৮০ বছর বয়সেও বৃদ্ধ আমিন মিয়ার জীবনচাকা রিকশার প্যাডেলে

80

বয়স ৮০ পেরিয়েছে, তবুও তিন চাকার বাহন রিকশা নিয়ে তার অবিরাম ছুটে চলা। বলছি, মো. আমিন মিয়ার কথা। স্থায়ী বাসস্থান নেই বলে পরিবার নিয়ে থাকেন বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে। কিন্তু তার আর ওপারে যাওয়া হয় না। কখনও রাস্তার পাশে, পার্কের বেঞ্চিতে কিংবা মসজিদের বারান্দায় রাত কাটে। লাঠি ভর করে হাঁটতে কষ্ট হলেও রিকশা নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে ঠিকই অবিরাম ছুটে চলছেন আমিন মিয়া।

রাজধানীর পুরান ঢাকার অলিগলি, গুলিস্তান, পল্টন কিংবা বেইলি রোডে আমিন মিয়ার দেখা মেলে। বয়সের ভারে পথচলা কঠিন হলেও পৃথিবীতে টিকে থাকার লড়াইয়ে থেমে নেই এই বৃদ্ধ। যে বয়সে একজন মানুষের অবসর সময় কাটানোর কথা, সেখানে উত্তপ্ত রোদ অথবা বৃষ্টির মাঝেই রিকশা নিয়ে ছুটে চলেন পথে প্রান্তরে। সাধারণ মানুষেরাও তার এই পথচলাকে সহানুভূতি ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।

রকিবুল ইসলাম নামের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, এই বৃদ্ধ চাচাকে প্রায় সময় রিকশা নিয়ে ঘুরতে দেখি। তবে উনার রিকশায় কোনও যাত্রী উঠতে দেখি না। একদিন কিছু টাকা দিতে চাইলেও নিতে চাননি। পরে এমনিতেই রিকশায় উঠে ভাড়া দিয়েছি। এই চাচাকে প্রতিদিনই কেউ না কেউ সহযোগিতা করেন।

আমিন মিয়া পঞ্চাশের পর থেকেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রিকশা নিয়ে চলাফেরা করতে তার বেশ কষ্ট হয়। মাঝেমধ্যে শরীরে খিঁচুনি দিলে দাঁড়িয়ে থাকতেও পারে না। তবুও সংসার চালাতে এই বয়সে প্রতিদিন বের হওয়া লাগে।

তার পরিবারে দুই ছেলে থাকার কথা স্বীকার করলেও তাদের সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে চাননি আমিন মিয়া। চাপা কণ্ঠে তাদের কথা এড়িয়ে যান। বলেন, যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছে, আমার থেকেও কেউ নেই। তবে আল্লাহর রহমতে ভালই কাটছে সময়। রিকশা চালিয়ে প্রতিদিন দুই থেকে তিন শ’ টাকা আয় হয়। তাতেই দিন চলে।

তিনি আরও বলেন, মানুষ আমাকে যথেষ্ট সাহায্য সহযোগিতা করে। আমার রিকশায় তেমন কেউ উঠে না। অনেকে রিকশায় না উঠেও ভাড়া দিয়ে দেয়। আবার কেউ কেউ খারাপ ব্যবহারও করে। ভিক্ষা চাইতে লজ্জা লাগে তাই রিকশা চালাই। তাছাড়া আমাদের নবী ভিক্ষা করতে নিষেধ করেছেন।