‘টাকা নিয়ে কমিটি’, সিলেট ছাত্রলীগে তোলপাড়

51

সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে একটি পক্ষ। তাদের দাবি টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে। এই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন সিলেট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ।
মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নগরীর তালতলার তেলিহাওর এলাকা থেকে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

চার বছর পর মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) ঘোষণা করা হয় সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে নাজমুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাহেল সিরাজ নেতৃত্বে আসেন।
সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি হন কিশওয়ার জাহান সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ। পাশাপাশি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত ছাত্রলীগের প্যাডে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে হোসাইন মোহাম্মদ সাগর ও সঞ্জয় পাশী জয়ের নাম উল্লেখ করা হয়।

জেলা কমিটির সঙ্গে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান, বিপ্লব কান্তি দাস, মুহিবুর রহমান মুহিব, কনক পাল অরূপের নাম ঘোষণা করা হয়।
কমিটি ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক কেন্দ্রীয় সদস্যদের মধ্যে মুহিবুর রহমান ও জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান পদত্যাগের ঘোষণা দেন। নগরীর তেলিহাওর গ্রুপ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সেখানে তারা অর্থের বিনিময়ে কমিটি দেওয়ার অভিযোগ করেন। এ সময় টায়ার জ্বালিয় বিক্ষোভ করেন মিছিলকারীরা।

অন্যদিকে নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়েও মিছিল করেছে একটি পক্ষ। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার আগে বরাবরই বিবদমান কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে পদ ভাগাভাগি হয়। এসব গ্রুপের নেপথ্যে রয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তামন প্রভাবশালী কয়েক নেতা। যারা অতীতে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছিলেন। কমিটি ঘোষণার আগে ভাগভাটোয়ারা হয় এবারো। তবে তালতলার তেলিহাওর গ্রুপ কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব পায়নি। ঐ গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ। কমিটি ঘোষণার পরপরই তিনি বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

মিছিলে নেতৃত্বদানকারী সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ বলেন, ‘জেলা ও মহানগর কমিটির শীর্ষ চারটি পদ ৩০ লাখ করে ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যাদের পদ দেয়া হয়েছে তারা কোনো ছোট গাড়িস্ট্যান্ডের কমিটি পরিচালনারও যোগ্যতা রাখেন না। এ ছাড়া তারা অছাত্র।’
কমিটিতে যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়নি এবং জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ প্রত্যাখ্যান করা জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান বলেন, ছাত্রলীগের যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে এর মধ্যে পদ পেয়েছেন অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি, ব্যবসায়ী, ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নন এমন মানুষও পদ পেয়েছেন। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে সিলেটে রাজনীতি থেকে এখন অপ রাজনীতি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই আমার মতো কর্মীদের মূল্যায়ন থাকে না। সঠিক মূল্যায়ন না পেলে প্রত্যাখ্যান করার ছাড়া বিকল্প কোন উপায় থাকে না। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারি আমাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। কিন্তু আমি জেলার রাজনীতির সাথে জড়িত। কেন্দ্রীয় রাজনীতির কিছুতে আমার অংশগ্রহণ নেই। তাই আমি সে কমিটির সদস্য পদ প্রত্যাখ্যান করি। পদ প্রত্যাখ্যান করলেও সুষ্ঠু রাজনীতি যেহেতু করবো সহযোদ্ধাদের সাথে দেখা হবে রাজপথে।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সবশেষ কমিটি গঠন করা হয় ২০১৪ সালে। নানা বিতর্ক ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের অক্টোবরে এ কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। একইভাবে কমিটিহীন অবস্থায় ছিলো সিলেট মহানগর ছাত্রলীগও। সংগঠনের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয় ২০১৫ সালে। জেলা কমিটির মতোই মহানগর কমিটিও নানা অভিযোগে ২০১৮ সালের অক্টোবরে বিলুপ্ত করা হয়। এরপর তিন বছরে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও গঠিত হয়নি নতুন কমিটি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে ৪ বছর পর মঙ্গলবার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটি নিয়ে এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।