টিস্যুবক্সে বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রসঙ্গে মাউশির বক্তব্য

99

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ব্যবহৃত টিস্যু বক্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছাপানো হয়েছে। এই টিস্যু পেপারগুলো ব্যবহার করার কথা ছিলো শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব)- সহ সব পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের টেবিলে।

এসএমএস টেকনোলজিস নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। প্রতিটি টিস্যু বক্সের দাম ধরা হয়েছে ৫৬ টাকা। বিষয়টি জেনে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি এ নিয়ে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন।এরপর গণমাধ্যমকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে মাউশির পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‌‌‌‘সম্প্রতি কিছু পত্রিকায় টিস্যু বাক্সে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক মুজিববর্ষের লোগো ব্যবহার করা সম্পর্কিত প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে:মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের টিস্যু বাক্সে মুজিববর্ষের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে বলে একটি অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু মাউশি মুজিববর্ষের লোগো সংবলিত কোনো টিস্যু বাক্স ক্রয় করেনি। মাউশির Procurementand Finance উইং থেকে টিস্যু বাক্স কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু কারিগরি নির্দেশে টিস্যু বাক্সে মুজিববর্ষের লোগো ব্যবহারের কথা বলা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গ্রহণ (Receive) কমিটির বক্তব্য: নিয়মানুযায়ী সরবরাহ করার আগে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রহণ কমিটির সদস্যদের নমুনা প্রদর্শন করে। সেই নমুনায় শুধুমাত্র মাউশির লোগো ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীতে www.mujib.100.gov.bd ওয়েব সাইটে স্টেশনারীতে মুজিব বর্ষের লোগো ব্যবহারের কথা অনুযায়ী স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঐ লোগো সম্বলিত কিছু টিস্যু বাক্স মাউশি স্টোরে রেখে যায়। এ টিস্যু বাক্সগুলো সংশ্লিষ্ট Receive Committee গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে এখনো কোনো মিটিং হয়নি। যে কোনো সরবরাহকৃত পণ্য গ্রহণের পূর্বে এ কমিটি সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এ টিস্যু বাক্সগুলো স্টোর রুমে ছিল বলে চাহিদা অনুযায়ী স্টোর কিপার কয়েকটি টিস্যু বাক্স সরবরাহ করে।

বিষয়টি নজরে আসা মাত্র কর্তৃপক্ষ টিস্যু বাক্সগুলো প্রত্যাহার করে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। টিস্যু বাক্সে এ লোগো ব্যবহার সমীচীন না হওয়ায় ইতোমধ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এ লোগো ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় ও উপমন্ত্রী মহোদয় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এদিকে টিস্যু বক্সের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এরপর এ নিয়ে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

তিনি স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘মুজিববর্ষের লোগো অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে যত্রতত্রভাবে প্রিন্ট করার একটি ঘটনা যা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে হয়েছে, তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে এই প্রিন্টের বক্সগুলো বাজেয়াপ্ত করেছি এবং এর পিছনে কে সেটি জানাতে বলেছি। পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়ে থাকলে অবশ্যই শাস্তি পেতেই হবে। আমাদের সমাজ, প্রশাসন, রাজনীতিক পরিমন্ডলের সবখানেই অবিবেচক আর অতিউৎসাহীর কোনো কমতি নাই। পাশাপাশি অপরাজনৈতিক শক্তির দোসররা তো আছেই! এরা চাইবে যে কোনো ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে, বিতর্ক সৃষ্টি করতে। এই চ্যালেঞ্জটি আমাদের আছেই। এই বিশাল প্রশাসনের কোথায় কে কোন বিতর্ক ঘটিয়ে ফেলেছে তা আগে থেকে নিয়ন্ত্রণ কঠিন। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আর ব্যবস্থা নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। সকলের অবগতির জন্য আমরা জানাচ্ছি ‘মুজিববর্ষের’ আনুষ্ঠানিকতা কার্যক্রম, ইত্যাদির দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য একটি জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি আছে। এর প্রধান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। এই কমিটি কর্তৃক নির্দেশিত কাজের বাইরে কিছু করতে চাইলে আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন দুস্থ, গৃহহীন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কল্যানমূলক কিছু করতে, যেমন তাদের জন্য গৃহনির্মাণ। এতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় তার সাধারণ মানুষের জন্য যেই সমান অধিকারের দেশ তিনি রেখে যেতে চেয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের পথে আমরা অনেক দুর এগুতে পারবো। সুতরাং অতিউৎসাহীরা সাবধান!’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই কাজে নানা ভাবে জড়িত ছিলেন মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন), উপপরিচালক (প্রশাসন) ও উপ-পরিচালক (বিশেষ)। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আশার পর বিভিন্ন মহল থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে।

Loading...