এক দম্পতি আশ্রয়ের খোঁজে পথে পথে ঘুরছেন

148

কখনো শিবসার বেড়িবাঁধে আবাস। কখনোবা কপোতাক্ষের স্লোব। কখনো ইটভাটা। আবার কখনো শহরে রাস্তার পাশে শাহিদা-জাহাঙ্গীর দম্পতির বসবাস। তাদের দাম্পত্য জীবনে এসেছে দু’মেয়ে ও এক ছেলে। কিন্তু ভূমিহীন এই দম্পতি সন্তানদের নিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন একটু আশ্রয়ের জন্য।

বহু কষ্টে বড় মেয়েকে তার মামাবাড়িতে রেখে বিয়ে দিলেও অভাবের কারণে সম্প্রতি তাদের দাম্পত্যে দেখা দিয়েছে অশান্তি। একদিন কাজ না হলে যাদের খাবার জোটে না, তার ওপর যাযাবর জীবনের সাথে নতুন করে ভর করেছে মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তা।

আশ্রয়হীন পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাস ছয়েক আগে এক দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের কথায় ভরসা করে উপজেলার কাশিমনগর এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘরে উঠেছিলেন তারা। কিন্তু সেটি ছিল অন্যের নামে বরাদ্দ। ফলে ওই ঘরে ক্ষণিকের ঠাঁই হলেও প্রশাসনের নির্দেশে আবারো তারা আশ্রয়হীন। সব মিলিয়ে নিয়তির ওপর ভর করে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ছুটে চলা ভূমি ও গৃহহীন পরিবারটি এখন হতাশ।

শুক্রবার সকালে নয়া দিগন্তের সংবাদদাতার সাথে আলাপকালে উঠে তাদের জীবনের এসব কষ্টের গল্প।

শাহিদা বেগমের জন্ম খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের খাটুয়ামারী গ্রামে। বাবার নাম শহিদুল গাজী। মা আনোয়ারা বেগম। তারাও ছিন্নমূল। অপর দিকে স্বামী জাহাঙ্গীর সরদার একই এলাকার ইয়াকুব আলী সরদারের ছেলে। শাহিদার আগে অন্য একজনের সাথে বিয়ে হয়েছিল। সেখানে বড় মেয়ে আঞ্জুয়ারার জন্মের পর স্বামী পরিত্যক্তা হন তিনি। পরে জাহাঙ্গীরের সাথে সংসার শুরু শাহিদার। এরপর মায়ের সাথেই মেয়ে আঞ্জুয়ারার জীবনযাপন। আর জাহাঙ্গীরের সাথে দাম্পত্য জীবনে এসেছে তোহরা খাতুন (৮) ও জোবায়ের (৬) নামে দুই ছেলে মেয়ে।

জাহাঙ্গীরের সাথে সংসার শুরুর পর প্রথমে তারা থাকেন উপজেলার বেতবুনয়া শিবসা নদীর বেড়িবাঁধে। তবে ঘুর্ণিঝড় বুলবুল ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাদের ওই আশ্রয়স্থল। এরপর স্বামী-সন্তানসহ শাহিদা ফের উদ্বাস্তু হন। জীবিকার তাগিদে এবার তারা নোঙর ফেলেন খুলনার কালীবাড়ি নন্দনপুর এলাকার একটি ইট ভাটায়। সেখানে মৌসুমজুড়ে কাজ শেষে ঠিকানা না থাকায় মালিককে বলে থেকে যান ভাটার খুপড়িতেই। তবে মাস ছয়েক আগে এক নিকটাত্মীয়ের কথায় ভরসা করে ফিরে আসেন নিজ উপজেলায়। এবার বেতবুনিয়া নয়, ওঠেন কাশিমনগর আশ্রয়ন প্রকল্পে। সম্প্রতি প্রশাসনের নির্দেশেই ঠিকানাহীন হয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর ভূমিহীন শাহিদা আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। তবে এখনো কোনো আশ্বাস মেলেনি ইউএনওর কাছ থেকে।

আশ্রয়হীন এই দম্পতির শিশু সন্তান জোবায়ের ও তোহরা বলেছে, ‘শুনেছি ঘরওয়ালা (ইউএনও) ভালো মানুষ, কাউকে বকে না। আমাদের কথা তাকে একটু বলবেন।’

একটু আশ্রয়ের জন্য জোবায়েরদের ফ্যালফ্যাল করে অপলক চেয়ে থাকা সত্যিই হতাশার। তাদের চাহনিতে না বলা অনেক কথারই জানান দেয়। ছিন্নমূল পরিবারটির অবুঝ বাচ্চাদের কথা শুনলে যে কারো হৃদয়ে নাড়া দেবে।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি অবহিত তিনি। পরবর্তীকালে ঘর বরাদ্দ এলে পরিবারটিকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।