শেষ ইচ্ছা পূরণ হলো না প্রবাসী নুরুলের

83

শেষ দু’বছর কর্মহীন ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী নুরুল ইসলাম (৬২)। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি টেনে তাই আপনগৃহ চট্টগ্রামে একবারেই ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিয়তি তা হতে দেয়নি। জীবনের সরল অঙ্কের কাছে হেরে গেছেন নুরুল। দূতাবাসের তদবির, প্রবাসীদের সহযোগিতা কোনোটাই কাজে আসেনি। সামান্য ‘আঙুলের ছাপে’র (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) জন্য অপূর্ণই রয়ে গেছে তার দেশে ফেরার শেষ ইচ্ছা। আমিরাতের আল আইনের জিমি হাসপাতালে এখন পড়ে আছে নুরুলের নিথর দেহ। সেখানেই চলছে লাশের দাফনের প্রস্তুতি।

নুরুলের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নে। চার মেয়ে ও এক ছেলের জনক এই প্রবাসী দীর্ঘদিন ধরে আমিরাতের ইত্তেসালাত মোবাইল কোম্পানির টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন আমিরাতে থাকার পর নুরুল ইসলাম পাড়ি জমান ওমানে। ওমান থেকে সীমান্ত দিয়ে আবার ফিরে আসেন আমিরাতে। তবে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করায় নতুন করে পাসপোর্টে আর ভিসা নবায়ন হয়নি তার। ভিসা জটিলতায় দেশটিতে বসবাসের বৈধতা হারান তিনি। এরপর কর্মহীন হয়ে কেটে গেছে প্রায় দু’বছর। জীবনের শেষ সময়ে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ঘুরেছেন অনেকের দ্বারে দ্বারে। আবুধাবি দূতাবাস থেকে আউট পাস নিয়ে একবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেন নুরুল। কিন্তু বাদ সাধে বিমানবন্দর প্রশাসন। আঙুলের ছাপ ছাড়া আমিরাত ত্যাগে বাধা দেওয়া হয় তাকে। গত সোমবার আঙুলের ছাপ দিয়ে আবার চূড়ান্ত হয় তার দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি। কিন্তু এর মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুল। তাকে স্থানীয় আল আইন হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে গত বুধবার মৃত্যু হয় তার।

আল আইন প্রবাসী সরওয়ার উদ্দিন সমকালকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশে যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন নুরুল ইসলাম। আবুধাবি দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর আবদুল আলিম মিয়া তার দেশে ফেরার ব্যবস্থাও করেছেন। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত একটি ওয়ারিশ সনদে নুরুল ইসলামের লাশ আরব আমিরাতে দাফন করার অনুমতিপত্র পাঠায় তার পরিবার। সে অনুযায়ী লাশ স্থানীয়ভাবে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।