প্রতিবন্ধী স্কুলের নামে জমি দখলের অভিযোগ

36

প্রতিবন্ধী স্কুলের নামে জমি দখলের অভিযোগ
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২০,
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের নামে অসহায় এক নারীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমি ফেরতে পেতে আদালতের দারস্থ হয়েছেন ওই নারী।

পৌরশহরের মাইলোড়া এলাকার শিল্পী আক্তার নামে ওই নারীর অভিযোগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান রতন এবং স্থানীয় দলিল লেখক নূরে আলম সিদ্দিকী নয়ন মিলে জোর করে তার জমি দখলে নিয়েছেন।

সম্পর্কিত খবর
পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
রেললাইনে ঘুমন্ত অবস্থায় কাটা পড়ে ৩ জনের মৃত্যু
গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, গ্রেপ্তার ২
শিল্পী বলেন, প্রতিবন্ধী স্কুলের জায়গাসহ ওখানে আমাদের মোট ৩০ শতাংশ জায়গা রয়েছে। ৮৪ সালে বাবা এটি কেনার পর থেকে আমরা চাষাবাদ করে আসছি। কিন্তু ২০১৮ সালে নয়ন ভেন্ডার আর হান্নান রতন তাদের লোকজন দিয়ে মারধর করে আমাদেরকে উচ্ছেদ করে। পরে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মূলে সেখান থেকে ১৫ শতাংশ জায়গা হান্নান রতনের কাছে বিক্রি করেন নয়ন। বাকি জায়গায় নয়ন ভেন্ডার নিজেই বাসা-বাড়ি তৈরি করেন। স্থানীয়ভাবে তাদের দাপটে পেরে উঠতে পারিনি। পরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই প্রতিবন্ধী স্কুলের সভাপতি ও দাতা হান্নান রতন। স্কুলের শিক্ষক ও স্টাফদের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে চাকরির বিনিময়ে। সেখান থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকায় ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথমে নিজের নামে কেনেন ওই ১৫ শতাংশ জমি। পরদিনই স্কুলের নামে দান করে দেন তিনি। পরে ওই জায়গায় জেলা পরিষদের অনুদানে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি হাফবিল্ডিং ঘর নির্মাণ করা হয়। এই স্কুলের রেজ্যুলেশনেও জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জমি বিক্রেতা নূরে আলম সিদ্দিকী নয়ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিল্পী আক্তারের জমি আরো কিছুটা দূরে।

তবে প্রতিবন্ধী স্কুলের কাছে কত টাকায় জমি বিক্রি করেছেন সেটা তার মনে নেই বলে জানান তিনি।

আরো কিছু জানতে চাইলে ‘আমি নূরে আলম সিদ্দিকী নয়ন, বাড়ি শেওরাতলী’ বলে দম্ভোক্তি করে লাইন কেটে দেন। নয়নের বিরুদ্ধে জমিজমাসহ আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে আবদুল হান্নান রতন জানান, স্কুলের জায়গাটি ৯ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে। সবার সম্মিলিত সহযোগীতায় টাকার যোগান দেয়া হয়েছে। শুরুতে তিনি দাতা হয়েছিলেন, তবে এভাবে দাতা হওয়ার নিয়ম না থাকায় পরে তিনি এটি এফিডেভিট করে সংশোধন করেছেন।

ওই সময় তিনি স্কুলের সভাপতি পদে থাকলেও বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তবে জমির কাগজপত্র সঠিক আছে বলেও তিনি জানান।

উপরোক্ত বিষয় নজরে এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামানের বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, স্কুলের ব্যাপারে আমি আরো অনেক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।