লাদাখে সবার নজর: চুপিসারে অরুনাচল, সিকিমসহ অন্যান্য সেক্টরে চীনের রণপ্রস্তুতি তুঙ্গে

112

সবার নজর যখন লাদাখের দিকে, তখন চুপিসারে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) অন্যত্র সামরিক পরিকাঠামো উন্নত করে চলেছে চীন। পূর্ব, মধ্য সেক্টর ও সিকিম লাগোয়া অঞ্চলে চীন একই সঙ্গে ভূমি থেকে আকাশে মিসাইল নিক্ষেপের স্থান উন্নত করছে, ড্রোনের সংখ্যা বাড়াচ্ছে, তিব্বতে বিমানঘাঁটি তৈরি করছে। এই বিষয়ে সম্যক অবগত সূত্র থেকে তথ্য পেয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

চীন যেভাবে হিমাচলের কৌরিক পাস থেকে অরুণাচলের ফিস টেল ১ ও ২ বরাবর নিজেদের গতিবিধি বৃদ্ধি করছে তাতে চিন্তায় পড়ে গেছেন ভারতের সামরিক কমান্ডাররা। তারা জানিয়েছেন যে, হিমাচল লাগোয়া কৌরিক পাসের ঠিক উল্টাদিকে চুরুপ গ্রামে রাস্তা বানাচ্ছে চীন। অন্যদিকে উত্তরখণ্ডের বারহোটির উত্তরে তানজুম লা-এ পিএলএ (পিপলস লিবারেশন আর্মি) সেনাদের বসবাসের জন্য নতুন আবাসন তৈরি করা হচ্ছে। এটি এলএসি থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে।

এছাড়া, শিকুআনহে বলে ডেমচকের কাছাকাছি একটি সামরিক ডিপো থেকে এখন চীনের সব অস্ত্র, গোলাবারুদ ও লোকবল আসছে। সামরিক সূত্রে বলা হয়েছে, শিকুআনহে এমন একটি জায়গায় অবস্থিত যেখান থেকে চীন প্রয়োজনে ডেমচক থেকে বারহোটি পর্যন্ত অঞ্চলে জ্বালানিসহ লোকবল, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করতে পারবে।

পূর্ব সেক্টরেও গতিবিধি বৃদ্ধি করেছে চীন। অরুণাচল সীমান্ত থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে ন্যাংলুতে একটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। এতে আছে বিশেষ কাউন্টারস্পেস জ্যামার, যা দিয়ে প্রয়োজনে ভারতের জিস্যাট কমিউনিকেশন ও বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট জ্যাম করে দেয়া যাবে।

এলএসি জুড়েই নজরদারি বাড়িয়েছে চীন। গালওয়ান ছাড়াও বিশেষ নজরে আছে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশ। চীন নজরদারি বৃদ্ধি করার জন্য এলএসি থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে চাঙ্গমু ও সিকিমের উত্তরে সেবু লা-তে কমিউনিকেশন টাওয়ার নির্মাণ করেছে।

অন্যদিকে, কাশগার বিমানঘাঁটিতে নতুন মিসাইল ট্রান্সপোরটার ইজেকটার লঞ্চার বসানোর কথা জানা গেছে। আকসাই চিনের কাশগর ও হোতান বিমানঘাঁটিতে ভারি সামরিক সরঞ্জাম বহনের উপযোগী বিমান অবতরণ করছে।

কারাকোরাম পাসের অদূরে ক্যাংঙ্গসিওয়ারে অতিরিক্ত সংখ্যক পিএলএ সেনার প্রমাণ পেয়েছে ভারত।

অন্যদিকে সিকিমের উল্টোদিকে হপিং বিমানঘাঁটিতে বৃদ্ধি পেয়েছে সামরিক ড্রোনের সংখ্যা। লাসা বিমানঘাঁটি থেকেও একই রকম খবর মিলছে।

এসব কারণে ভারতের আশঙ্কা যে, প্রয়োজন পড়লে এলএসি’র যেকোন স্থানে চাপ সৃষ্টি করবে চীন।