হত্যার একদিন পরও আবুর মরদেহ ফেরত দেয়নি বিএসএফ

8

রাজশাহী: রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে নিহত গরুর রাখাল নাশরাফ হোসেন আবুর (২৯) মরদেহ ফেরত পাওয়া যায়নি।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল পর্যন্ত মরদেহের জন্য অপেক্ষা করা হলেও মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) তা ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএসএফ। তবে বিজিবি বলছে, আবু মরদেহ ফেরত নিতে বিএসএফের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

নিহত আবু গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চরভুবনপাড়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে। একই দিন বিএসএফের গুলিতে মারা যান তার চাচাতো ভাই এছারুল ইসলাম ওরফে মিছুও (৩০)। মিছুর বাবার নাম আলাল উদ্দিন। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার সকালে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বাংলানিউজকে বলেন, নিহত মিছুর মরদেহ তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে সোমবার সকালে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখন আবুর মরদেহ পাওয়া গেলে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বিজিবির গোদাগাড়ীর ডিমসি সীমান্ত ফাঁড়ির কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফরিদ আহমেদ জানান, রোববার দুপুরে পৌনে ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমানার কোদালকাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর পিলারের কাছে এ নিয়ে বিজিবি-বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সোমবার বিকেল পর্যন্ত বিএসএফ মরদেহ ফেরত দেয়নি। তবে মঙ্গলবার ফেরত দিতে চেয়েছে।

এর আগে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে আবু ও মিছুসহ আরও কয়েকজন গরুর রাখাল ডিএমসি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কেটে ভারত থেকে গরু নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বরমতপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে গুলি করে।

গুলিতে কাঁটাতারের বেড়ার কাছেই মারা যান আবু। তবে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মিছু বাংলাদেশের ভেতরে পালিয়ে আসেন। পরে তার মৃত্যু হয়। এরপর নিহত মিছুর মরদেহ তার সহযোগীরা বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে আবুর মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।

বাংলাদেশ সময়: ২১৫০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭এসএস/আরআই