কক্সবাজার ১৩০৯ পুলিশ কর্মকর্তা-সদস্যকে একযোগে বদলি

154

কক্সবাজার জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বদলির পর এবার আরও ১৩০৯ জন কর্মকর্তা ও সদস্যদের একযোগে বদলির আদেশ এসেছে।কক্সবাজারে নতুন যোগ দেওয়া পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন।তিনি বলেন, কক্সবাজার জেলা পুলিশের এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল মিলে ১৩০৯ জনের বদলির আদেশ এসেছে। পুলিশ সদর দপ্তর এবং পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট যারা থাকবেন, তাদেরও বদলির আদেশ আসবে বলে জানিয়েছেন এসপি হাসানুজ্জামান।

এই প্রসঙ্গে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, কক্সবাজার জেলা পুলিশকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে। এ জন্য কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করা শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সবাকেই বদলি করা হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের সূত্র মতে, শুক্রবার পর্যন্ত এই বদলির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৭ জনে। এর মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা, ৮ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)সহ ৩৪ জন পরিদর্শক, ১৫৮ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই), ৯২ জন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই), ১ হাজার ৫৫ জন নায়েক ও কনস্টেবল। সবাকেই চট্টগ্রাম রেঞ্জের বাইরে ভিন্ন রেঞ্জে বদলি করা হচ্ছে।এর আগে বৃহস্পতিবার বদলি করা হয় জেলার আট থানার ওসিসহ ৩৪ জন পরিদর্শককে।গত ২১ সেপ্টেম্বর বদলি করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহকারী পুলিশ সুপার সহ অপর ৭ শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বদলি হওয়া শূন্যপদ পূরণে শুক্রবার চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন আট থানার ওসিসহ ৩৭ জন পুলিশ পরিদর্শক, ৮৫ জন এসআই-এএসআই ও ৭৩৪ জন কনস্টেবল। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার জেলা পুলিশে সম্পূর্ণ নতুন জনবল যোগদান করবে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের এসপি এবি এম মাসুদ হোসেনকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়। আর ঝিনাইদহের এসপি মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নবাগত এসপি বুধবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার এসপি মাসুদ হোসেন কক্সবাজার থেকে বিদায় গ্রহণ করেন।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ রোডে বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব) সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের ঘটনার পর কক্সবাজার জেলা পুলিশকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে।

ওই ঘটনায় মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার দায়ের করা হত্যা মামলায় টেকনাফের বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকতসহ ১১ জন পুলিশ জেলহাজতে রয়েছে।