‘আলেম সমাজকে বিভ্রান্ত করতে জামায়াত-বিএনপি-হেফাজত কোরআন অবমাননার ঘটনা ঘটিয়েছে’

300

কুমিল্লার ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে এটি ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির নেতারা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আগামীকাল জুমার নামাজ পর্যন্ত সময় (আলটিমেটাম) দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন। কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দলটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, ‘গতকাল কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা নাটক, ষড়যন্ত্র ও দেশের ভেতরে অশান্তি করার জন্য হয়েছে। দেশের ভেতরে কয়েকদিন আগে হেফাজত তাণ্ডব চালিয়েছিল। আরেকটি তাণ্ডব চালাতে এটি ঘটানো হয়েছে ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সরকারকে বিপদে ফেলতে, দেশে অশান্তি তৈরি করতে এটি করা হয়েছে।’

ইসমাইল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, আলেম সমাজকে বিভ্রান্ত করতে জামায়াত-বিএনপি-হেফাজত এই ষড়যন্ত্র করেছে। আগামীকাল (শুক্রবার) জুমার নামাজের আগে দ্রুত দোষীদের পরিচয় শনাক্ত করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় অনতিবিলম্বে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

আধাঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলটির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে মিছিল, মিটিং ও মানববন্ধন কর্মসূচি করা হবে। আগামীকাল জুমার নামাজের আগে এ ঘটনা স্পষ্ট না করা, দোষীদের গ্রেফতার না করা হলে আগামীকাল সকাল ১০টায় আলেম-ওলামারা বসে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সরকার সমর্থক দল হলেও আন্দোলনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলটির নেতারা বলেন, কোরআনের বিরুদ্ধে যদি কেউ ষড়যন্ত্র করে তাকে রাজপথে রুখে দেওয়া হবে, সে যেই হোক। সরকার যদি এ ঘটনা উদ্ঘাটন করতে না পারে তাহলে অবশ্যই আন্দোলন করা হবে।

সংগঠনটির সহ-সভাপতি আবদুস সাত্তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আজ রাতের মধ্যে যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসন এ ঘটনার বিহিত না করেন তাহলে কাল সারাদেশ অচল করে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে দলটির মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ওবাইদুল্লাহ ফারুকি, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ শোয়াইব, যুগ্ম-মহাসচিব ওমর ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।