সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নাম দিয়ে এমপি হইনি: মতিয়া চৌধুরী

142

‘আমি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নাম দিয়ে এমপি হইনি, মানুষের জন্য কাজ করে এমপি হয়েছি’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করে ভোট নেবো। এটাই জনসেবা, এটাই আমাদের রাজনীতি। আমি নকলা-নালিতাবাড়ীর মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে ও ধানের জমি নষ্ট করে রেললাইন করতে দিতে পারি না। মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি হতে পারে না। যদি পারেন নকলা-নালিতাবাড়ীর জায়গা বাদ দিয়ে অন্যদিক দিয়ে রেললাইন নিন। দুষ্ট লোকের মিষ্ট কথায় আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। আপনাদের ভালোর জন্য এ পর্যন্ত কাজ করেছি, আগামীতেও করবো।’

সোমবার (১১ অক্টোবর) বিকালে শেরপুরের নকলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে মুজিব শতবর্ষ মঞ্চে ৪৯ মাধ্যমিক স্কুল ও দাখিল মাদরাসার সেরা ১০ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের আর্থিক প্রণোদনা, মসজিদ, গোরস্থান, মন্দির, গির্জা, শ্মশানের উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য অনুদানের চেক বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘কফিনে জিয়াউর রহমানের মুখ তারেক-কোকো ও বেগম জিয়া কেউ দেখেনি। পচা-গলা হোক, ব্রাশফায়ার করা হোক, বাবার লাশ সন্তান দেখবে এটা তার অধিকার। কিন্তু জিয়ার মৃত্যুর পর তার মুখ কেউ দেখেনি। কফিনে জিয়ার দেহ থাকলে সবাই দেখতো। সত্য চিরকাল সত্য। তা একসময় প্রকাশিত হয়। আর মিথ্যা সবসময় মিথ্যা। দীর্ঘদিন পর হলেও দেশের মানুষ সত্য জানতে পারছে।’

তিনি বলেন, ‘এতিমের টাকা চুরি করার দায়ে বেগম জিয়া জেল খাটছেন। তিনি বাড়ির কাজের লোককে জেলে নিয়ে তার সেবা করাচ্ছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত কেউ দেখাতে পারবে না যে সাজাপ্রাপ্ত আসামি কারাগারে কাজের লোক নিয়ে যেতে পারেন। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। কাজেই শেখ হাসিনা সম্পর্কে কটু কথা বলার আগে বিএনপির চিন্তা করে কথা বলা উচিত।’
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোছা. আম্বিয়া খাতুন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরকার, দফতর সম্পাদক খলিলুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইসকান্দর হাবিব, আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সোহেলসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মতিয়া চৌধুরী নকলা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার টিআর ও কাবিটা কর্মসূচি থেকে ৫৫২, ঐচ্ছিক তহবিলের ২০, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া ১৪টিসহ মোট ৫৮৬টি মসজিদ, গোরস্থান, মন্দির, গির্জা, শ্মশানের উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য অনুদানের চেক এবং ৪৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির সেরা ১০ এসএসসি পরীক্ষার্থীর মাঝে আর্থিক প্রণোদনার চেক বিতরণ করেন।
পিপি/জেআর