ফেনসিডিলসহ গ্রে’প্তার ছাত্রলীগ নেতার মুক্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, তুলকালাম

329

ফেনসিডিলসহ গ্রে’প্তার হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহর (৩৫) মুক্তির দাবিতে বুধবার ঢাকা-সিলেট এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগের তার অনুসারীরা ও সমর্থকরা।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া মোড়ে সরাইল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ প্রত্যাশী ইশতিয়াক আহমেদ বাপ্পীর নেতৃত্বে একদল যুবক মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রলীগ নেতা ইশতিয়াক আহমেদ বাপ্পী বলেন, মাসুম বিল্লাহ ষ’ড়যন্ত্রের শিকার। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার বিচার দাবি জানান।
এদিকে মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে সরাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যানবাহন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

এদিকে একই দাবিতে বুধবার দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা মোড়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে মাসুম বিল্লাহর সমর্থকরা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে আধ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
এর আগে মাসুম বিল্লাহর মুক্তির দাবি ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার দাবিতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের চেষ্টা করে জেলা ছাত্রলীগের মাসুম বিল্লাহর অনুসারীরা। কিন্তু পুলিশি বাধার কারণে তারা মানববন্ধন করতে ব্যর্থ হন।

এদিকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রে’প্তারের পর ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের কারণে শহরের হাসপাতাল রোডসহ বিভিন্নস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আহমেদ বলেন, যারা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্নের সৃষ্টি করেছে তাদের খুঁজে বের করা হবে। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন বলেন, মাসুম বিল্লাহ ষ’ড়যন্ত্রের শিকার। তাকে আটক করে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকা থেকে ৬ বোতল ফেনসিডিলসহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে গ্রে’প্তার করে সরাইল থানা পুলিশ। এ সময় মাসুম বিল্লাহর সহযোগী মো. এনামুল হকও গ্রে’প্তার হন। পুলিশের অভিযোগ গ্রেপ্তারকালে পুলিশকে মা’রধর করে মাসুম ও এনামুল।

পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই মো. আলাউদ্দিন বাদী হয়ে মাসুম বিল্লাহ ও মো. এনামুল হকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে আরো একটি মামলা দায়ের করেন।
এর আগে পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগরে থানায় পৃথক ৩টি মামলা রয়েছে।
পূর্বপশ্চিমবিডি/জেআর

Loading...