ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে হত্যা!

6

ধর্ষণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বাবাকে বলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বেলাশ্বর এলাকার সুবর্ণা আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি ওমর ফারুক গতকাল সোমবার আদালতে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসামি ওমর ফারুকের (১৯) বাড়ি চান্দিনা পৌরসভার বেলাশ্বর এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার বেলাশ্বর এলাকার কোরবান আলীর মেয়ে সুবর্ণার (৭) লাশ থানগাঁও সেতুসংলগ্ন ধানিজমি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ৭ ডিসেম্বর চান্দিনা থানায় মামলা করেন সুবর্ণার মা খাদিজা আক্তার। মামলায় সুবর্ণার সৎমা লাভলী আক্তার ও তাঁর ছোট ভাই দেবীদ্বার উপজেলার বাগুর গ্রামে সালাউদ্দিন সরকারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। ৮ ডিসেম্বর ভোরে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ৯ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় ‘মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা, চান্দিনায় শিশুর লাশ উদ্ধার সৎমা ও মামা গ্রেপ্তার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

পুলিশ এ ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ওমর ফারুককে গত রোববার রাত সাড়ে ১১টায় মুঠোফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে উপজেলার বদরপুর মেহার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ গতকাল জানান, গতকাল বেলা দুইটায় কুমিল্লার আমলি আদালতের হাকিম বিপ্লব দেবনাথের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ওমর ফারুক। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ৬ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুবর্ণাদের বাড়ির পাশে প্রাইভেট কার পরিষ্কার করছিলেন ওমর ফারুক। এরপর সুবর্ণাকে ঘোরানোর কথা বলে গাড়িতে তোলেন তিনি। এরপর তিনি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দেন। এরপর বাবার কাছে বলে দেবে বলে হুমকি দিলে তিনি তাকে আরএনআর ব্রিকস ফিল্ডের কাছে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ইটভাটার পশ্চিম পাশে সেতুর পশ্চিমে মাস্টারবাড়ির খালের পাড়ে ফেলে দেন। তখন বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ওমর ফারুক তাঁর আরেকটি মুঠোফোন নম্বর থেকে সুবর্ণার বাবা কোরবান আলীর কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ গতকাল প্রথম আলোকে আরও বলেন, জবানবন্দি দেওয়ার পার আদালতের বিচারকের নির্দেশে ওমর ফারুককে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।