১২ সেপ্টেম্বরের পরও খুলছে না যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | Purboposhchimbd|

98

পর অবশেষে খুলতে যাচ্ছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও কলেজ। তবে ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, আশা করছি, ১২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারব। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে আমরা বসব। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের।

তিনি বলেন, আমরা তাদের সাথে আবারও কথা বলব। তারা চাইলে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দিতে পারেন। আবার চাইলে আলাদা তারিখও নির্ধারণ করতে পারেন।

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফদতরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকও বলছেন, ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত হলেও এখনই পুরোপুরিভাবে দেশের সব স্কুল-কলেজ চালু করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, জেলার অনেক বিদ্যালয়ে এখনও অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ সমস্যাগুলো তারা দূর করতে পারবেন।
এর আগে ২৬ আগস্ট করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘তবে এর আগে টিকা সংক্রান্ত তথ্য সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছক আকারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠাতে হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয় শতভাগ টিকার আওতায় আসবে, সে বিশ্ববিদ্যালয় হলসহ সব কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

এদিকে স্কুল কলেজ খুলে দেওয়া হলে শুরুর দিকে সপ্তাহে একদিন করে ক্লাস নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। তবে প্রয়োজনে এটি আরো বাড়ানো হতে পারে।
শনিবার শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আমরা আশা করছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী যে সুনির্দিষ্ট তারিখ দিয়েছেন তারপর থেকে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে ক্লাস শুরু করতে পারবো। প্রাথমিকভাবে একদিন করে ক্লাস নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছি। এটি সংক্রমণ হার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা করবো। তবে সেটা পরিবর্তন হতে পারে। প্রয়োজনে হয়তো আরও বেশি দিন করা হতে পারে। তবে এ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

উপমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও করোনার সংক্রমণও যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেদিকে আমাদের বিশেষ লক্ষ্য থাকবে। যদিও এখন করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে, স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর খুব বেশি চাপ নেই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কারণে সেটা (সংক্রমণ) যাতে আবার বেড়ে না যায়, সেটাও আমাদের দেখতে হবে।
স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণের কারণে দেড় বছর আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর বিশেষ মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় অনলাইনে, অফলাইনে ও টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করেছি। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাসহ সব পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। আমরা চাই যে, আমাদের ছাত্রছাত্রীদের যে ক্ষতিটা হয়েছে, সেটা যাতে দ্রুত পুষিয়ে নিতে পারি।

উপমন্ত্রী আরো বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে শারীরিক উপস্থিতির মধ্যে নেওয়ার যে প্রচেষ্টা আছে সেটা অব্যাহত থাকবে। এটাই আমাদের আপাতত লক্ষ্য। অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলবে। আর ভবিষ্যতে পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় আমরা নতুন একটা সিলেবাস দাঁড় করানোর রূপরেখা নিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পর নতুন সিলেবাস আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব।