ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মমতা দাবি বিজেপি নেতার

7

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ধর্ম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিজেপির রাজ্য নেতা জয় ব্যানার্জি। গতকাল শুক্রবার হুগলির ত্রিবেণী বাসস্ট্যান্ডে দলের এক সভায় এককালে টলিউড কাঁপানো এই অভিনেতা প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আমি বুঝতে পারি না দিদি কোন জাতের? গোপনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মমতা দাবি এই বিজেপি নেতার।

প্রশ্ন তোলার কারণ হিসেবে পুরীর মন্দিরে মমতা ব্যানার্জিকে কিছুক্ষণের জন্য ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে সামনে এনেছেন তিনি। জয়ের প্রশ্ন, তিনিও তো ব্যানার্জি। কই তাঁকে তো পুরীর মন্দিরে গেলে আটকানো হয় না! তাহলে মমতাকে কেন আটকানো হল জানতে চেয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীর ধর্ম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে অ-হিন্দু দর্শনার্থীদের রেজিস্ট্রারে রাহুলের নাম নথিভুক্ত হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেই প্রসঙ্গও এদিন টেনে এনেছেন বিজেপি নেতা জয়। তাঁর বক্তব্য, গুজরাটে ভোট পাওয়ার জন্যই মন্দিরে মন্দিরে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। আর তারপরই মমতার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ইফতার পার্টিতে মমতার উপস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, সিন্ডিকেটের টাকায় আয়োজিত ইফতার পার্টিতে যাওয়া পাপ।

এরপরই মমতার ধর্ম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন জয়। প্রশ্ন তোলেন মমতা আদৌ হিন্দু কি না তা নিয়ে। জয়ের কথায়, প্রচারের লোভে পূঁজা করা, নমাজ পড়া মানুষ মেনে নেবেন না। উল্লেখ্য ওই সভায় সংখ্যালঘু পরিবারের ২৫০ জন বিজেপিতে যোগদান করেন।
বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল বলে মমতা ব্যানার্জি প্রায়ই সমালোচনা করেন। এদিন সেই প্রসঙ্গ উঠে আসে জয় ব্যানার্জির ভাষণে। তিনি জানতে চান, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কোনও অশান্তি হয় না। অথচ পশ্চিমবঙ্গে বাদুড়িয়া, বসিরহাটের ঘটনা ঘটে কীভাবে? তাহলে বিজেপিকে কেন সাম্প্রদায়িক দল বলা হবে, সেই প্রশ্নও এদিন তিনি তুলেছেন। কোনও অভিযোগ না পেয়ে বিজেপি সম্পর্কে এসব বলা হয় বলেও তিনি এদিন মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নিয়ে তৃণমূলের সরকার দুর্নীতি করেছে বলেও তাঁর অভিযোগ।

অন্যদিকে কলকাতার ডিজি বিড়লা স্কুলে শিশুপড়ুয়ার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের তীব্র নিন্দা করেছেন। এই ঘটনা বাংলার পক্ষে লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেছেন, রাজ্য সরকার এই স্কুলকে পথে আনতে না পারলে, কেন্দ্রীয় সরকার এই স্কুল চালাবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করাটাই আসল বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

সূত্র: কলকাতা টোয়েন্টিফোর।