সিরিয়ার নিদারুণ দৃশ্য, দুজন মা ডাস্টবিনে খাবার খুঁজছেন, কান্না যেন আজ তাদের জীবন সঙ্গী

447

দুজন মা ডাস্টবিনে খাবার খুঁজছেন। যখন ক্যামেরাম্যান ছবি তুলতে শুরু করেছে তখন তাদের একজন কান্না শুরু করেছেন, তাদের এহেন নিদারুণ পরিণতি দেখে।

স্পষ্টত বুঝা যায় দুজনই সিরিয়ার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের নারী। আজ তাঁরা ইউরোপের ডাস্টবিনে উচ্ছিষ্ট খাবার খুঁজছেন। তাঁদের স্বামী, পরিবার পরিজন হয়তো বেঁচে নেই, থাকলেও মানুষের ভিড়ে হারিয়ে গেছে।

এটাই কি সেই ইসলাম –
যখন যাকাত নেয়ার মতো কেউই ছিলো না?
এটাই কি সেই ইসলাম – যখন একজন নারী একাই রাতের আঁধারে স্বর্ণপরিহিতা অবস্থায় মাইলের পর মাইল নিরাপদে চলে যেতো?

আজ মুসলিমদের কী হলো?
এই অবস্থা কেনো হলো?
এমনটি কি হওয়ার কথা ছিলো?

হে মুসলিম শাসকের দল,
হে মুসলিম মুসলিম মিল্লাতের কর্নধারেরা —!
আল্লাহর আদালতে দাঁড়িয়ে এর জবাব তোমাদের দিতে হবেই হবে -!!!!!!!

সিরিয়ার শিশুদের কান্না

যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। এটা পৃথিবীর সব মানুষের স্লোগান। তারপরেও যুগ যুগ ধরে যুদ্ধের ধামামা বেজে চলেছে দেশ থেকে দেশান্তরে। বছরের পর বছর ধরে ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন ও সিরিয়ায় যুদ্ধ চলছে। নিহত হচ্ছে অগণিত বনি আদমের সন্তান। দিনের পর দিন আগুনের লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলছে আরব রাষ্ট্র ও জনপদের পথে প্রান্তর। বিধ্বস্ত হচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও মসজিদ।

আরব রাষ্ট্রগুলোর অতীত ইতিহাস তো এমন ছিল না, তাহলে কেন আজ গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে নাগরিক জীবন? সে বিষয়টি মুসলমানদের ভেবে দেখা দরকার। যে সময়ে সিরীয় শিশুর হাহাকার আর কান্নার কথা লিখছি সে সময়েও ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশে শিশু হত্যার মহোৎসব চলছে।

যেসব রাষ্ট্রে স্বাভাবিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকার কথা ছিল সেখানে শাসক দল বা ব্যক্তির রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফলে নাগরিক জীবন বিপন্ন। আরব বসন্তের ফুলের স্থায়িত্ব গোলাপের পাপড়ির মতো ঝরে রক্তের সাগরে ভাসছে। তারপরেও মুসলিম নামধারী শাসকের ঘুম ভাঙেনি। চিরস্থায়ী শাসক দাবিদার মুয়াম্মার আল গাদ্দাফিকে তাড়াতে গিয়ে লিবীয় জনগণের ওপর স্থায়ী দুর্ভোগের স্টিম রোলার পশ্চিমা গোষ্ঠী প্রয়োগ করছে। নিপীড়ক সামরিক জান্তার আধিপত্যের শিকার হতে হচ্ছে নিরীহ মিসরীয় জনগণকে।

সাদ্দাম হোসেনকে বিতাড়িত করার নামে ইরাকের লাখো মানুষের জীবন বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে, সেখানে এখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অশান্তি আর অরাজকতা। ইরাক বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত শিয়া-সুন্নি দাঙ্গায় হাজারো মানুষের প্রাণ চলে যাচ্ছে না ফেরার দেশে। চির স্বাধীন আফগানিস্তান এখন চিরস্থায়ী যুদ্ধবিগ্রহের দেশে পরিণত।

ফিলিস্তিনের মজলুম মানুষের কান্নার আওয়াজ ইথারে ইথারে ভাসলেও নিশ্চুপ মুসলিম শাসকরা। কাশ্মীরে প্রতিদিন অধিকৃত বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিক অধিকার বিপন্ন। হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে স্বনাগরিকদের বিতাড়ন করছে রাষ্ট্র। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে সফরে গেলে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নির্যাতন বন্ধ করার জোর তাগিদ দিয়েছেন।

