আমার কলমের দাম ১০ কোটি, ঘড়ির দাম ৮ কোটি ও জুতার দাম ১০ কোটি: মুসা বিন শমসের

360

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে মুসা বিন শমসের দাবি করেছেন, তার কলমের দাম ১০ কোটি, ঘড়ির দাম ৮ কোটি ও জুতার দাম ১০ কোটি টাকা।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে ব্রিফিংকালে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার হারুন-অর-রশীদ এ কথা জানান।
মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) মুসা বিন শমসেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে ডিবি কার্যালয়ের গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, উনাকে (মুসা) আমাদের রহস্যময় মানুষ মনে হয়েছে। আমরা তাকে বলেছি, সুইস ব্যাংকে আপনার ৮২ মিলিয়ন ডলার আছে অথচ আপনার কাগজ থাকে আব্দুল কাদেরের অফিসে?

হারুন-অর-রশীদ বলেন, এ প্রশ্নের জবাবে মুসা জানান, তার কলমের দাম ১০ কোটি, জুতার দাম ১০ কোটি, ঘড়ির দাম ৮ কোটি টাকা। সুইস ব্যাংক থেকে তিনি ৮২ মিলিয়ন ডলার পেলে পুলিশকে ৫০০ কোটি টাকা, দুদকের বিল্ডিং করে দেবেন এবং দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করে দেবেন।

ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, প্রতারক আব্দুল কাদের একজন নাইন পাস লোক, তাকে মুসা বিন শমসের উপদেষ্টা বানালেন কেন? ২০ কোটি টাকার চেক দিলেন কেন? উনি (মুসা) বলেছেন, লাভ দেবে। কিন্তু উদ্দেশ্য আমরা জানি না। মুসা সাহেব দেখেছেন, আব্দুল কাদের বড় বড় লোকের সঙ্গে কথা বলেন। বাস্তবে এই কাদেরের সঙ্গে তার অনেক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ‘বাবা’ ‘সোনা’ নামে ডাকেন। ছেলের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, তিনি (মুসা বিন শমসের) কী টাইপের মানুষ আমরা বুঝি না। তবে তিনি দায় এড়াতে পারেন না। তার সঙ্গে ভুয়া অতিরিক্ত সচিব আব্দুল কাদের মাঝির যে সম্পর্ক এর দায় তিনি এড়াতে পারবেন না। কারণ তার সঙ্গে কাদের মাঝির যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক, তা দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে কাদের মাঝি ঠকিয়েছেন। আব্দুল কাদের মাঝি বলেছেন, তার সঙ্গে আইজিপিসহ বড় বড় মানুষের সম্পর্ক আছে। কিন্তু তার তো (মুসা বিন শমসের) জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি এগুলো জিজ্ঞাসা করেননি। আব্দুল কাদের মাঝির সঙ্গে উনার একটা যোগসূত্র রয়েছে।

ডিবির এই যুগ্ম-কমিশনার বলেন, মুসা বিন শমসেরের দাবি তিনি নিজে প্রতারিত হয়েছেন। তিনি নিজেও আব্দুল কাদেরে বিরুদ্ধে মামলা করবেন। আমরা সবকিছু তদন্ত করছি। আমরা যেটা করার দরকার সেটাই করবো। তিনি মামলা করলে সেটাও আমরা তদন্ত করবো।

‘আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি (মুসা বিন শমসের) অন্তঃসারশূন্য একজন মানুষ। একটা ভুয়া লোক মনে হয়েছে। তার কিচ্ছু নেই। তার একটা বাড়ি রয়েছে গুলশানে। সেটাও স্ত্রীর নামে। বাংলাদেশে তার নামে আর কিছু পাইনি। তবে তিনি মুখরোচক গল্প বলেন। মুসা বিন শমসের আমাদের কাছে দাবি করেছেন, এদেশে যা উন্নয়ন হয়েছে সব তার অবদান। তার সঙ্গে আর কী কথা বলব? তিনি খামখেয়ালি কথা বলেছেন। এ কথাগুলো আব্দুল কাদের মাঝি বিক্রি করেছেন।’

মুসা বিন শমসেরের বডিগার্ড প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হারুন বলেন, আমরা বলে দিয়েছিলাম, এটার ভেতরে কোনো বডিগার্ড নিয়ে আসা যাবে না। তার যে বাস্তব অবস্থা এখন দেখলাম তিনি অন্তঃসারশূন্য। কোনো কিছুই নেই তার।