় নেয়া হচ্ছে। এই তেল পরিবহনে বাংলাদেশ ১৯২ টাকা পেলেও কোন প্রকার শুল্ক নেয়া হচ্ছে না।   ইত্তেফাক/জামান