প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকী’য়া, হাতে নাতে ধরা ছাত্রলীগ নেতা

139

শাহাদাত হোসেন রাহাতনোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক সন্তানের জননী প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অসামাজিক কাজ করতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে ধরা খেয়েছেন শাহাদাত হোসেন রাহাত (২১) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মধ্য মুছাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
শাহাদাত হোসেন রাহাত মুছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও তথ্য সম্পাদক এবং মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরনবী বাবুলের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, কিছু দিন আগে মুছাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মধ্য মুছাপুর এলাকায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন চরকাঁকড়া ইউনিয়নের একাডেমী বাজার সংলগ্ন এক বাহারাইন প্রবাসীর স্ত্রী (১৯)। স্বামী বাইরে থাকার সুযোগে ওই গৃহবধূর সাথে পরকী’য়া সম্পর্ক চলছিল সাবেক প্রেমিক রাহাতের।

একপর্যায়ে গত রোববার রাতে পরকী’য়া প্রেমিকার ঘরে পরিবারের কোনো সদস্য না থাকার সুযোগে তারা দু’জন রাতের অন্ধকারে বসত ঘরের সামনে খাবার ঘরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করলে তারা রাহাতকে ঘটনাস্থলে এবং তার সহযোগী মুছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠ বিষয়ক সম্পাদক শাহরিয়ার শাকিবকে (১৯) বাড়ির সামনে পাহারা দেওয়ার সময় আটক করে। ওই সময় পরকী’য়া প্রেমিকা দৌঁড় দিয়ে খাবার ঘর থেকে বসত ঘরে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন। এলাকাবাসী গৃহবধূর একটি সন্তানের কথা চিন্তা করে এবং প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় লম্পট রাহাত ও তার সহযোগী শাকিব ক্ষমা চাইলে তাকে ছেড়ে দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নামধারী ছাত্রলীগ নেতা রাহাত মুছাপুর ইউনিয়নের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে হওয়ায় মাদক সংশ্লিষ্টতাসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাহাতের সাথে যোগাযাে পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত রাহাতের পিতা নুরনবী বাবুল অভিযোগ নাকচ করে স্থানীয় রাজনৈতিক একটি মহলের ষ’ড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।

মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্যাহ মাস্টার বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে এমন কথা আমি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে আমি বিস্তারিতভাবে কিছু অবগত নয়।
ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন মুন্না বলেন, এ বিষয়ে শুনেছি তবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানি না। অভিযুক্ত রাহাত ছাত্রলীগের কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নেই বলে দাবি করেন তিনি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আরিফুর রহমান জানান, এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।