Home / জাতীয় / ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অথিতি থেকে বাদ দেয়া হল শেখ হাসিনাকে

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অথিতি থেকে বাদ দেয়া হল শেখ হাসিনাকে

ভারতের আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে এ বছর প্রতিবেশী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা হলেও দিল্লি শেষ পর্যন্ত আবুধাবি আমিরাতের যুবরাজকেই বেছে নিয়েছে। শেখ হাসিনাকে সম্ভবত পরের বছরই এই আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

 
দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তিনটি নাম ভারতের বিবেচনায় ছিল- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। অনেক চিন্তাভাবনার পর আমিরাতের যুবরাজকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি তা গ্রহণও করেছেন।

 
দু’বছর আগে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি যে রাশিয়াকে ছেড়ে আমেরিকার দিকে ঝুঁকছে তার স্পষ্ট আভাস মিলেছিল তখনই।
এ বছর আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সকে আমন্ত্রণ জানানোর পেছনেও কাজ করেছে এক বিশেষ উদ্দেশ্য। সেটা হলো—পাকিস্তানের পুরনো মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ধীরে ধীরে ভারতের দিকে টেনে আনা।

 
এর জন্য গত পঞ্চাশ বছরের পুরনো একটা রেওয়াজে ব্যতিক্রম ঘটাতেও ভারত দ্বিধা করেনি। ১৯৬৫’র পর থেকে প্রতিবছরই ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন কোনও না কোনও রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান কিংবা কোনও দেশের রাজা বা সম্রাট। শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এর কোনোটাই না-হওয়া সত্ত্বেও এবারে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথির সম্মান পেয়েছেন।

 
পুরোনো ঐতিহ্যকে আঁকড়ে থাকলে এ বছরও এই সম্মান শেখ হাসিনা বা জাস্টিন ট্রুডোরই পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারত শেষ পর্যন্ত এ বছর পরম্পরার চেয়ে স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এমনকি শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান মাত্র কয়েকমাস আগেই ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফর করে গেছেন। তারপরও তাকেই আবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত সরকার।

 
শুধু তাই নয়, আমিরাতের যুবরাজের সফরের ঠিক আগে দিল্লিতে দু’দেশের মধ্যে একটি স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের জন্য আমিরাত ৭৫ বিলিয়ন ডলারের একটি অবকাঠামো তহবিল গঠন করেছে। কিভাবে সেই অর্থ খরচ করা যায়, তা নিয়ে সংলাপে বিশদ আলোচনা হবে। তা ছাড়া ২৬ জানুয়ারি দিল্লির রাজপথে যে সামরিক কুচকাওয়াজ হয়ে থাকে, তাতে প্রথমবারের মতো আমিরাতের সেনারাও অংশ নিয়ে তাদের কলাকৌশল প্রদর্শন করবেন।
সাউথ ব্লকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতেই ভারতে শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় সফর আয়োজন নিয়ে কথাবার্তা চলছে। সেক্ষেত্রে জানুয়ারির শেষে আরও একবার তার পক্ষে দিল্লিতে আসা অসুবিধাজনক হতো।’

Facebook Comments