সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছিলো : মির্জা ফখরুল

116

সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছিলো: মির্জা ফখরুল

৭ নভেম্বর শনিবার সকালে শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপির মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
[৩] মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ৩ নভেম্বরে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়, সেই চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে এদেশের দেশপ্রেমিক সিপাহী এবং জনগন তারা ৭ নভেম্বরে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে দেশ সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতাকে সুসংহত করেন। একই সঙ্গে গনতন্ত্রের যে পথ সেই পথের নতুন সুচনা করেন।

প্রকৃত পক্ষে ৭ নভেম্বর থেকেই এদেশ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবার সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিলো এবং তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। এই ঐতিহাসিক দিবসটি স্মরণ করবার জন্য আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বৃন্দ আজকে এখানে এসেছিলাম তার মাজারে পুস্পস্তবক অপর্ন ও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের এই দিনটি বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকে দেশ একই ভাবে ১৯৭৫ এর পূর্বে যে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো, জনগনের অধিকারকে হরণ করা হয়েছিলো। আজকে আবার ঠিক একই কায়দায় বাংলাদেশের জনগনের অধিকারকে হরন করে গণতন্ত্রকে ধবংস করে দিয়ে আওয়ামী লীগ আজকে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে।
[৬] সেজন্য আজকে আমরা আজকে শপথ নিয়েছি যে, আমরা গণতন্ত্রকে উদ্ধার করবো, মিথ্যা মা’মলায় সাজাপ্রাপ্ত আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং এই গণতন্ত্রের সংগ্রামকে অবশ্যই জয়ী করবো ইনশাল্লাহ।

[৭] সকাল ১১টায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারা নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
[৮] এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় মহানগর দক্ষিন ও উত্তর, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, ছাত্র দল, তাতী দল, মতস্যজীবী দলসহ অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।
[৯] ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান স্বপরিবারের নি’হত হওয়ার পর সেনা প্রধানের দায়িত্ব আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযু’দ্ধে অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনা বাহিনীতে একটি অভ্যুত্থান হয়, জিয়া হন গৃহবন্দী।
[১০] ৭ নভেম্বর মুক্তিযু’দ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসেন জিয়া।

বিএনপি এই দিনকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস এবং জাসদ সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালন করে।
৭ নভেম্বর উপলক্ষ্যে ভোরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় অফিসে দলীয় পতাকা উত্তালন করেছে। দিবসটিকে সামনে রেখে প্রকাশ করেছে জিয়াউর রহমান ছবি সম্বলিত পোস্টার।
বিকাল তিনটায় রয়েছে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা। দিবসটি উপলক্ষে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক পৃথক বানীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।