Breaking News
Home / স্বাস্থ্য / হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় যেসব খাবার

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় যেসব খাবার

আমাদের চারপাশে এমন অনেক খাবার আছে যেগুলো খেলে রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে, হার্ট ভালো থাকে। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে এসব খাবার যু্ক্ত করা গেলে হৃৎপিণ্ডের সুস্থতার পাশাপাশি লাভ করা যাবে সুস্থ জীবন।কার্ডিওভাসকুলার হেলথ নিয়ে যারা সচেতন তারা বেছে নিতে পারেন নিচে উল্লেখিত খাবারগুলো।

 

গ্রিন টি : নিয়মিত চা পানের অভ্যাস আপনাকে মানসিকভাবে সতেজ ও চাঙা রাখবে। স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ব্ল্যাক টির চেয়ে গ্রিন টি বেশি উপকারী। দিনে আপনি যদি অন্তত চার কাপ গ্রিন টি পানের অভ্যাস করেন, তবে আপনি স্ট্রোক ও কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের ঝুঁকি থেকে ২০% মুক্ত থাকবেন।

 

কফি: যারা নিয়মিত কফি পান করেন তাদের হার্ট অ্যাটার্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় কম থাকে। দিনে ৬ কাপ কফি পান করা ভালো। তবে যারা অন্তত দুই কাপ কফি পান করবেন তারাও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে কিছুটা মুক্ত থাকতে পারবেন। তবে সন্ধ্যার পর কফি পানে রাতে ঘুমে সমস্যা হতে পারে।

 

বাদাম: একসময়ে অনেকে বাদাম খেতে চাইতেন না। কারণ বাদামে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফ্যাট। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, বাদামে রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন ই এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়া বাদাম খেলে হার্ট ভালো থাকে।

 

ওলিভ অয়েল : অলিভ অয়েলে রয়েছে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করে এবং রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। দিনে চার টেবিল চামচ ওলিভ অয়েল স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৩০% হ্রাস করে। এ ছাড়া রান্না কিংবা সালাদ-এ অলিভ বা জলপাই যুক্ত করে অসাধারণ ফ্লেভার ও স্বাদ।

 

আলু: আলুতে রয়েছে পটাশিয়াম। যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে দারুণ কাজ করে। আলু হতে পারে সুস্থ হৃৎপিণ্ডের জন্য অন্যতম খাবার। বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে আলু থাকলেও আলুকে গবেষকরা জাঙ্কফুডের তালিকায় ফেলতে নারাজ। এ ছাড়া আলুতে ফ্যাটের ঝামেলা নেই।

 

টমেটো : আলুর মতো টমেটো এখন ১২ মাসই পাওয়া যায়। রান্না কিংবা সালাদ সবকিছুতেই ব্যবহার উপযোগী টমেটোতে রয়েছে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিকোপেন। লিকোপেন হচ্ছে ক্যারোটিনয়েড, যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরে রক্তসঞ্চালন ভালো রাখে।

 

ডার্ক চকলেট: চকলেট খেলে হার্ট ভালো থাকে। এ কথাটি মোটামুটি অনেকেরই জানা। তবে সব চকলেট খেলেই যে হার্ট ভালো থাকবে কথাটি ঠিক তা নয়। যেসব চকলেটে ৬০-৭০% কোকা আছে সেসব চকলেট খেলে উপকার পাবেন। ডার্ক চকলেটে আছে পলিফেনলস, যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। মিল্ক চকলেট এবং ক্যান্ডিবারে তা নেই।

 

স্ট্রবেরি : সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে ২৫ থেকে ৪২ বছর বয়সী নারীরা যারা নিয়মিত অল্প হলেও স্ট্রবেরি এবং ব্লুবেরি খান, তারা অন্যদের তুলনায় ৩২ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের কম ঝুঁকিতে থাকেন। এসব খাবারে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। কালো জামও এ ক্ষেত্রে উপকারী।

 

টকজাতীয় ফল: লেবু, আঙুর, কমলায় রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি। যারা ফলের জুস খেতে পছন্দ করেন তাদের খেয়াল রাখতে হবে জুসের সঙ্গে যাতে অতিরিক্ত চিনি দেওয়া না হয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের এ হচ্ছে ঘরোয়া উপায়।

 

সয়া দুধ : সয়া পণ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার পলিসেচ্যুরেটেড ফ্যাট। যেটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এ ছাড়া রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল। সয়া প্রোটিন এলডিএল বা রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরেলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। খাবারে প্রোটিনের মাত্রা যোগ করতে সয়া পণ্য হতে পারে একটি ভালো উপায়।

Facebook Comments

Leave a Reply