এহসান গ্রুপ ও হাফিজুর রহমান সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

248

পিরোজপুরের এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে। গ্রুপটির বিরুদ্ধে ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছে গ্রাহকরা। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে গ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি রাগীব আহসান ও তার সহযোগীদের।
গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের মামলায় চেয়ারম্যান রাগীব আহসানসহ তার চার ভাইয়ের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ম. মহিউদ্দিন আসামিদের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ নানা মাধ্যমে ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এহসান গ্রুপে টাকা বিনিয়োগ করতে গ্রাহকদের উদ্বোধ্য করতে দেশের নামি-দামি আলেমদের ব্যবহার করেন মুফতি রাগীব আহসান। তার প্রমাণও মিলেছে। ওয়াজ মাহফিলে এহসান গ্রুপ কে নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিক। এহসান গ্রুপকে সমর্থন করে দেয়া তার বক্তব্যের ভিডিও এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।
মূলত গ্রাহকদের এহসান গ্রুপে বিনিয়োগ করতে নানা ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিক। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিকে বলতে শোনা যায়, ‘এহসান গ্রুপকে নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ নেই’।

সম্প্রতি একটি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেছিল এহসান গ্রুপ পিরোজপুর। সেই মাহফিলে ওয়াজ করেছিলেন হাফিজুর রহমান সিদ্দিক। সেখানে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘জনসাধারণের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এই ‘এহসান গ্রুপ পিরোজপুর-বাংলাদেশ’। এই গ্রুপকে নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ নেই। এরপরও অনেকে গ্রুপকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করবে। তাদের মন্তব্য নিয়ে আমরা সময় নষ্ট করতে রাজি না।’
এহসান গ্রুপের সুদবিহীন ব্যবসার প্রসঙ্গ তুলে এই হুজুর বলেছিলেন, ‘গুনাহের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে সুদ খাওয়া। আর এই গুনাহ থেকে হেফাজতের জন্য আমার বন্ধু মুফতি রাগীব আহসান এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। এহসান গ্রুপ শুধু পিরোজপুরের জন্য নয়, গোটা জগতের জন্য রহমত।’

তখন তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমি নিজে এহসান পরিবারের একজন সদস্য।’
এসব বিষয়ে জানতে ফেস দ্যা পিপল থেকে কয়েক দফায় মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে কল করেও কোন সারা পাওয়া যায়নি। ফোন নম্বরে কল করলে নাম্বারটি ব্যস্ত আছে বলে জানানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে কল করলেও একই জবাব আসে। এছাড়া তাকে ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠালেও তিনি প্রতিউত্তর করেননি।

এহসান গ্রুপের প্রতারণা এবং মাহফিলে ওয়াজ করে এহসান গ্রুপের হয়ে বক্তব্য দেয়া পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিক সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় দেশের বিশিষ্ট ইসলামিক ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ’র কাছে। তবে তিনি এ বিষয়ে ফেস দ্যা পিপলের কাছে কোন মন্তব্য করতে চান নি। তিনি বলেন, আমি এহসান গ্রুপের ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ পাবার আগে কখনই এই গ্রুপের নাম শুনিনি। এই গ্রুপ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। এদের সম্পর্কে না জেনে বক্তব্য দেয়া ঠিক হবে না।

আলেমরা যখন কিছু বলে সাধারণ মানুষ তা বিশ্বাস করে। সেই আলেমদের দেখানো একটা কোম্পানি যখন মানুষের সাথে প্রতারণা করে তাহলে কি সেটা গোটা আলেমসমাজকে কলংকিত করে কিনা? এ বিষয়ে জানতে চাইলে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আলেম সমাজ সম্পর্কে বা তাদের উদ্দেশ্যে আমি বক্তব্য দিতে পারবো না। এ বিষয়ে সিনিয়র যারা আলেম রয়েছে তারা বক্তব্য দিতে পারবেন।

‘এহসান গ্রুপ শুধু পিরোজপুরের জন্য নয়, গোটা জগতের জন্য রহমত’ হাফিজুর রহমানের এমন বক্তব্যের বিষয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এহসান গ্রুপের কথা তো বাংলাদেশের মানুষই জানে না। তাহলে গোটা জগতের রহমত হবে কিভাবে?
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর শাহাবাগ থানার তোপখানা রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি রাগীব আহসান (৪১) ও তার সহযোগী মো. আবুল বাশার খানকে (৩৭) গ্রেফতার করে র‍্যাব। এর আগে ওইদিন বিকেলে সদর উপজেলার খলিশাখালী এলাকা থেকে মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মো. খাইরুল বাশারকে গ্রেফতার করে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ।

তার আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে লক্ষাধিক গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়। গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
২০১৯ সালে রাতের আঁধারে শের-ই-বাংলা পাবলিক লাইব্রেরির চতুর্থ তলায় এহসান গ্রুপের প্রধান কার্যালয় তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, অফিস বন্ধের আগেই প্রতিষ্ঠানটি তাদের সব ডকুমেন্ট সরিয়ে ফেলে।