Breaking News
Home / ইসলাম / নবীজির প্রেমে হজরত ওয়ায়েস করনির দাঁত ভাঙার গল্পটি সত্য?

নবীজির প্রেমে হজরত ওয়ায়েস করনির দাঁত ভাঙার গল্পটি সত্য?

নবীজির জামা পাওয়া সৌভাগ্যবান মহান তাবেয়ির নাম হজরত ওয়ায়েস করনি। ইয়ামের করন এলাকার বাসিন্দা। নবীজি (সা.) প্রায়ই বলতেন,  ইয়েমেন থেকে আল্লাহর রহমতের সুগন্ধি ভেসে আসছে।সুগন্ধি প্রতীক ছিলেন হজরত ওয়ায়েস করনি। তিনি ইয়ামেনে বসবাসের কারণে হজরত (সা.)কে দেখার সুযোগ পাননি।
নবীপ্রেমিক হজরত ওয়ায়েস করনির গভীর প্রেমসাধনা এই উম্মতের জন্য উদাহরণ। নবীজি সাহাবীদের সঙ্গে আলাপে বলতেন, মনে রাখবে, আমার এক ভক্ত আছে।

 
কেয়ামতের মাঠে রাবি ও মোজার সম্প্রদায়ের ছাগপালের পশম পরিমাণ পাপী উম্মতের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। উপস্থিত সাহাবীরা অস্থির হয়ে গেলেন। আগ্রহের দৃষ্টিতে একজন অপরজনের দিকে তাকাতে লাগলেন। কে এই মহান ব্যক্তি? নবীজি বললেন, তিনি আল্লাহর প্রিয় হজরত ওয়ায়েস করনি।

 
সাহাবায়ে কেরাম অবাক দৃষ্টিতে নবীজির কাছে জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূল্লাহ (সা.) তিনি আপনার সাক্ষাতে আসেননি কেন? নবীজি বললেন, সে আল্লাহ ও আল্লাহর নবীরপ্রেমে গভীর মগ্ন। এই মুহূর্তে কোথাও আসা যাওয়ার স্বাভাবিক অবস্থা নেই।
তাছাড়া হজরত ওয়ায়েস করনির মা বৃদ্ধ ও অন্ধ। মায়ের সেবায় তিনি অধিক মনোযোগী। জীবিকার তাগিদে উটও চরাতে হয়। তিনি আসবেন সময় হলে। তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাবে না। সাক্ষাৎ পাবে শুধু হজরত উমর (রা.) এবং আলী (রা.)।

 
নবীজি (সা.)-এর চিরবিদায়ের সময় নবীজি বললেন, আমার মৃত্যুর পর আমার জামা ওয়ায়েস করনিকে দেবে। আমার সালাম জানাবে। বলবে তিনি যেন আমার গুনাহগার উম্মতের জন্য দোয়া করেন।
অনেক পথ মাড়িয়ে, বহুকাল পর  হজরত ওমর ও আলী দেখা পেলেন হজরত ওয়ায়েস করনির। নবীজির দেওয়া জামা পৌঁছে দিলেন হজরত ওয়ায়েস করনির হাতে। উম্মতের জন্য দোয়া নিবেদন জানালেন দুই সাহাবী।
হজরত ওয়ায়েস করনি মহান এই দুই সাহাবীর পরিচয় পেয়ে হজরত ওমর ও হজরত আলীর হাতে চুমো খেতে লাগলেন। নবীজির জামা পাওয়ার আবেগ ও ভালবাসায় সেজদায় পড়ে গেলেন। কাঁদলেন। কাঁদালেন। আল্লাহর কাছে উম্মতদের জন্য চোখের জলে বুক ভাসিয়ে দিলেন। হজরত ওমর মুগ্ধ ও অভিভূত।

 
অর্ধপৃথিবীর বাদশাহী তার কাছে তুচ্ছ মনে হল। হজরত ওমর বললেন, এমন কেউ আছ যে, একখানি রুটির বিনিময়ে বাদশাহীর দায়িত্ব নিতে পার? এই কথা শুনে ওয়ায়েস করনি বললেন, কে  নিবে এই বাদশাহী।
মন না চাইলে ছুঁড়ে ফেলুন, যার মন চায় সে কুড়িয়ে নেবে। গল্পটি এখানেই শেষ। তবে দুই সাহাবা ও প্রেমিক ওয়ায়েস করনির মাঝে আরও বেশ কথা হয়েছে। ইতিহাস ও হাদিস গ্রন্থে গল্পের সততা আছে।
এবার দাঁত ভাঙার কাহিনী বলি।

 
ঘটনাটি এভাবে বলা হয়, ওহুদ যুদ্ধে যখন নবী (সা.)-এর দাঁত  মোবারক শহীদ হয়। ওয়ায়েস করনি বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি খুবই ব্যথিত হন। নবীজির প্রতি তার অগাধ ভালবাসা তাকে অস্থির করে ফেলে।
ভাবলেন নবীজির দাঁত মোবারক যখন শহীদ হয়েছে তো আমার এ দাঁতের কী অর্থ আছে। তিনি নিজের একটি দাঁত ভেঙে ফেললেন।
চিন্তা করলেন, আমি যে দাঁত ভেঙেছি নবীজির হয়ত এ দাঁত ভাঙেনি, অন্য দাঁত। তা ভেবে তিনি নিজের আরেকটি দাঁত ভেঙে ফেললেন। এভাবে তিনি নিজের সবগুলো দাঁত ভেঙে ফেললেন।
নবীপ্রেমের এই উদাহরণ আমরা বহুবার শুনেছি। কিন্তু জানার বিষয় হলো, এ ঘটনাটি নির্ভরযোগ্য কোন গ্রন্থে পাওয়া যায় নি।কিছু কিছু সুত্রে এই ঘটনাটি এসেছে যা নির্ভরযোগ্য নয়। মিশকাত শরিফের ব্যাখ্যা তা মোল্লা আলী ক্বারী (রাহ.) বলেন, এ ঘটনা প্রমাণিত নয়।

 
(সূত্র : আলমাদিনুল আদানী, আলবুরহানুল জালি ফী তাহকীকি ইনতিসাবিস সুফিয়্যাতি ইলা আলী, পৃ. ১৬৪-১৬৫)।
গ্রন্থে আরও বলা হয়েছে, তবে ওয়ায়েস করনি একজন বড় মাপের তাবেয়ি ও বুজুর্গ ছিলেন। ইয়ামানের অধিবাসী ছিলেন। তিনি৩৭  হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। হাদীস শরীফে এসেছে, ওমর (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ইয়ামান থেকে ওয়ায়েস করনি নামে এক ব্যক্তি তোমাদের কাছে আসবে। ইয়ামানে মা ছাড়া তার  আর কেউ নেই।
তার শ্বেত রোগ  ছিল। সে  আল্লাহর  কাছে দোয়া করলে আল্লাহ  তার রোগ  ভাল করে দেন, কিন্তু তার শরীরের একটি স্থানে এক দিনার অথবা এক দিরহাম পরিমাণ স্থান সাদাই থেকে যায়। তোমাদের কেউ যদি তার সাক্ষাৎ পায় সে যেন তাকে নিজের জন্য ক্ষমা চাইতে বলে।

Facebook Comments
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.