সেনাবাহিনীর উপর আস্থা হারিয়ে এবার দেশবাসীকে অস্ত্র হাতে যুদ্ধে যাওয়ার নির্দেশ আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

150

সেপ্টেম্বর মাসের ২৭ তারিখ থেকে নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে নতুন করে শুরু যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার এখনো পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। প্রথম দফা যুদ্ধবিরতির মতো দ্বিতীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তিও ব্যর্থ হওয়ার পরে দুই দেশের মধ্যে এই লড়াই আরো তীব্র হয়েছে।

দুই দেশরই অভিযোগ, সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। আজারবাইজানে বেসামরিক মানুষজনের উপর হামলা করছে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী। অন্য দিকে আজারবাইজানের সেনাবাহিনীও নাগার্নো-কারাবাখের বিশাল এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। ১৯৯০ এর দশকে আজারবাইজানের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে হটিয়ে কারাবাখ দখল করে বাস করতে শুরু করা আর্মেনীয়রা এখন আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে শুরু করেছে।

এই পরিস্থিততিতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে তৃতীয় দফার বৈঠক শুরু হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফের বৈঠক শুরু করেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মস্কোতেই তাদের বৈঠক করার কথা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সাথেও। তবে এখনো যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইঙ্গিত নেই।
আর এর মধ্যেই আর্মেনিয়াকে হটিয়ে নাগার্নো-কারাবাখের আরো বেশ কিছু অঞ্চলের দখল নিয়েছে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী। বুধবার এক টেলিভিশন বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।

এদিকে আজারবাইজানের বিরুদ্ধে সামরিক ভাবে বা কূটনৈতিক ভাবে কুলিয়ে উঠতে না পেরে কঠিন বিপদের মধ্যে পড়েছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সম্ভবত তার আগে দেশটির আর কোনো সরকার প্রধানকে এতোটা কঠোর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। নাগার্নো-কারাবাখে আজারবাইজানের আক্রমণের তীব্রতায় যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়াতেই পারছে না আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী। আর তাই এবার বাধ্য হয়ে দেশের জনগণকে অস্ত্রহাতে যুদ্ধক্ষেত্রে নামার আবেদন জানিয়েছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনইয়ান। এক ভিডিও বিবৃতিতে দেশবাসীর কাছে এই আবেদন জানান তিনি।

ভিডিও বিবৃতিতে তিনি জানান, কূটনৈতিক আলোচনায় সমাধান সূত্র মিলবে না। আর তাই দেশবাসীর কাছে তার আবেদন, ‘এই সংকটকালে সকলে হাতে অস্ত্র তুলে নিন এবং দেশের জন্য লড়াই করুন।’
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন,‘সকলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হোন। হাতে অস্ত্র তুলে নিন। আর্মেনিয়াকে রক্ষা করুন।’

সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে দেশটির জন্য চরম হতাশাজনক এই পরিস্থিতিতে তেহরানের কাছেও বার্তা পাঠিয়েছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তার বক্তব্য, তেহরান যদি শান্তিপূর্ণ সমাধানের রাস্তা তৈরি করতে পারে, তা হলে আর্মেনিয়া তা মেনে নেবে। বস্তুত, আর্মেনিয়া ব্রাসেলসেও প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। ন্যাটো এবং ইইউ-র সঙ্গে আলোচনা করবেন সেই প্রতিনিধি।

উল্লেখ্য, নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। তবে ওই অঞ্চলটি জাতিগত আর্মেনীয়রা ১৯৯০’র দশক থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এবার নিজেদের এই ভূখণ্ড দখলে নিতে সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখ থেকে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে আজারবাইজান।