১৪০ কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়েছে সাবেক মন্ত্রী লতিফের ছেলেমেয়ে

900

দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে তিনটি ব্যাংক থেকে অন্তত ১৪০ কোটি টাকা নিয়ে ঋণখেলাপি হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা। অর্থ আদায়ে ব্যাংকগুলো করা মামলায় কোর্টে হাজির না হওয়ার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। তবে এর মধ্যেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন লতিফ সিদ্দিকীর পুরো পরিবার।

প্রিন্টিং প্রেস ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসার জন্য মেজেস্টিকা হোল্ডিংস ও ধলেশ্বরী লিমিটেড কোম্পানি নামে দুটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন লতিফ সিদ্দিকীর পরিবারের সদস্যরা। আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং ছেলে অনিক সিদ্দিক ও মেয়ে রাইনা ফারজিন পরিচালক পদে আছেন। এবি ব্যাংকের কারওয়ানবাজার শাখা থেকে মেজেস্টিকার নামে ৪০ কোটি ৭২ লাখ এবং ধলেশ্বরীর নামে ১৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা ঋণখেলাপি রয়েছে। একই কোম্পানির নামে জনতা ব্যাংক থেকে ৫১ কোটি; পদ্মা ব্যাংক থেকে ধলেশ্বরী কোম্পানির নামে ৩০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।

গত বছরের জুনে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ৩শ খেলাপির যে তালিকা প্রকাশ করেন, তাতে মেজেস্টিকা রয়েছে ২১২ নম্বরে। ওই তালিকায় কোম্পানিটির নামে ঋণ দেখানো হয়েছে ৮৫ কোটি টাকা- যা মন্দমানে খেলাপি।

অভিযোগ, লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রভাব খাটিয়ে ২০১১ সালে ওই সব ঋণ নেন। টাঙ্গাইলের কালীহাতি থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

পবিত্র হজ, হযরত মুহাম্মদ (স), তাবলিগ জামাতকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপক নিন্দিত হন তিনি। এর জেরে মন্ত্রিসভার সদস্যপদ থেকে এবং আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকে অপসারিত হন তিনি।

এর পর সংসদ সদস্যের পদ থেকেও পদত্যাগে বাধ্য হন লতিফ সিদ্দিকী। সরকারি জমি অবৈধভাবে বিক্রির দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক); গত বছরের জুনে তাকে কারাগারেও পাঠানো হয়। মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পরই তার ছেলেমেয়েরা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। জানা গেছে, মেয়ে রাইনা ফারজিন বিদেশে লেখাপড়া করে সেখানেই বসবাস করছেন। ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকের খাতায় তারা ঋণখেলাপি।

এর পর সংসদ সদস্যের পদ থেকেও পদত্যাগে বাধ্য হন লতিফ সিদ্দিকী। সরকারি জমি অবৈধভাবে বিক্রির দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক); গত বছরের জুনে তাকে কারাগারেও পাঠানো হয়। মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পরই তার ছেলেমেয়েরা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। জানা গেছে, মেয়ে রাইনা ফারজিন বিদেশে লেখাপড়া করে সেখানেই বসবাস করছেন। ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকের খাতায় তারা ঋণখেলাপি।

তাদের কাছে পাওনা আদায়ে চেক প্রতারণার অভিযোগে এনআই অ্যাক্টে দুটি মামলা করে এবি ব্যাংক। আদালতে হাজির না হওয়ায় গত বছরের ডিসেম্বরে দুটি মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সেই পরোয়ানা হাতে নিয়ে বুধবার তাদের খোঁজে গুলশানের বাসা পর্যন্ত যায় পুলিশ। কিন্তু ওই সময় তাদের বাসায় পাওয়া যায়নি।

Loading...