অথচ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করার ব্যাপারে টুঁ শব্দও উচ্চারণ করতে পারলেন না। দুনিয়াজুড়ে আধিপত্যবাদীরা সব সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দায় মুসলমানের ওপর লেপন করে দিলেও মুসলিমরা নীরব। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অদ্যাবধি যত যুদ্ধবিগ্রহ হয়েছে তা একশ্রেণীর স্বৈরশাসকের দাম্ভিকতার কারণেই হয়েছে।

কোনো যুদ্ধের ইতিহাস লেখা আমার বিবেচ্য বিষয় নয়। তবে যুদ্ধের কারণে একটি দেশের মানুষের জীবনে কি নির্মমতা নেমে আসে সে বিষয়টি তুলে ধরাই মূলত আমার রচনার লক্ষ্য। সিরিয়ার জনগণের সঙ্গে আমাদের ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। তাতে কি আসে যায়! তারাও তো মানুষ! নিকট অতীতে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ একাত্ম হয়ে কেঁদেছে আয়লানের বাবা আবদুল্লাহর সঙ্গে।

শিশু আয়লানের ছোট্ট দেহটি বেঁচে থাকাকালীন সিরিয়ার জনগণকে নাড়া দিতে না পারলেও তার মৃত্যুর পর সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষের হৃদয়কে সত্যিই নাড়া দিয়েছে। অন্য এক সিরীয় শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার সময় আর্তনাদ করে বলেছিল, ‘আমি খোদার কাছে সব বলে দেব’।

এই আর্তনাদ দুনিয়ার কেউ না শুনতে পারলেও আরশের অধিপতি মহান আল্লাহ ঠিকই শুনেছেন। এরই সাড়ে তিন মাস পর একই বয়সী আরেকটি শিশুর নির্বাক প্রতিবাদ সারা দুনিয়ার ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে দিয়েছে। আয়লান ছোট এক শিশু। তুরস্কের উপকূলে তার মৃত্যু।

কিন্তু জন্ম তার সিরিয়ার কোবানি শহরে। ক্ষমতাসীন বাশার আল আসাদের বোমারু বিমান কোবানির ওপর বোমা নিক্ষেপ করছে। আর অন্যদিকে আসাদবিরোধী মার্কিন মদদপুষ্ট জোটও মেশিনগানের গুলিতে জর্জরিত করছে কোবানি শহর। দিশাহারা লাখো লাখো মানুষ। জীবন বাঁচানোর তাগিদে ছুটছে তারা সীমান্তের দিকে। অনেকে আশ্রয় নিচ্ছে লেবানন অথবা তুরস্কে।

লেবাননে এ ধরনের আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ১১ লাখ অতিক্রম করেছে। আর তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। এই ৪০ লাখ বিতাড়িত মানুষের একটি পরিবার আবদুল্লাহ কুর্দি। শিশু আয়লান কুর্দির বাবা আবদুল্লাহ কুর্দি আর্তনাদ করে বলেছিলেন, ‘আমার সন্তানেরা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শিশু।

ওরা প্রতিদিন আমার ঘুম ভাঙাত। খেলা করত আমার সঙ্গে। এর চেয়ে সুন্দর মুহূর্ত আর কী হতে পারে? এ সবকিছুই হারিয়ে গেছে আমার। কখনো কখনো জীবনের চেয়ে মৃত্যু হয় অনেক শক্তিশালী। মানুষ শোককে শক্তিতে পরিণত করে। শিশু আয়লানের জীবনের বিনিময়ে আশ্রয় মিলেছে হাজারো সিরীয় মানুষের। যে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড পত্রিকা ‘সান’ সিরীয় উদ্বাস্তুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক শিরোনাম করেছে উদ্বাস্তু ঠেকাও বলে সেই-ই সমুদ্রের ঢেউ ছুঁয়ে থাকা আয়লানের ছবি ফলাও করে ছাপিয়েছে। তাতে আবারও প্রমাণিত হলো, নিষ্পাপের মৃত্যু অসহনীয়, অবর্ণনীয়, ক্ষমার অযোগ্য।

