Breaking News

লেবাসের আড়ালে বহুমুখী প্রতারক ভন্ড কাজী এরতেজা হাসান, অবশেষে গ্রেফতার

লেবাসের আড়ালে বহুমুখী প্রতারক ভন্ড কাজী এরতেজা হাসান, দেখুন ভিডিওতে,

দৈনিক ভোরের পাতা পত্রিকার সম্পাদক ও এফবিসিসিআই পরিচালক ড. কাজী এরতেজা হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) রাতে গুলশান -২ অফিস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের ভাই সাইফুল ইসলাম দায়েরকৃত প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খিলক্ষেত থানার মামলা নং- ১৪ তাং-১০-০১-২২।
ওই মামলার এজাহারে এরতেজা ছাড়াও আসামি আরও ৩জন। আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ, রিয়াজুল আলম ও সেলিম মুন্সী।

জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় পিবিআই তাকে গ্রেফতার করেছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ড. এরতেজাকে গ্রেফতারের পর ধানমন্ডিতে নেওয়া হয়েছে। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ড. কাজী এরতেজা একাধারে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এবং এফবিসিসিআই পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

ভোরের পাতা সম্পাদকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও মাস্তানির গুরুতর অভিযোগ

দৈনিক ভোরের পাতা পত্রিকার সম্পাদক কাজী এরতেজা হাসানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন পত্রিকাটি থেকে প্রতারিত সংবাদকর্মীরা।

বুধবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উভয় অংশে এরতেজা হাসানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতারিত সংবাদকর্মীরা এ অভিযোগ করেন।
প্রতারিত সংবাদকর্মীরা বলেন, ভোরের পাতা সম্পাদক কাজী এরতেজা হাসানের ন্যক্কারজনক প্রতারণা সংবাদপত্র শিল্পকে কলুষিত করেছে। অনেক সংবাদকর্মীকে বেতনের খাতায় স্বাক্ষর নিয়ে তাদের বেতন না দিয়ে অফিস থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি ও তার পালিত সন্ত্রাসীরা।

এরতেজা হাসানকে মুখোশধারী ভণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে প্রতারিতরা জানান, বেতন চাইতে গেলে এরতেজা হাসান অস্ত্রের মুখে শারীরিক নির্যাতন করেন। অনেককে বকেয়া বেতনের জন্য অফিসে ডেকে নিয়ে খাতায় স্বাক্ষর দিতে বলা হয়। স্বাক্ষর দেওয়ার পরই এরতেজা হাসান ও তার সন্ত্রাসীরা বেতন না দিয়ে জোরপূর্বক অফিস ত্যাগে বাধ্য করেন।

সম্প্রতি দৈনিক ভোরের পাতা পত্রিকার রিপোর্টার, সাব এডিটর ও কম্পিউটার অপারেটরসহ প্রায় ৩০ জন সংবাদকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তারা সবাই এরতেজা হাসানের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এরতেজা কথিত ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার উন্নয়ন কমিশন’ এর চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও ভোরের পাতায় দেড় থেকে দুই বছর ধরে কর্মরত সংবাদকর্মীদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি দেননি। এ অতিরিক্ত কাজের জন্য তারা কোনো ওভারটাইমও দেয়নি। ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী সব সুবিধা ভোগ করার পরও সে অনুযায়ী কাউকেই বেতন দেওয়া হয়নি পত্রিকাটিতে। কখনো দেওয়া হয়নি উৎসব ভাতা। এর উপর আছে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে বা যানজটে পড়ে কোনো সংবাদকর্মী যদি আধঘন্টা বা একঘন্টা দেরি করে অফিসে আসে, তাহলে তার ওই একদিনের বেতন কেটে নেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে দৈনিক ভোরের পাতায়।

দৈনিক ভোরের পাতার সংবাদকর্মীদের প্রতিমাসের বেতন অন্তত দুইমাস পরে দেওয়া হয়। নিয়মানুযায়ী কেউ প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে চাইলে ওই দুইমাসের বেতনের মায়া ত্যাগ করেই তাকে চাকরি ছাড়তে হচ্ছে।
পাশাপাশি কাজী এরতেজা হাসানের বিরুদ্ধে নিজেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের লোক দাবি করে সবসময়ই প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ভয়ভীতি দেখানো এবং ভোরের পাতায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে দূর্ব্যবহার ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এরতেজা হাসানের এসব অন্যায়ের প্রতিকার পাওয়ার লক্ষ্যে প্রতারিত সংবাদকর্মীরা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) এর উভয় অংশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এখন তারা মামলা দায়েরসহ অন্য কর্মসূচির প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

Check Also

আমরাই টিপে দিচ্ছি, কষ্ট করা লাগবে না

ভোটকেন্দ্রের একটি কক্ষের চারপাশে পায়চারি করছেন নৌকার এজেন্ট দাবিদার পাঁচজন। অন্য প্রার্থীদের কোনো এজেন্ট নেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.