মোদির মন পেতেই নির্বিচারে গুলি করে হত্যা: পিনাকি ভট্টাচার্য

646

কোরআনের অবমাননা হলে প্রতিবাদ করা আপনার সাংবিধানিক অধিকার এবং ধর্মীয় দায়িত্ব। কিন্তু সাবধান!আপনার অধিকার ও দায়ীত্ব রক্ষা করতে গিয়ে কি আপনি একই ভাবে অন্যের ধর্ম অবমাননা করে একই অপরাধে জড়াতে পারেন? একই ক্রাইম করতে পারেন? তাহলে অন্যের কাজকে অপরাধ বলবেন কীভাবে? এছাড়া, প্রতিবাদের অনুসঙ্গ হিসেবে হিন্দুদের মন্দিরে হামলা করাটা তো আরেক প্রতিহিংসা। প্রতিহিংসা ধ্বংসাত্মক, প্রতিহিংসা পালটা হিংসার জন্ম দেয়। সে শুধু অন্যপক্ষের ক্ষতি করেনা, প্রতিহিংসা সমানভাবে আপনারও ক্ষতি করে।

কুমিল্লার ঘটনা যদি ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন, হনুমানের কোলে কোরআন শরীফ কাউকে না কাউকে রাখতে হয়েছে। কিন্তু কোরান মন্দিরে পাওয়া গেছে বলে তা একমাত্র হিন্দুরাই করেছে এটা খুব ভাল বা শক্ত যুক্তি না বা ধরে নেওয়া সাফাই নয়। যে রেখেছে, তার সাধারণ উদ্দেশ্য ছিলো মুসলমান সম্প্রদায়কে ক্ষেপিয়ে দিয়ে হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের সময়ে হিন্দুদের মন্দিরে যেন হামলা করা হয়।
কিন্তু এতে কার লাভ? সরাসরি লাভ মোদির। সে তার হিন্দু ভোটারদের দেখাবে যে দেখো হিন্দুরা কত অনিরাপদ বাংলাদেশে, সে দেখাবে দেখো মুসলমানেরা কত খারাপ। মোদির ভোটের বাক্স উপচে পড়বে। হাসিনা দেখাবে, দেখো আমি কেমনে এদের সাইজ করি। কোন মাফ নাই, আমার কোন বিকল্প আছে? এর মধ্যেই তিনজন মারা গেছে গুলিতে। মোদির সন্মান রক্ষায় হাসিনা গনহত্যা চালায়ে ম্যালা পয়েন্ট আর্ন করছে, এইবারে আরো কিছু বোনাস পয়েন্ট আর্ন করবে।

আপনি কিন্তু ভুলে গেছেন, বাজারে আগুন। ভুলে গেছেন আপনার ভোটাধিকারই নাই, আপনি ভুলে গেছেন আপনি কথা কইতে পারেন না, আপনি ভুলে গেছেন দেশ আর দেশের সম্পদ লুটপাট হয়ে যাচ্ছে।
খাড়ান, আরো আছে। এরপরে মামলা হবে অজ্ঞাতনামাদের নামে, যেই কয়জন ইসলামপন্থী নেতা বাইরে আছে তাদের ওই মামলায় প্যাকেট করা হবে।
বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু মুসলমান সম্প্রদায়ের উচিৎ এই দুঃসময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব যেন নিরাপদে পালিত হয় সেই সুরক্ষা দেয়া। সে দায়ীত্ববান আচরণ করতে জানে। এভাবেই সকল শয়তানি প্রকল্পকে ঠেকিয়ে দেয়া সম্ভব।