বাসায় ডেকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে যুবককে হত্যা, বাবা-মেয়ে আটক

72

jugantor
প্রচ্ছদ
সারাদেশ

বাসায় ডেকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে হত্যা, বাবা-মেয়ে আটক
নাটোর ও বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি
৩০ আগস্ট ২০২১, ০৯:১১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
376
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing buttontwitter sharing buttonwhatsapp sharing buttonlinkedin sharing button
বাসায় ডেকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে হত্যা, বাবা-মেয়ে আটক

ঢাকার ভাটারা এলাকায় খ্রিস্টান এক যুবককে বাসায় ডেকে নিয়ে অতিরিক্ত মদপান করানোর পর বেধড়ক মারপিট করে হত্যার অভিযোগে নাটোর থেকে এক বাবা ও তার মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার রাতে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার সাগরের মোড় এলাকার বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জীবন গমেজ (৫০) ও তার মেয়ে প্রিয়াংকা গমেজকে (২০)আটক করে। পরে রাতেই তাদের ঢাকার ভাটারা থানায় হস্তান্তর করার জন্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ।

এর আগে শনিবার বিকালে ভাটারা এলাকার ছোলমাইদ মহল্লার জীবন গমেজের বাসার টয়লেট থেকে রিগ্যান রোজারিও (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রিগ্যান বড়াইগ্রামের জোনাইল ইউনিয়নের দ্বারিকুশী গ্রামের মৃত প্রফুল্ল রোজারিওর ছেলে।

ভাটারা থানার ওসি মো. মুক্তারুজ্জামান জানান, ভাটারা এলাকার ছোলমাইদ মহল্লার একটি ছয়তলা ভবনের তিনতলায় জীবন গমেজ ভাড়া থাকতেন। এলাকাবাসীর খবরে শনিবার বিকাল ৩টার দিকে ভাড়া বাসার তালা ভেঙে রুমে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে টয়লেট থেকে রিগ্যানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৮টার পর কোনো এক সময়ে রিগ্যান ওই বাসায় আসে। পরে তারা মদপান করে। একপর্যায়ে মদ্যপ অবস্থায় জীবন তাকে বেধড়ক মারপিট করলে তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে টয়লেটে আটকে রেখে বাসা তালা দিয়ে বাবা ও মেয়ে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় নিজ বাড়িতে আত্মগোপন করে।

রিগ্যানের পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোন দীর্ঘসময় বন্ধ পেয়ে ও অনেক খোঁজ করে সন্ধান না পাওয়ায় ভাটারা থানায় এজাহার দায়ের করেন। পরে থানা পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে রিগ্যানের মোবাইল ফোনের নাম্বার ও কল বিশ্লেষণ করে জীবনের বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন আলো রোজারিও আটককৃত বাবা ও মেয়েসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ওসি মুক্তারুজ্জামান জানান, ধারণা করা হচ্ছে রিগ্যানের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার প্রেমের সম্পর্ক ছিল; যা তার বাবা জীবন গমেজ মেনে নিতে পারেননি। মেয়ের কাছ থেকে সরে যাওয়ার জন্য বাবা জীবন গমেজ প্রেমিক রিগ্যানকে কৌশলে ডেকে নিয়ে মদপান করিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে তারা কী করবে ভেবে না পেয়ে বাসা তালা দিয়ে আত্মগোপন করে। বিষয়টি এমনই না অন্য কিছু তা উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলেও তিনি জানান।