জীবনে কখনো এতো আনন্দিত হই নি: আরশাদ মাদানি

8

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী বলেছেন, আমি এ দুই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। ধন্যবাদ জানাই। সুপ্রিম কোর্ট তার ঐতিহ্য অনুযায়ী আইনের শাসন ও আইনী স্বচ্ছতার স্বাক্ষর রেখেছে। এ রায়ের ফলে মুসলিম সমাজের ভয় দূর হবে এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গতকাল জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রেস সেক্রেটারি ফজলুর রহমান কাসেমি কর্তৃক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রায়ের ব্যাপারে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাইয়েদ আরশাদ মাদানি বলেন, আজ আমি যতোটা আনন্দিত হয়েছি, আমার সাংগঠনিক জীবনে আর কখনো হই নি। আল্লাহর অনুগ্রহে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ও তার সেবক ৪৮ লাখ হিন্দু ও মুসলিমের আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এ সৌভাগ্য আমার পরকালীন মুক্তির উপলক্ষ্য হবে বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সমাজে যেখানে ঘৃণার রাজনীতি বিস্তৃত হচ্ছে সেখানে সুপ্রিম কোর্টের রায় এ কথার প্রমাণ আগুনে পানি ঢালার লোকও আছে।

জমিয়ত নেতা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় ন্যায়বিচারেরই বিজয়। এর ফলে ভারতে; বিশেষত আসামে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হবে। ভবিষ্যতে কল্যাণের দরজা খুলে দিবে। সুপ্রিম কোর্টের উপর মানুষর আস্থা বাড়বে।

সাথে সাথে তিনি মামলার আইনজীবীদেরও ধন্যবাদ জানান সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করার জন্য।

আসাম নাগরিকত্ব মামলায় ২টি বিষয় আদালতে বিচারাধীন ছিলো৷ এক: আসাম সরকার বলে আসছিলো যে, নাগরিকত্বের জন্য পঞ্চায়েত সার্টিফিকেট যথেষ্ট নয়৷ আদালত এটাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখান করেছেন৷

দ্বিতীয় বিষয় ছিলো, আসামের মুসলিমগণ ২য় স্তরের নাগরিক হিসেবে গণ হবে৷ এটাও আদালতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে৷ আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ভারতে ‘২য় স্তরের নাগরিক’ বলতে কোনো পরিভাষা নেই৷

উল্লেখ্য, আসামে এক নতুন আইনে মুসলিম নাগরিকত্ব নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিলে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ(এম) শুরুতেই আইনিভাবে লড়াই শুরু করে৷ পরবর্তীতে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদান্র নেতৃত্বাধীন জমিয়তও আদালতে আপিল করে দুই জমিয়ত এক সঙ্গে কাজ করে৷

মামলা চলা কালেই দিল্লিতে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানির এক সেমিনারে আসামের মুসলিম নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিল করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে_এমন বক্তব্যে পুরো ভারতে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়৷ এমনকি আসামসহ বিভিন্ন জায়াগায় আরশাদ মাদানির বিরুদ্ধে ‘এফআইআর’ও দাখেল হয়৷

মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানি, জমিয়ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ আসআদ মাদানি ও আসামের পার্লামেন্ট সদস্য মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল বলেছেন, এ মামলার বিজয় ঐতিহাসিক৷