আয়লান একাই বিশ্বমানবতার ঘুম ভাঙিয়েছে, বিশ্বনেতাদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে দায়িত্বহীনতার কাঠগড়ায়, বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ দোজখের আগুনে পুড়ে কঙ্কাল হওয়া অসহায় মুসলিমদের দুঃখ গাথার কথা।
নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে সাময়িকভাবে হলেও মুক্তির পথের দিশা খুঁজে পেয়েছে সিরিয়াবাসী। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শোকরিয়া অবশেষে দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে হলেও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সাময়িক বিরতি শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সিরিয়ার পশ্চিম ও উত্তরাংশের বেশির ভাগ এলাকায় যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়।

সিরিয়ার বাস্তবতায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সত্যিকার অর্থেই এক কঠিন কাজ। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মানব সভ্যতার সূতিকাগার বলে বিবেচিত সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। প্রেসিডেন্ট বাশারের নেতৃত্বাধীন সরকারকে হঠানোর প্রেক্ষিতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রত্যক্ষ মদদেই সেখানে বিদ্রোহ ও গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। সিরিয়ার আসাদ সরকার হঠানোর নামে মানব সভ্যতার এ পাদপীঠকে কার্যত এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। প্রাণ হারিয়েছে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ।

সিরিয়ার সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার উদ্যোগ শুধু সিরিয়া নয়, বিশ্ববাসীর জন্য এক স্বস্তিদায়ক ঘটনা। আমরা আশা করব সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে কা-জ্ঞানহীন যুদ্ধের অবসানে সব পক্ষেরই শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
বিশ্ব সভ্যতার চরম উন্নতি ও অগ্রগতির যুগেও পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানুষ সেখানে পশুর মতোই ঘাস, লতাপাতা, এমনকি পোষা কুকুর ও বিড়ালের মাংস খেয়ে বেঁচে আছে! হ্যাঁ, এ ধরনের ঘটনা অবিশ্বাস্য কারও কারও মনে হতে পারে।

কিন্তু সিরিয়াতে তা-ই ঘটেছে। চারদিকে শুধু হাহাকার আর অর্ধাহার কঙ্কালসার মানুষের কান্নার আওয়াজ কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসছে। ঘরে-বাইরে পথে প্রান্তরে শুধু সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানুষের গলিত অর্ধগলিত লাশ মিলছে। এক মুঠো খাবার নেই, পানি নেই, নেই জীবন রক্ষার ন্যূনতম ওষুধ। অনেকের শরীরে এক তোলা পরিমাণ মাংসও যেন নেই। তাদের কঙ্কালসার চেহেরার ছবিগুলো দেখলে মনের অজান্তে চোখের কোনে পানি এসে জমে যায়। আর সদ্যজাত সন্তানদের দিকে তো চোখ ফেরানোই ভার।

‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’Ñ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের এই উক্তির দেখা মিলছে সিরিয়ার মাটিতে। ক্ষুধার তাড়নায় ছটফট করছে জীবিত মানুষগুলো। শুধু কি তাই! মায়ের কাছে নিজ কলিজার টুকরা সন্তানও যেন নিরাপদ নয়। পত্রিকার পাতায় মুদ্রিত হয়েছে মাত্র দুই কেজি চালের আশায় বুকের সন্তানকে বেঁচে দিতে চেয়েছেন এক মা। কিন্তু কিনবে কে?

ক্রেতা তো নেই। দুর্ভিক্ষ কবলিত দেশ সিরিয়ার একটি কঙ্কালসার কিশোরের কণ্ঠ থেকে ভেসে এলো এমন আর্তি ‘কত দিন মানুষ না খেয়ে থাকতে পারে বলুন? আমি সাত দিন ধরে কিছুই খাইনি। আল্লাহর কছম, আমি খুবই ক্ষুধার্ত।’ এদিকে সাত মাসের ক্রন্দনরত এক শিশুকে তার স্বজন বলছে, ‘ঠিক হয়ে যাবে সোনা। আল্লাহ সাহায্য করবেন, তিনি তাড়াতাড়ি একটা ফয়সালা করে দেবেন। ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে খাবার খেতে দেখা গেছে অভুক্ত যুবককে। খাবারের অভাবে শহরগুলোর বাসিন্দারা এখন ঘাস, লতাপাতা এবং পোষা কুকুর, বিড়ালের মাংস খেয়ে বেঁচে আছে।

