ত্রিভুজ প্রেমের বিরোধে কলেজছাত্র খুনের রহস্য উম্মোচন

59

গাজীপুরে ত্রিভুজ প্রেমের বিরোধের জেরে পথের কাঁটা দূর করতে কলেজছাত্র প্রেমিককে মারধর করে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে প্রেমিকা ও তার অপর প্রেমিকসহ তাদের বন্ধুরা। চাঞ্চল্যকর এ খুনের ঘটনার প্রায় এক বছর পর রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ক্লুলেস এ হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে গাজীপুর পিবিআই’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতের নাম- তানহা জুবায়ের (২৫)। তিনি ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন বাড়ইপাড়া এলাকার মৃত শাহ আলম স্বর্ণকারের ছেলে।

পিবিআই’র ওই কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন তেঁতুইবাড়ী এলাকার ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি. (চ্যানেল আই) এর বাংলোর সামনের সড়কের উপর থেকে কলেজছাত্র হাবিবুল বাশার জয়কে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে এলাকাবাসী। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন কবিরপুর এলাকার রহিজ উদ্দিনের ছেলে হাবিবুল বাশার জয় (২০) স্থানীয় আব্দুল মান্নান ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই এজাহারনামীয় দুজন ও অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জন আসামির বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় এজাহার দায়ের করেন। প্রায় দুই মাস মামলাটি তদন্ত করে। মামলাটির প্রায় দুই মাস তদন্তকালে কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পরে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের নির্দেশে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস এই হত্যার মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় গাজীপুরের পিবিআইকে। পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত তানহা জুবায়েরকে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে মঙ্গলবার ভোররাতে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তিনি নিজেকে জড়িয়ে এবং মামলার ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামিদের নাম উল্লেখ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এরপ্রেক্ষিতে ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

তিনি আরো জানান, গত বছর করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোচিংয়ে ক্লাস করতে গিয়ে কলেজছাত্র হাবিবুল বাশার জয়ের সাথে স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী নিলুফা ইয়াসমিন ঝুমুরের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রধরে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিছু দিন পর ঝুমুর রাজধানীর একটি বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র সজিব হোসেনের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে জয়ের সাথে ঝুমুরের বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে ঝুমুরের অপর প্রেমিক সজীব ও তার বন্ধুদের নিয়ে জয়কে মারধর করার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে সহযোগীদের নিয়ে ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে উঠে সজিব। পথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কবিরপুর থেকে ঝুমুরকে একই বাসে উঠায় সজিব। এ সময় ঝুমুরের পিছু নিয়ে একই বাসে উঠে জয়। বাসে জয়ের এক সিট আগে পাশাপাশি আসনে বসে সজিবের কাঁধে মাথা রাখে ঝুমুর। এ সময় তারা একে অপরকে ধরে বসে। এতে জয় উত্তেজিত হয়ে উঠলে তার সাথে সজিবের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় সজিবের সহযোগীরা জয়কে এলোপাথাড়িভাবে মারধর করে বাসের বাম পাশের পিছনের জানালা দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে তেঁতুইবাড়ী এলাকায় সড়কের উপর ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।