আল্লাহ সবকিছু জানেন এর দ্বারা আসলে কী বোঝায় : নোমান আলী খান

85

আল্লাহ সবকিছু জানেন এর দ্বারা আসলে কী বোঝায়?

Sep 24, 2020

আল্লাহ সবকিছু জানেন এর দ্বারা আসলে কী বোঝায়?

আল্লাহ সবকিছু জানেন এর দ্বারা আসলে কী বোঝায়? (১ম পর্ব)
— নোমান আলী খান

আজ আমি আপনাদের সাথে আল্লাহর একটি নাম নিয়ে আলোচনা করবো যা কুরআনে বহু বার এসেছে। আর সে নামটি হল: আল-আলীম, যিনি সবকিছু জানেন। আল্লাহ কুরআনে বার বার উল্লেখ করেছেন – তিনি সবকিছু জানেন। “وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ” –

যে আয়াতটির উদাহরণ দিয়ে আমি আলোচনা শুরু করতে চাই তা হল, কুরআনের ৬৪ তম সূরা, সূরা আত-তাগাবুনের একটি আয়াত। তিনি বলেন – يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعْلِنُونَ – “নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে, তিনি তা জানেন। তিনি আরও জানেন তোমরা যা গোপনে কর এবং যা প্রকাশ্যে কর।” তাহলে আপনি যা সবার অগোচরে করেন আর যা সবার সম্মুখে করেন – আল্লাহ তার সবই জানেন। وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ – “এছাড়াও আল্লাহ অন্তরের অবস্থা সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞাত।” মানুষের মনের মাঝে যা লুকিয়েআছে তার প্রকৃতি এবং আসল অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ সবসময় পুরোপুরি জানেন। এটি অসাধারণ একটি আয়াত।

নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই আয়াত থেকে স্পষ্টত যা বুঝা যায় তার বাহিরে গিয়ে চিন্তা করুন। আমরা জানি, আল্লাহ সবকিছু জানেন। আমরা জানি, আমাদের বাহ্যিক ব্যাপারগুলো আল্লাহ যেমন জানেন তেমনি তিনি আমাদের গোপন ব্যাপারগুলোও জানেন। আমরা জানি, আল্লাহ সাত আসমানের সবকিছু জানেন।

চলুন, এর থেকে কিছু বিষয় সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করে দেখি। আল্লাহ কিভাবে আমাদের নিকট তুলে ধরেন যে, আল্লাহ যা জানেন তা কোনদিনও কোনভাবেই আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। আল্লাহর কোন নামের মর্ম উপলব্ধি করার একটি সর্বোত্তম পন্থা হল আমাদের নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারা। তারপর তুলনা করলে বুঝতে পারব আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার ক্ষমতা কতটা ব্যাপক আর আমরা কতটা তুচ্ছ এবং অক্ষম বান্দা।

চলুন, ইতিহাসের জ্ঞান দিয়ে শুরু করা যাক। কখন কোন যুদ্ধ হয়েছে, কোন রাজা জয়লাভ করেছে, কোন জাতির উপর বিজয়ী হয়েছে, একটি রাজবংশ কতবছর শাসন করছে এই ধরনের তথ্য উপাত্ত ঐতিহাসিকরা লিপিবদ্ধ করে থাকেন। কিন্তু আল্লাহ যেভাবে কুরআনে বিভিন্ন ঘটনার তথ্য প্রদান করেছেন একজন ঐতিহাসিকের পক্ষে কখনও সেভাবে কোন ঘটনা লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়। যেমন, কথা বলার পূর্বে ফেরাউনের মনের অবস্থা কী ছিল? আল্লাহ শুধু আমাদেরকে ঘটনার বর্ণনাই দেন না বা কোন ধরনের কথাবার্তা হয়েছিল সে বর্ণনাই দেন না; বরং তিনি আমাদেরকে তার অন্তরের অবস্থার কথাও জানিয়েছেন। وَنُرِيَ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا مِنْهُم مَّا كَانُوا يَحْذَرُونَ – “আর ফেরাউন, হামান ও তাদের সৈন্য বাহিনীকে দেখিয়ে দিতে যা তারা তাদের (অর্থাৎ মূসার সম্প্রদায়ের) থেকে ভয় করত।” (২৮:৬) কে জানতো, ফেরাউন ভীত ছিল? কোন ঐতিহাসিক জানতো তার অনুভূতির কথা? কিন্তু আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সেটাই কুরআনে বিবৃত করেছেন।

একবার চিন্তা করে দেখুন, কীভাবে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইব্রাহিম (আ) এর দোয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। আশে পাশে কেউ ছিল না, ইব্রাহিম (আ) একাই মরুভূমিতে পথ চলছিলেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলেন। কোন ঐতিহাসিক সেখানে ছিল না, অন্য কোন মানুষ ছিল না যে এই ঘটনা লিপিবদ্ধ করবে। হাজার হাজার বছর পরে আমরা হুবহু জানি আল্লাহ এবং ইব্রাহিম (আ) এর মাঝে কোন ধরণের কথোপকথন হয়েছিল। আল্লাহ ঠিক এমনভাবে ইতিহাস জানেন যেভাবে আমাদের পক্ষে কোনদিন জানা সম্ভব হবে না। আর তিনি ইতিহাসকে এমন দৃষ্টিকোণ থেকে জানেন, ইতিহাসের কোন বইতে যার কোন উল্লেখ পাবেন না।