‘বেপরোয়া আমলাতন্ত্র’ শিরোনামে আ.লীগ নেত্রীর স্ট্যাটাস নিয়ে তোলপাড়

91

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য নাজনীন আলম ‘বেপরোয়া আমলাতন্ত্র, লজ্জিত আওয়ামী লীগ’—শিরোনামে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। শনিবার (২১ আগস্ট) রাত ১০টায় তিনি ফেসবুকে এ স্ট্যাটাস দেন। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়।

ফেসবুকে স্ট্যাটাসের বিষয়ে নাজনীন আলম বলেন, সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা এখন প্রশাসনের নিকট জিম্মি হয়ে পড়ছে। কোনো কাজে গেলে দলীয় নেতাকর্মীরা সহযোগিতা পাচ্ছেন না; বরং প্রশাসনের নিকট কোণঠাসা দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
এ আওয়ামী লীগ নেত্রীর স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেছেন মোহাম্মেদ মোজাম্মেল হক নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী। তিনি লেখেন— ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই, একটার পর একটা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। বরিশালে যা হয়েছে তা ছিল অ্যাসিড টেস্ট। এখনই যদি ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা না যায়, আগামীতে আরও বড় বড় অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করবে। তাই আওয়ামী লীগের প্রতিটা নেতাকর্মীকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

‘বেপরোয়া আমলাতন্ত্র, লজ্জিত আওয়ামী লীগ!’ শিরোনামে নাজনীন আলমের ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো—
‘জুজুর ভয় দেখিয়ে ও দলকে ভুল বুঝিয়ে ২০১৮-এ আওয়ামী লীগের সহজ বিজয়ের নির্বাচনে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়ার (বিশেষ সুবিধা নিয়ে) কারিগর ছিলেন একজন প্রয়াত উপদেষ্টা ও তার আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেট। নির্বাচনকে বিতর্কিতসহ দল ও এমপিদের হেয়/কোণঠাসা করতে মাঠপর্যায়ে অতি উৎসাহিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের গায়ে কাঁদা লাগাতে তারা সচেষ্ট ছিলেন।

কুমন্ত্র দিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সব নেতাকে সাইড লাইনে বসিয়ে রেখে তিনি একাই খেলে যচ্ছিলেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাজনীতিবিদদের নিষ্ক্রিয় রাখতে সব আয়োজনই করেছিলেন সেই উপদেষ্টা।
২০১৪-এর সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই কিছু সরকারি কর্মকর্তা অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েন। দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে কৌশলে আওয়ামী বিরোধীদের বসিয়েছেন তারা। সাধারণ জনগণকে উনারা মানুষ বলেই মনে করেন না। সম্মানিত এমপি-মন্ত্রী, নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিসহ কাউকেই তারা পাত্তা দিতে চান না। আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা তাদের কাছে নাজেহাল হতে থাকে রীতিমতো। তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও ক্ষমতার দাপট দিনে দিনে বেড়েই চলেছে; যেন আওয়ামী লীগের মাঝা ভেঙে দিতে এক জঘন্য খেলায় মেতেছেন তারা। দলীয় কোনো ব্যক্তির অপরাধকে অতিরঞ্জিতভাবে মিডিয়াতে প্রচার করে আওয়ামী লীগকে হেয় করতে তৎপর রয়েছেন তাদের অনেকেই; এত উন্নয়নের পরেও মাঠেঘাটে জননন্দিত দল আওয়ামী লীগকে গালি খেতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের কোনো কাজে গেলে সরকারের একমাত্র শক্তি ও রক্ষক হিসেবে তারা নানান গল্প শোনায়। ‘তারা ছাত্রলীগ করে নির্যাতিত, জামার নিচে কোপের দাগ এখনও আছে’— এমন মনগড়া কথা বলে দলীয় লোকদের অসহযোগিতা করে থাকেন। দলীয় নেতৃবৃন্দের কার্যক্রম ও দায়িত্বকে তারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে নিজেদের সর্বদা মহাক্ষমতাধর হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন। বিশেষ কারণে তাদের কাছে সরকারবিরোধীদের কদর অনেক বেশি। ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা দলীয় পরিচয় দিলে তারা দুর্ব্যবহার ও অসহযোগিতার মাত্রা বাড়িয়ে দেন। তাদের ভাব নমুনা দেখলে মনে হয় তারাই এ দেশের রাজা-মহারাজা, আর সবাই তাদের গোলাম। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তিকে খর্ব করে আমলাতন্ত্র কায়েমই যেন তাদের কাজ। তারা বুঝতে চেষ্টা করে না, লগিবৈঠার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক শক্তি দিয়েই সব কিছু মোকাবিলা করেছিল।
উনারা নিজের পক্ষে আইন বানিয়ে সবার ওপর চাপান।

নিজেদের জাহির করতে জমিদারি কায়দায় প্রটোকলের বিধান তৈরি করেন। অন্যান্য ক্যাডারভভুক্ত সকল কর্মকর্তাকে হেয় করে নিজেরা প্রভু সাজেন।রাষ্ট্রীয় মিটিং-সমাবেশ ও কাজে ক্যাডার সার্ভিসের অন্যদের সাথে তারা বাড়ীর চাকরের মত আচরণ করেন। সুকৌশলে নিজেদেরকে প্রাধিকারভূক্ত কর্মকর্তা সাজিয়ে প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য ক্যাডারকে বঞ্চিত ও হেয় করে সকল সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিচ্ছেন তারা। ফলে সরকারের মহানুভবতাসহ প্রচুর সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরেও ২-১টি ক্যাডারের বিমাতাসুলভ, হটকারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে দিনে দিনে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন ক্যাডার সার্ভিসের সিংহভাগ কর্মকর্তাসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা। এ ছাড়া ২-১টি বাহিনীর কোনো কোনো জেলার কিছু কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বেপরোয়া কার্যক্রমে দলীয় লোকজনও বিরক্ত ও আতঙ্কিত। ভালো পোস্টিং এবং যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগসহ সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন তারা। তাদের গুটি কয়েকের কারণে বাহিনীর সারা দেশের বঞ্চিত/উপেক্ষিত/কোণঠাসা সরকার সমর্থক সদস্যরাও দিনে দিনে নাখোশ হচ্ছেন।

প্রশাসনের কারও কারও অতি বাড়াবাড়ি ও চেয়ারের দাপট অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে দিচ্ছে। দল টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকলেও তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের জন্য কোনো সেক্রিফাইজ বা মূল্যায়ন তাদের কাছে নেই।

আমলাতন্ত্রের কাছে রাজনীতিবিদরা তাচ্ছিল্যের পাত্রে পরিণত হয়েছেন, যা দলীয় শক্তিকে দিন দিন খর্ব করছে। এভাবে চলতে থাকলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়তে বাধ্য। বরিশালের মেয়র ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যের সঙ্গে ঘটনাটি তারই ঈঙ্গিত বহন করছে। সারা বাংলার আওয়ামী নেতাকর্মীদের মনোবলে কুঠারাঘাত করতে এমন ঘটনা একটিই যথেষ্ট।’