যেখানে শিক্ষার্থীরাই খেয়া নৌকার মাঝি

6

যেখানে শিক্ষার্থীরাই খেয়া নৌকার মাঝি রসুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেয়া নৌকার রশি টেনে পারাপার হয়। এপারে থাকা কয়েক শিক্ষার্থী হাঁটু পানিতে নেমে রশি টেনে খেয়াটি এপারে নিয়ে আসে। আবার খেয়ায় থাকা এক শিক্ষার্থী রশি টেনে ওপারে নিয়ে যায়।পর্যায়ক্রমে বাকি সকল শিক্ষার্থীরা খেয়া নৌকা পার হয়ে ওপারে পৌঁছে।

এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শ’ ছাত্র/ ছাত্রী প্রতিদিন নৌকার ওপর নির্ভর করে স্কুলে আসা-যাওয়া করে থাকে।ওই ইউনিয়নের রসুলবাড়িয়া ও মাদারবুনিয়া এলাকার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে মাদারবুনিয়া নামের একটি খাল। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দু’পাড়ের মানুষই নৌকায় পারাপার হয়। তবে নৌকা চালানোর জন্য নির্ধারিত মাঝি নেই। দু’পাড়ে নৌকার সঙ্গে বাঁধা রশি টেনে আসা-যাওয়া করে স্কুল শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন। এসময় রশি টানতে গিয়ে পানিতেও পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী।

প্রায়ই ঘটছে এ ধরনের ঘটনা। জানা গেছে, দুই এলাকায় প্রায় ২-৩ হাজার মানুষের বসবাস। এদের মধ্যে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী রয়েছে দুই শ’। এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাদারবুনিয়া খালে পারাপারের জন্য নৌকা দেওয়া হয়। ওই নৌকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ওইসব শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন।মাদারবুনিয়া গ্রামের হোসেন স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের স্কুলের সব ছাত্র-ছাত্রীকে বাধ্য হয়ে নৌকা চালাতে হয়। প্রায়ই এই নৌকা তলাইয়া যায়। লোকজন আইয়া আমাগো বাঁচায়।’ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জাফর বলেন, ‘ওইসব এলাকা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই শ’ ছাত্র/ছাত্রী নৌকায় স্কুলে আসা-যাওয়া করে। মাঝি না থাকায় ওদেরকেই নৌকা চালাতে হয়।

প্রায়ই শুনি, কেউ না কেউ পানিতে পড়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ওই খালে একটি সেতু নির্মাণ করা আবশ্যক।’রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন সুলতানা বলেন, ‘রসুলবাড়িয়া ও মাদারবুনিয়ার মাঝখানের খালে একটি ব্রিজ (সেতু) নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের। এ বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’ইত্তেফাক/নূহু