অভদ্রদের সাথে ভদ্রতা দেখিয়ে কী লাভ? :এম এ আরাফাত

291

মোহাম্মদ আলী আরাফাত: সরকারি দল আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গসংগঠনের কেউ অথবা সরাকারের ভিতরে কারো বিরুদ্ধে কোন একটি অভিযোগ আসলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকগোষ্ঠীরাই সবার আগে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং বিচার দাবি করে। সরকারও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের কূপমণ্ডূক-ধর্মান্ধ কর্মী বাহিনী তো আছেই, অভিযুক্ত ব্যক্তিটিকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম প্রচার-অপপ্রচার শুরু করে দেয়। সুশীলরাও মোটামুটি দেশ উচ্ছন্নে গেল বলে বিভিন্ন রকমারি ফেইসবুক স্ট্যাটাস প্রসব করতে থাকেন। আর টকশোতে বামাতিদের আলোচনার মধ্যে কোথা থেকে যেন অতিরিক্ত জীবনীশক্তি এসে হাজির হয়।

অথচ, আওয়ামী লীগের বিরোধী পক্ষের কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আসলে এবং সেই অভিযোগ যত জঘন্যই হোক না কেন, বিএনপি-জামায়াত ও দেশবিরোধী অপশক্তি একাট্টা হয়ে অভিযুক্তের পক্ষেই নির্লজ্জের মতো সাফাই গায়।

ছাত্রলীগের কিছু ছেলেরা আবরার ফাহাদকে পি’টিয়ে হ’ত্যা করার পর আওয়ামী লীগের সকল স্তরের সকল নেতা-কর্মী-সমর্থকগোষ্ঠী সবাই সেই জঘন্য হাত্যাকান্ডকে নিন্দা জানিয়েছে এবং বিচার চেয়েছে। সুশীল আর বামাতিরা তো গলা আর চোখ ভিজিয়ে একাকার করেছে। সরকার অভিযুক্তদের সকলকেই বিচারের আওতায় এনেছে, তারপরও বিএনপি-জামায়াত, পারলে ছাত্রলীগ পুরো সংগঠনকেই মৃত্যুদণ্ড দিতে চায়।

অন্যদিকে, বুয়েটের ছাত্র ছাত্রলীগের দ্বীপকে যখন শিবিরের সন্ত্রাসীরা জখম করলো এবং পরবর্তিতে তার মৃত্যু ঘটলো, বিএনপি-জামায়াতের একজনও কি সেই হ’ত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছিল? বিচার চাওয়া তো দূরের কথা! সুশীল আর বামাতিদের মুখ তো পুরো বন্ধই ছিল তখন।

কাজেই, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকগোষ্ঠী ভাই ও বোনেরা চলুন আমরাও আমাদের দলের পক্ষের কেউ কোন অন্যা’য় করলেও তাকে বা তাদেরকে একাট্টা হয়ে সমর্থন দিয়ে যাই। কি লাভ আমাদের এত ভালো মানুষী দেখিয়ে? চলুন আমরা আবরার হ’ত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছাত্রলীগের সকল কর্মীদের বিচার না চেয়ে মুক্তি চাই। আমাদের প্রতিপক্ষ তো এই বিচারকে স্বীকৃতিও দেয় না। তারা তো তাও বলতে থাকে, আওয়ামী লীগ সরকার নিজের দলের নাকি কারো বিচার করে না। তাহলে কি লাভ?

যেখানে আমাদের প্রতিপক্ষ এত নির্লজ্জ, নির্লজ্জের মত অভিযুক্ত ধর্ষক ও তার অভিযুক্ত পৃষ্ঠপোষকদের পক্ষ নেয়, অসভ্যের মত যু’দ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করে, সেখানে আমাদের এত ভদ্র হওয়ার কি মানে হয়? চলুন আমরা গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগের এবং এর অঙ্গসংগঠনের যত নেতা কর্মী বিভিন্ন অভিযোগে মা’মলা খাটছে, জেল খাটছে এবং সাজাপ্রাপ্ত তাদের সকলেরই মুক্তি চাই! ফেসবুক থেকে