Breaking News
Home / অর্থনীতি / ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সেরা ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সেরা ব্যাংক

বাংলাদেশের বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’কে নিয়ে একটি নিবন্ধ স্থান পেয়েছে বাণিজ্যবিষয়ক বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস এশিয়ার জুলাই সংখ্যায়। তাতে ব্যাংকটিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে লাভজনক ব্যাংক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় দেশের অন্যতম ‘বেস্ট পারফর্মিং ব্যাংক’ বা সেরা কম্পানি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

সাক্ষাৎকারনির্ভর নিবন্ধটিতে ফোর্বসের নিজস্ব কোনো পরিসংখ্যান বা জরিপ স্থান পায়নি। এতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মান্নানের সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার গ্রহীতা সামির আহমাদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সাক্ষাৎকার রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শতাব্দী প্রাচীন ফোর্বস ম্যাগাজিনের ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রধানত তৈরি পোশাক শিল্প এবং বিদেশি রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। উভয় খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ইসলামী ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনমুখী ও শ্রমঘন শিল্প খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং লাখো অভিবাসীর কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠাতে নিরাপদব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইসলামী ইস্পাত ও বিদ্যুৎ খাতের মতো বড় ও ভারী শিল্পে অর্থায়নের পাশাপাশি দেশের সুষম উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে প্রতিনিধিত্বকারী অবদান রাখছে ইসলামী ব্যাংক। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নেও ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি পাঁচ বছরে ইসলামী ব্যাংকের আমানত তিন গুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহক সংখ্যা এক কোটি সাত লাখের বেশি। বিদেশি রেমিট্যান্সের ২৭ শতাংশ এবং দেশের এসএমই খাতের ২৩ শতাংশ এককভাবে পরিচালনা করে এই ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৯৩০ কোটি ইউএস ডলার; যা এলিড ব্যাংক ইন পাকিস্তান বা এশিয়া কমার্শিয়াল ব্যাংক ইন ভিয়েতনামের সম্পদের কাছাকাছি।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়নে ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে পরিপালনকারী (মোস্ট কমপ্ল্যায়েন্ট) ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংকের পরিধি অনেক বেড়েছে। তা সত্ত্বেও এই ব্যাংক তামাকের মতো ক্ষতিকর এবং হারাম কোনো খাতে অর্থায়ন করে না। সার আমদানিতে অর্থায়ন করলেও তামাক চাষের জন্য যে সার আমদানি হয় তাতে বিনিয়োগ করে না এই ব্যাংক।

সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, সাত বছর দায়িত্ব পালনকালে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশের ৫৬টি ব্যাংকের বেশির ভাগেরই মন্দ ঋণ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও কার্যত অদক্ষতার সমস্যায় আক্রান্ত। কিন্তু যে কতিপয় ব্যাংকে এই সমস্যাগুলো নেই ইসলামী ব্যাংক তাদের একটি।

নিবন্ধটি লিখেছেন ফোর্বসের প্রদায়ক মেঘা বাহরী। তিনি ভারত ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোর বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক নিবন্ধ লিখে থাকেন।

মেঘা বাহরীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মান্নান তাঁর কর্মজীবনের প্রথম দিককার কথা তুলে ধরেছেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ইসলামী ব্যাংকের দূত হিসেবে সৌদি আরবে যান। গোড়ার দিকের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি ভেবেছিলেন একজন দূত হিসেবে তাঁকে সব সময় স্যুট-প্যান্ট পরে থাকতে হবে। তাই স্যুটকেস ভরে অনেক স্যুট নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে দেখলেন, তাঁর সম্ভাব্য গ্রাহকরা কেউ গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করেন, কেউ করেন রাস্তা পরিষ্কার। এঁরা ঘুমায় মাথার নিচে ইট দিয়ে। তিনি স্যুটগুলো স্যুটকেসের মধ্যেই রেখে দিলেন। এর পরিবর্তে, এক রাতে হাতে একটি শর্মা ও কোমল পানীয় নিয়ে রিয়াদের কাছেই একটি ফুটপাতে বসে পড়লেন এবং বাংলাদেশি এক লোকের সঙ্গে গল্পজুড়ে দিলেন। এভাবে তিনি একে একে অনেক বাংলাদেশির সঙ্গে পরিচিত হলেন এবং তাঁদের নাম-ধাম লিখে রাখতে শুরু করলেন। পরে তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর একে একে দুই থেকে তিন হাজার সম্ভাব্য গ্রাহক জোগাড় করে ফেললেন। মান্নানের হাত ধরে ৭০ হাজার প্রবাসী ইসলামী ব্যাংকে হিসাব খোলেন।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে আসার পর আবদুল মান্নানের দায়িত্ব পড়ে নতুন করপোরেট গ্রাহক খুঁজে বের করার। এ সময় তিনি আকিজ গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকিং করতে অনুপ্রেরণা জোগান। তবে আকিজ গ্রুপের বিড়ির ব্যবসাকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মধ্যে আনা হয়নি। এ বিষয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য জোগাড় করতে পারেনি ফোর্বস।

আবদুল মান্নান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের কর্মীরা তাঁদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই বেতন পান। এ ক্ষেত্রে বাজারের সঙ্গে তুলনা করা হয় না। কেননা তাতে তাঁদের মধ্যে লোভের জন্ম হতে পারে।

আবদুল মান্নান ঢাকার কাছেরই একটি গ্রাম থেকে উঠে আসা ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রথম জীবনে সাংবাদিক ছিলেন। বর্তমানেও তিনি ইতিহাস ও ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে লিখে যাচ্ছেন। ২০১০ সাল থেকে প্রধান নির্বাহী হিসেবে বছরে এক লাখ পাঁচ হাজার ডলার করে বেতন নিচ্ছেন তিনি।

আরএসএ ক্যাপিটালের (ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার গ্রহীতা) প্রতিষ্ঠাতা সামির আহমাদ বলেন, এই ব্যাংকটির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো আস্থা। বেশির ভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এই আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সফল হয়েছে।

 

Facebook Comments

Leave a Reply