Home / বিশেষ প্রতিবেদন / ‘সাংবাদিকরা না থাকলে আ’লীগের লোকজন আমাকে মেরে ফেলত’

‘সাংবাদিকরা না থাকলে আ’লীগের লোকজন আমাকে মেরে ফেলত’

গেল ৫ জানুয়ারি বিএনপির গণতন্ত্র হত্যা দিবসে বরিশালে বিএনপির কালো পতাকা মিছিলের প্রস্তুতির সময় ক্ষমতাসীনদের নারীদের উপর হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের ছবি বিভিন্ন মিডিয়াসহ সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশের পর সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠে। এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের পক্ষ থেকেও দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তেমন একজন নির্যাতনের শিকার বিএনপির নারী নেত্রী বরিশাল মহানগর বিএনপির সহশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আফরোজা খানম রোজির বাসায় উপস্থিত হয়ে মুখোমুখি কথা বলেন, ‘পরিবর্তন ডটকম’ বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি- জসিম উদ্দিন।

পরিবর্তন ডটকম : ৫ জানুয়ারি বিএনপির দলীয় কর্মসূচি প্রস্তুতির সময় কতিপয় লোকজন আপনার উপর হামলা ও নির্যাতন করে আহত করেছে এমন ছবি ও সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। এখন আপনি কেমন আছেন?

আমি ভাল নেই। পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের অন্তত ৪০/৫০ জন সন্ত্রাসী আমার উপর হামলা করে মারধর করেছে। এখন সারা শরীর ব্যথা অনুভব করছি। আমার পা ফেটে গেছে, ঘার ফুলে গেছে এবং মাথায় আঘাত পেয়েছি। আমি শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়েছি। এখনও ঘুমের মধ্যে আঁতকে উঠি, তাই ঘুম হয় না। ঘুম না আসায় চোখের নিচের অংশ কালো হয়ে গেছে। এছাড়া মোবাইলে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি।

পরিবর্তন ডটকম : একজন নারী হওয়ায় আপনার উপর যে হামলায় হয়েছে এই বিষয়টি কিভাবে দেখছেন।

একজন নারীর উপর যারা নির্যাতন চালাতে পারে তারা সামাজিক জীব না। এরা আওয়ামী লীগ সরকারের অবৈধ সন্তান। তা না হলে একজন নারীর ওপর এ ধরনের আক্রমণ করতে পারত না। এটা একটা বর্বর হামলা ছিল। আমাকে মারতে মারতে রাস্তায় ফেলে দিল। তারপরও তারা ক্ষান্ত হয়নি। সাংবাদিকরা না আসলে আমাকে বোধ হয় মেরে ফেলা হত।

পরিবর্তন ডটকম : আপনার উপর কিভাবে হামলাটা শুরু হয়েছিল?

পুলিশের সহযোগিতায় আমার ওপর হামলা হয়েছে। আমি বিএনপি কার্যালয়ের মধ্যে নেতা-কর্মীদের সাথে অবস্থান করছিলাম। এসময় পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলে আমার কোমরে এক মহিলা পুলিশ ঝাপটে ধরলো এবং দুই হাতে দুজন পুলিশ শক্ত করে ধরলো এবং আগে ও পিছে পুলিশ ছিল। এরপর ৫০ গজ যাওয়া মাত্র আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা দৌড়ে আসলে পুলিশ আমাকে ছেড়ে দেয়। এ সময় আমি দৌড়ে একটি গলির মধ্যে ঢুকতে চাইলে আমাকে ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ৪০/৫০ জনে শুরু করে দিল কিল, ঘুষি ও লাথি। এক পর্যায়ে আমি উঠে দাড়াতে চাইলে আমার চুল ধরে চাপা মাইর দেয়। আমি ক্ষণিক সময় জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এরপর আমার কানে ভেসে আসে- সাংবাদিকরা যাতে ছবি না তোলে। তখন আমি ভয় পেয়ে যাই। হয়ত আমাকে মেরে ফেলা হবে। আমি জোড়ে জোড়ে চিৎকার করি তবে কোনো পুলিশ আমাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। পরে এক মুরব্বি আমাকে একটি রিক্সায় উঠিয়ে দেয়। তবে আমি নিশ্চিত সাংবাদকিরা না থাকলে আমাকে মেরে ফেলা হত।



পরিবর্তন ডটকম : আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তদন্ত করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। ওরা বড় বড় ভাষণ দিচ্ছে। অথচ এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল এখন পর্যন্ত কেউ খোঁজ খবর পর্যন্ত নিল না। অন্তত একটা প্রতিবাদ বা নিন্দা জানানো যেত। এমনকি প্রশাসন থেকেও কেউ খবর নেয়নি। হামলাকারীরা তো চিহ্নিত সন্ত্রাসী। ওদের গ্রেফতার করা যেত।

পরিবর্তন ডটকম : আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন এ ঘটনা তাদের দ্বারা হয়নি। বিএনপির গ্রুপিংয়ের জেরে নিজেদের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে।

এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমাদের উপর কারা হামলা করেছে তার প্রমাণ বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনের ফুটেজে রয়েছে। যারা হামলা করেছে তাদের ছবি এসেছে। আমার উপর যারা হামলা করেছে তারা আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। যাদের মধ্যে তিন-চারজনকে আমি চিনি। তবে তাদের নাম ঠিকানা জানা নেই।

পরিবর্তন ডটকম : এ ঘটনায় আপনি বিচার দাবি করছেন কি না?



এত বড় একটা ঘটনার বিচার চাইব না! অবশ্যই বিচার দাবি করছি। তবে আওয়ামী লীগ থেকে আশা করি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইচ্ছা করলে বিচার করতে পারেন- কিন্তু আমার বিশ্বাস, তিনি তা করবেন না। তবে বিএনপির সভানেত্রী খালেদা জিয়া ও সিনিয়র সভাপতি তারেক রহমানের কাছে আমার আবেদন, তারা যেন আমার এই অপমান ভুলে না যায়।

পরিবর্তন ডটকম : আপনি বলেছিলেন আপনাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কারা আপনাকে হুমকি দিচ্ছে বলে মনে করেন?

যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারাই আমাকে হুমকি দিচ্ছে বলে মনে হয়। ঘটনার পরের দিন সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে একজন আমাকে হুমকি দিয়েছে। আমি নাকি ঝামেলা তৈরি করার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। তারা নাকি আমার বিরুদ্ধে লিখবে। এছাড়াও বিভিন্ন মোবাইল নাম্বারে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন জনে বিভিন্ন রকম কথা ছড়াচ্ছে। আমি এখন ভয় ও অস্বস্তির মধ্যে আছি। তাই আমি ঢাকায় চলে যাচ্ছি। সেখানে মামার বাড়িতে নিরিবিলি কিছুদিন থাকব। সুত্র পরিবর্তন ডটকম

Facebook Comments