ভিডিওতে অনেককে ঘাসের স্যুপ খেতেও দেখা গেছে। খাবারের অভাব নেই, উচ্চমূল্য এবং খাবার ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণেই দুর্ভিক্ষের হাতছানি দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বের হয়েছে যে, শহরগুলোতে এখন এক কেজি চালের দাম পৌনে আট হাজার টাকা। এক কেজি চিনির দাম ১৫ হাজার টাকা। এক লিটার দুধের দাম সাড়ে ২৩ হাজার টাকা। সবচেয়ে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে মাদায়ায়।

পত্রিকার পাতায় যখন সেসব অনাহারক্লিষ্ট শিশুর ছবি দেখেছি তখনই দ্রুত পাতা উল্টিয়ে দিয়েছি। কারণ আমার আড়াই বছরের মেয়ে খাবার খেতে গিয়ে প্রায়ই কান্না করে ওই কান্নার আওয়াজই আমি সহ্য করতে পারি না। আর অভুক্ত অনাহারক্লিষ্ট শিশুদের কান্নার আওয়াজ কী করে সিরীয় মায়েরা মেনে নেয়, আল্লাহ তা ভালো জানেন। পৃথিবীর মানুষগুলো কেন এত পাষাণ হয়ে গেল? সে প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে ফিরে যেতে হবে আলোর পথে সত্যের সন্ধানে।

যুদ্ধের আগে কিন্তু তাদের অবস্থা এত নাজুক ছিল না। তারা ছিল এক সমৃদ্ধ দেশের গর্বিত নাগরিক। কোথাও তাদের কোনো অভাব তাড়িয়ে বেড়াত না। সপ্তম বড় শহর ডেয়ার এজর। তেল উৎপাদনে প্রথম সারিতে ছিল যে শহর, এখন সেখানে শুধুই হাহাকার আর ক্ষুধার আহাজারি শোনা যায়। প্রতিদিন একের পর এক শিশু অনাহারে, অপুষ্টিতে ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা শিশু ও বৃদ্ধদের। পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পেয়েও তিন মাসের শিশু আকবর বাঁচতে পারেনি। বাজারে আকাশছোঁয়া দামের শিশুখাদ্য কিনে উঠতে পারেননি আকবরের মা-বাবা।

অপুষ্টিজনিত কারণে মা-ও বুকের দুধ খাওয়াতে পারতেন না। তাই বাধ্য হয়ে গাছের রস খাইয়ে বাঁচাতে চেয়েছিলেন কোলের সন্তানকে। কিন্তু পারেননি। তার মতোই আরও অসংখ্য শিশুর ভাগ্যে হয়তো এই নিয়তি মিলেছে। আমার ছেলের মাংস খাচ্ছি! মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে মুখ খুলে এই কথাগুলো বলছিলেন মা দাখিল। দুই দিন পর খেতে বসে ডুকরে উঠলেন মা সেই দিনগুলোর কথা মনে করতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। বাজারে খাবারের দাম এতটাই চড়েছে যে তার নাগাল পাওয়া সিরিয়াবাসীর জন্য দুষ্কর।

আগে যে চালের দাম ছিল ২০ টাকা, আজ সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ টাকায়। তেলের দাম আগে লিটারপ্রতি ৩৫ টাকা থাকলেও তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার টাকা। চাল আর তেলের কথা না হয় বাদই দিলাম। একটু পানির জন্য ১০ ঘণ্টা লাইলে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আড়াই লাখেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ ভিটেবাড়ি ছেড়েছে।

২৫ লক্ষাধিক সিরীয় নাগরিক তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে। এতদিন পরে হলেও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি সিরিয়ার জনগণকে আশার আলো জাগিয়েছে। ইতিহাসবেত্তারা নিশ্চয় একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন। ৭০ বছর আগে হাজার হাজার ইহুদি ইউরোপ থেকে পালিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে। আজ হাজার হাজার মুসলমান মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পালাচ্ছে। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে মদিনার দিকে রাসূলের দেখানো পথে। মহান আল্লাহ যেন আমাদের দোষত্রুটিকে ক্ষমা করে ঈমানের পথে অবিচল টিকে থাকার তওফিক দান করেন।

Loading...