মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন কিনা, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

178

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন কিনা, জানতে চেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমি খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, আপনি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন কিনা তা প্রমাণ করতে হবে। আপনি আজকে যে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন এই মন্ত্রণালয়ে সৃষ্টি করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি সৃষ্টি করেছিলো। আজকে মুক্তিযোদ্ধাদের আপনি অপমান করছেন। তার জন্য আপনাকে অবশ্যই জাতির সামনে জবাবদিহি করতে হবে।’জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সোমবার (৩০ আগস্ট) রাতে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

এসময় ফখরুল বলেন, আজকে দুই অসুর শক্তি বাংলাদেশের ওপরে চেপে বসেছে। একটি হচ্ছে করোনা, আরেকটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ আমাদের সমস্ত শুভ অর্জনগুলো, যে ভালো জিনিসগুলো অর্জন করেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, স্বাধীনতা-গণতন্ত্র এগুলোকে তারা অসুরের মতো ধলে-পিষে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ এমন একটা অবস্থা তৈরি করেছে যেখানে কোনো সুস্থ অবস্থা বিরাজ করতে পারছে না। মানুষকে হত্যা-গুম-খুন-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি আওয়ামী লীগ এখানে সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, এই অসুরকে পরাজিত করতে হবে, আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে বলে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা। আজকে তারা দুর্ভাগ্যজনকভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর সম্পত্তি দখল করে আছে, তাদের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে বিনষ্ট করেছে, তাদের প্রতি অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এখনো সেই একই কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করেছে, আজকে ক্ষমতা জোর করে দখলে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করেছে শুধু আজকে নয় সেই ১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত একই কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা পাঠ করেন রাজধানীর স্বামীবাগের ইসকনের শ্রীমান তেজো গোবিন্দ দাস ব্রম্মাচারী। হিন্দু-বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও অমলেন্দ্র দাস অপুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কুন্ড, অর্পনা রায় দাস, নিপুণ রায় চৌধুরী, কামাক্ষা চন্দ্র দাস, তরুন দে, জয়দেব রায় ও পার্থ দেব মন্ডল এবং রামকৃষ্ণ মিশনের কালী কৃষ্ণানন্দা মহারাজ বক্তব্য রাখেন।