প্রতারক রোজী নিজেকে প্রমাণ করতে কি না করত!

88

উম্মে ফাতেমা রোজী (৩৫) নিজেকে বড় কিছু প্রমাণ করতে কি না করত! তার অ্যাকাউন্টে ৮ হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার পরে রয়েছে বলে একটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট জাল তৈরী করে বিভিন্ন সময় ভিকটিমদের পাঠাত।
এছাড়াও অনেক সময় রোজী অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিতেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছ থেকে পুরস্কৃত হওয়ার ভুয়া ছবি ভুক্তভোগীদের দেখাতেন। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনমন্ত্রী এলেক্স হাউকির সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও সে জানাত।

রোববার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগের সিআইডি হেড কোয়ার্টাসে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬) ও সাইমুন ইসলাম (২৬)। এসময় তাদের কাছ থেকে জাল ভিসা প্রস্তুত কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার, ৭টি অস্ট্রেলিয়ার জাল ভিসা গ্রান্ট নোটিশ, ফ্রি চিকিৎসার জন্য পাঁচটি হেলথ মেডিকেয়ার কার্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার বিমানের ছয়টি টিকিট জব্দ করা হয়।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশের কিছু ধনী পরিবারকে টার্গেট করে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলতেন তারা। সেই সম্পর্কের লাগাম ধরেই শুরু হয় বাংলাদেশ থেকে কম খরচে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ভিসা ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
ডিআইজি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ান রিলেটিভ স্পনসর মাইগ্রেশন (৮৩৫) পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট জাল ভিসা প্রস্তুত করে নিরীহ মানুষকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে এবং আত্মীয়ের ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখান। এক পর্যায়ে সে সপরিবারে গেলে (স্বামী-স্ত্রী) ২৩ লাখ আর একা গেলে ১৮ লাখের প্যাকেজ অফার দেন।

অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে একাধিক বাংলাদেশী তার কাছে প্রতারাণ ফাঁদে পড়েছে বলে অভিযোগ আছে। চক্রটির মূলহোতা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রোজীকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বস দেন সিআইডির এই কর্মকর্তা।