অঝোরে কাঁদলেন মন্ত্রী মোজাম্মেল

45

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেলের স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু। দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গীর প্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন মন্ত্রী।
সোমবার স্ত্রীর কফিন সামনে নিয়ে অঝোরে কেঁদেছেন মোজাম্মেল। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় দীর্ঘ সংসার জীবনে স্ত্রীর সহযোগিতা, ধর্মপরায়ণতা, সততা আর দায়িত্বশীলতার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্ত্রীর শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণও করেন উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে।

সোমবার জোহরের নামাজের পর গাজীপুর শহরের জয়দেবপুর দারুস সালাম গোরস্তান জামে মসজিদ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে মন্ত্রী বলেন, আমার স্ত্রীর অন্তিম ইচ্ছা ছিল– কোনো মহামারীতে যেন তার মৃত্যু হয়। তা হলে শহীদের মর্যাদা পাবে। তার ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছে। মহামারীতেই মৃত্যু হলো। নিশ্চয়ই সে শহীদের মর্যাদা পাবে। আপনারা সবাই তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করবেন।
মামতি করেন মন্ত্রীর একমাত্র ছেলে এটিএম মাজহারুল হক তুষার। পরে শহরে অবস্থিত প্রধান গোরস্তানে মন্ত্রীর স্ত্রীকে সমাহিত করা হয়।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানাজায় অংশ নেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৩ জুন মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর স্ত্রী লায়লা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে এলেও স্ত্রীর আর রক্ষা হয়নি। সিএমএইচে সোমবার সকাল পৌনে ৮টায় তার মৃত্যু হয়।

১৯৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে বিয়ে হয় লায়লার।

Loading...