বাংলাদেশে নিরাপত্তা আতঙ্কে সাবেক সেনা কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা

983

বাংলাদেশের এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিরাপত্তা আতংকে দিন কাটাচ্ছেন অভিযোগ করে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অজ্ঞাত অস্ত্রধারী লোকজন তার বাসস্থান ঘিরে রেখেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছেন তিনি।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা, লে. জেনারেল (অব.) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ওই চিঠিতে জানান, গত ১৪ জুলাই থেকে তার ডিওএইচএস বারিধারা বাড়ির আশেপাশে বেসামরিক পোশাকে অজ্ঞাত অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অবস্থান করছে। তারা বাড়িতে প্রবেশ করে নিরাপত্তা গার্ড ও ড্রাইভারদেরকে হুমকি দিচ্ছে।

তিনি আরো লিখেন, স্থানীয় থানা ও ডিওএইচএস পরিষদ থেকে তার স্ত্রী জানতে পারেন যে এরা কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নয় এবং এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। ফলে তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ভুগছেন।

রানাপ্লাজা ধসের মর্মান্তিক ঘটনার পর উদ্ধার কর্ম পরিচালনার জন্য সুপরিচিত ওই সেনা কর্মকর্তা জানান যে তখনই তার নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যা ধরা পড়ে। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রায় ১৫ দিন বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটেছে।

এছাড়া কোভিড-১৯ পরীক্ষা ও সুচিকিৎসার জন্য সিএমএইচ-এ যাওয়ার প্রয়োজন হলেও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় তিনি যেতে পারছেন না।

চিঠিতে তিনি লিখেন, “একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা হিসেবে আমার প্রাপ্য চিকিৎসা সেবা সেনাবাহিনীতে সুদীর্ঘ ৪০ বছরের অর্জন। একজন নাগরিক হিসেবেও আমি চাকরি, বাসস্থানে নিরাপদে বসবাস ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রাখি।”

হাসান সারওয়ার্দী আরো অভিযোগ করেন যে অবসর গ্রহণের পর তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চুক্তিভিত্তিক চাকরি নিয়েছিলেন। কিন্তু সেনাসদর থেকে চাপ দিয়ে এই চাকরি চুক্তি বাতিল করতে ওই কোম্পানিকে বাধ্য করা হয়।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজের পেশাগত জীবনের অভিভাবক উল্লেখ করে তিনি “জীবনের শেষ সময়ে পরিবারের সাথে নিজ গৃহে নিরাপদে অবস্থান ও সুচিকিৎসা পেতে” প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Loading...