ব্যাংকের গেটে তালা থাকায় পুড়ে মারা গেলেন প্রহরী সেলিম

6

নারায়ণগঞ্জের ইউসিবি ব্যাংকে লাগা আগুনে ব্যাংকের নিরাপ্রহরী সেলিম মিয়ার পুড়ে মারা যাওয়ার কারণ ব্যাংকের বাইরের গেট তখন তালাবদ্ধ ছিল। ভবনটির উপর তলার বাসিন্দারা এমনটাই দাবি করেছেন।

নিরাপত্তা প্রহরী সেলিম মিয়ার(৫০) সহকর্মী নৈশপ্রহরী(নাম জানা যায়নি) এ সময় ছুটিতে ছিলেন। তাই সেলিম মিয়া একাই দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) ভোরে আল জয়নাল প্লাজার বিপরীত পাশে সিটি করপোরেশনের বহুতল মার্কেটে এ আগুন লাগে। এ মার্কেটে ইউসিবি ব্যাংক সহ আরো একটি ব্যাংক রয়েছে। আগুন লাগার পর বহুতল ভবনের বিভিন্ন তলার আতঙ্কিত বাসিন্দারা ১০ তলার ছাদে উঠে আশ্রয় নেন।

জানা যায়, ভোরে যখন ভবনটিতে আগুন লাগে তখন তা দেখতে পান নিরাপত্তারক্ষী সেলিম মিয়া। আগুন দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। ভোরের দিকে মানুষ জেগে উঠে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। কিন্তু ততক্ষণে ভবনে আটকে পড়ে সেলিম মিয়া পুড়ে মারা যান। ব্যাংকের বাইরের গেট তালাবদ্ধ থাকায় তিনি আর বের হয়ে আসতে পারেননি।

ঢাকা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মাসুদুর রহমান আকন্দ জানান, এ আগুন নেভাতে আমাদেরও বেশ বেগ পেতে হয়। কারণ বাইরে থেকে গেটে তালা দেয়া ছিল। তালা খুলে বের হতে না পারার কারণেই মারা যান সিকিউরিটি গার্ড। বোল্ট বাদে ব্যাংকের কাগজপত্রসহ প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে।

নারায়ণগঞ্জের ইউসিবি ব্যাংকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে দমকল বাহিনী
সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড সেলিম (৫০) আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেলিম মিয়ার বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচংয়ের আগ্রাপুরে। তার তিন ছেলে রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স উপ-সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ জানান, সকালে সিটি করপোরেশনের ১০তলা মার্কেটের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মোট নয়টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় নারায়ণগঞ্জের ইউসিবি ব্যাংকে আগুন
ঘন্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় আহত হন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মী আমিনুল।
এ ব্যাপারে ব্যাংকের কেউ কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বাইরের গেটের তালার চাবি ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড সেলিম মিয়ার কাছেই ছিল। তিনি আগুন দেখে আতঙ্কিত হয়ে তাড়াহুড়ো করতে গিয়েই হয়তো চাবি খুঁজে পাননি।

সকালে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে দেখতে পান আগুন লেগে ব্যাংকের অনেক কাগজপত্র এবং আসবাবপত্র পুড়ে নষ্ট গেছে। এ কারণে আপাতত এই শাখার কার্যক্রম চাষাঢ়া শাখা থেকে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন তারা। যেসব কাগজপত্র পুড়েছে সেগুলো কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা পরে জানানো হবে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে তারা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেছেন, ব্যাংকটিতে অনলাইন কার্যক্রম সক্রিয় থাকায় গ্রাহকদের তেমন কোনো সমস্যা হবে না।