সরকারি গাছ বিক্রি করে হাজতে গেলেন আ. লীগের দুই নেতা

59

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাস্তার পাশের গাছ কেটে বিক্রির মামলায় জেল হাজতে গেলেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা।

উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম বকসী ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন গতকাল বুধবার (১৩ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালতের বিচারক মো. সাউদ হাসান শুনাননি শেষে তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান।

জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই নাজিম বকসী তাঁর দুই সহযোগী আলমগীর ও আরিফকে সঙ্গে নিয়ে হামিদুর রহমান ওরফে বাবু খানের কাছে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন মহদীনগর কুমের পার রাস্তার পাশের ২০টি মেহগনি গাছ। নাজিম বকসী ও তাঁর সহযোগীরা উপস্থিত থেকে গাছগুলো কেটে দেন। খবর পেয়ে আনাইতারা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সাহাদত হোসেন সরেজমিনে গাছ কাটার সত্যতা পেয়ে ১৯ জুলাই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন।

এ নিয়ে ২৬ জুলাই কালের কণ্ঠ অনলাইনে ‘সরকারি গাছ বেচে দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

গত ২৫ জুলাই হামিদুর রহমান ওরফে বাবু খানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠান মির্জাপুর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মজিবুর রহমান। হামিদুর রহমান ওই সময় আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকারের কাছে নাজিম বকসী ও আলমগীর হোসেন গাছ বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এদিকে নাজিম বকসী ও আলমগীর হোসেন উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। বুধবার তাঁরা টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালতের বিচারক মো. সাউদ হাসান শুনানি শেষে তাঁদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলায় সরকারি পক্ষের কৌশলী পিপি অ্যাডভোকেট মোতালেব মিয়া ও আনাইতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম তাঁদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।