শেখ হাসিনা সরকার দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে : আইনমন্ত্রী আনিসুল

37

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিএনপির সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন শেখ হাসিনা সরকারই দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আজ দেশে ন্যায় বিচার চলছে। ববং ‘৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হ’ত্যার পর দেশে ন্যায় বিচার বন্ধ করা হয়। ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে ২১ বছর বিচার বন্ধ রাখা হয়। যাতে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের বিচার না হয়। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারই বঙ্গবন্ধুর হত্যা, যু’দ্ধাপরাধী বিচার করে দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করছে।

[৩] আইনমন্ত্রী ছাটাই প্রস্তাবের ওপর বিএনপির সংসদ সদস্য মো হারুনুর রশীদের বক্তব্যে জবাবে এ সব কথা বলেন।
[৪] ছাটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন নয় জানিয়ে স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তান আমলে যে লক্ষ্য নিয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল সেটা পূরণ করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ।
[৫] আজ মঙ্গলবার ৩০ জুন জাতীয় সংসদে আইন মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।
[৬] বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে- আমি বিচার বিভাগকে স্বাধীন করব কিনা। বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। বিচার বিভাগ এখনও নির্বাহী বিভাগের অধীন। বিচার বিভাগ, উচ্চ আদালতে বিভিন্ন নির্দেশে বিচারকার্য পরিচালিত হচ্ছে।

এটি আমাদের সত্যিকার অর্থে ন্যায় ও সঠিক বিচারের অন্তরায়। দেশের প্রায় ৫০ বছর স্বাধীনতার পার হয়েছে কিন্তু এখনো আমাদের দেশে বিচারকে স্বাধীন করতে পারেনি। আজ বলতে দ্বিধা নেই- সারা বাংলাদেশে চিহ্নিত মাদকসম্রাট, চিহ্নিত মাদক পাচারকারী, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎকারীরা বিচারের আওতায় বাইরে। যদি তারা সরকারি দল সমর্থিত হয় তাহলে তো কোনো কথাই নাই।

[৭] তিনি বলেন, আজ বিচারব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য যে অর্থ দাবি করেছেন, ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যদি আরও অর্থের প্রয়োজন হয় সেই অর্থ দাবি করলে আমরা অবশ্যই দেব। কিন্তু আজ বিচারব্যবস্থার যে দুরবস্থা, এই দুরবস্থা থেকে কেউ রেহায় পাচ্ছেন না। আজ মিথ্যা মা’মলায় হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় ঘুরছে। পুলিশ বাদী ও সাক্ষী হয়ে যে সমস্ত মামলা দেয়া হচ্ছে সেই মা’মলায় বিরোধীদলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তা রাস্তায় ঘুরছে, আদালতে ঘুরছে সুপ্রিম কোর্টে ঘুরছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তির একমাত্র উপায় বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে।

[৮] আইনমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকারি দলের বিপক্ষে যখন রায় দেয়া হচ্ছিল এই সময়ে অনেক অধস্তন বিচারককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় ঘণ্টার মধ্যে। সেই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। সেটা পত্র-পত্রিকায় ঢালাওভাবে এসেছে। আমি মনে করি বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে আমাদের স্বাধীনতার পূর্বে যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল, সেই লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে আমরা পূরণ করার জন্য আইন প্রণয়ন করব। সেই হিসেবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
[৯] এই সময় সরকারি দলের এমপিরা প্রতিবাদ করলে হারুন আরও জোর দিয়ে বলেন, হ্যাঁ, পাকিস্তান আমলে। স্বাধীনতা-উত্তর পাকিস্তান আমলের কথা বলেছি। স্বাধীনতার পূর্বের কথা বলছি।

[১০] এর জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আজ তার (হারুনুর রশিদ) আসল চেহারা বেরিয়ে গেছে। তিনি শুধু পাকিস্তান যেতে চান না। সবকিছু নিয়ে পাকিস্তান যেতে চান। আমরা সেখানে যাব না। সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না। আমরা ন্যায়বিচার দিয়েছি।
[১১] আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা কী দেখেছি সেটা তাকে জবাব দেয়া দরকার। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আজ উনি সংসদে বলছেন ন্যায়বিচারের কথা! শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার মামলা শেষ করেছে। এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার হয়েছে। যু’দ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে

[১২] ছাটাই প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নিয়ে পীর ফজলুর রহমানও বিএনপির সদস্যের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, আমরা স্বাধীন দেশের মানুষ আমাদের আইনের পরিচালিত হতে চাই। পাকিস্তানি আইনে নয়। আজ ন্যায় বিচারের কথা বলা হচ্ছে অথচ বিএনপির আমলেই দেশে ন্যায় বিচার ছিলো না। ন্যায় বিচার জিয়াউর রহমানই হরন করেছিলো।

Loading...